ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ৪:০৪:১৯

অনুমোদন না থাকলেও অনেকের স্বস্তি ‘পাঠাও’

ওয়ারেছুন্নবী খন্দকার

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৪:৪২ পিএম, ৫ আগস্ট ২০১৭ শনিবার | আপডেট: ১০:২৫ পিএম, ৫ আগস্ট ২০১৭ শনিবার

অনুমোদন না থাকলেও গণপরিবহনের ভোগান্তি থেকে রাজধানীবাসীকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে ‘পাঠাও’ মোটরসাইকেল সেবা। অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ায় এবং কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে ‘পাঠাও’ সেবা অনেকের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে ঢাকা মেটোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এবং বিটিআরসি বলছে এদের কোনো অনুমোদন নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীতে আড়ালে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘পাঠাও’ সেবা। যাত্রীদের অধিকাংশই চাকুরিজীবী। তবে মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদেরও যাত্রী হিসেবে পান ‘পাঠাও’ সেবাদানকারীরা। অন্য পেশার লোকজনের কাছে এ সেবার খবর এখনও সেভাবে পৌঁছায়নি। পুরুষের পাশাপাশি রয়েছেন নারী যাত্রীরাও।

‘পাঠাও’ সেবাদানকারীদের মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষিত বেকার। কেউ পড়ালেখা শেষ করে চাকুরি খুঁজছেন, কেউবা মোটরসাইকেলে ঘুরতে ঘুরতে ভবিষ্যত পরিকল্পনা করছেন। তবে বাড়তি আয়ের এই পথ তাদের অনেকটা দুঃশ্চিন্তামুক্ত রেখেছে। বেকার জীবনে ‘পাঠাও’ সেবা তাদের কাছে অনেকটা আশীর্বাদের মতোই।

‘পাঠাও’ সেবা প্রদানকারী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এতে তারা হীনমন্যতায় ভোগেন না। বরং যাত্রীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কই হয়। অনেক যাত্রী ‘পাঠাও’ সেবাদানকারীদের কিছুটা হেয় প্রতিপন্ন করলেও তাদের সংখ্যা নগণ্য। বরং কম ভাড়ায় দ্রুত গন্তব্যস্থলে যেতে পেরে যাত্রীরা খুশি। আর যা ভাড়া পান তাতে বেশ চলে ‘পাঠাও’ সেবাদানকারীদের।

তাইতো যতদিন জজকোর্টে প্রাকটিস করার লাইসেন্স না পান ততদিন ‘পাঠাও’ সেবা দিয়ে যেতে চান ইহসানুল করিম।

তিনি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। মাঝে মাঝে মোটরসাইকেলটা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন রাস্তায়।

ট্রাফিক বিভাগ কিংবা বিটিআরসির অনুমোদন না থাকা সস্ত্বেও কেন এমন বেআইনী কাজ? ইহসানুল করিমের সহজ উত্তর, ‘ভাই প্রয়োজন আইন মানে না’।

সাধারণত সকাল আর বিকেলে যাত্রী থাকে বেশি। দুপুর সময় তুলনামূলক কম। তাই বিকেলে বের হন ইহসানুল করিম।

‘পাঠাও’ সেবা প্রদানকারী আরো অনেকের মন্তব্য একই রকম। তাদের কাছে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি বিশেষ করে ছিনতাইকারী কিংবা অপরাধচক্রের ফাঁদ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে এরকম কোনো সুযোগ নেই বলে তারা জানান। তাদের মতে, ‘পাঠাও’ অ্যাপসে রেজিষ্ট্রেশন করতে সেবা প্রদানকারীকে নাম, ন্যাশনাল আইডি কার্ড, ফোন নাম্বার, মোটরসাইকেলের রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার সব তথ্য দিতে হয়। অন্যদিকে সেবা গ্রহণকারীকেরও সব তথ্য দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করতে হয়। কারো বিরুদ্ধে কোনো অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে তা অ্যাপসের মাধ্যমে জানানোর সুযোগ রয়েছে। অভিযাগ পেলে ‘পাঠাও’য়ের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সিএনজি অটোরিক্সাওয়ালাদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে বাক-বিতণ্ডা ভালো লাগে না সিনিয়র সাংবাদিক আতিক রহমান পূর্ণিয়ার। তাইতো তিনি ‘পাঠাও’ সেবা নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট। ভাড়ার বিষয়টি অ্যাপসে নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে বলে জানান তিনি। কোথা থেকে কোথা যাওয়া হবে সে তথ্য অ্যাপসে দিলেই মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে ভাড়া উঠে যায়। ফলে এ নিয়ে কারো মধ্যে বিতণ্ডা হওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান ওই সাংবাদিক।

তবে সব আলোর নীচে রয়েছে আঁধার। সম্প্রতি এক নারী যাত্রীকে বিরক্ত করার কারণে ‘পাঠাও’য়ের এক চালককে বরখাস্ত (ব্যানড) করা হয়।

ফেসবুক পেজ ঘেটে দেখা যায়, ‘পাঠাও’ রাইডারদের সাধারণ একটি অভিযোগ হলো মোট ভাড়ার ২০ শতাংশ চার্জ হিসেবে ‘পাঠাও’ কেটে নেয়। ফলে যেসব মোটরবাইকের মাইলেজ কম তারা স্বভাবতই চার্জের এই হারে অখুশি। এক্ষেত্রে আমার মতো অনেক যাত্রীকেই রাইডারদের একটি কন্ডিশনের কথা শুনতে হয়। সেটা হলো, পাঠাও অ্যাপসের বদলে কন্ট্রাক্ট বেসিস যেতে হবে। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হলে অন্য রাইডার খুঁজতে বলেন।

এছাড়া অনেক চালক মাঝে মাঝে চাতুরিরও আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাত্রী উঠানোর পূর্বমুহূর্তে অনেক চালক বলেন, তার মোবাইলের ইন্টারনেট ডাটা বা চার্জ শেষ প্রায়। তাই যে ভাড়াটি অ্যাপসে প্রথমে শো করে সেটি থেকে ১০/২০ টাকা বাড়িয়ে দিতে হবে। অনেক চালক দেড় দুই কিলোমিটার যাওয়ার পর যাত্রীকে জানান তিনি ভুলবশত: অ্যাপস চালু করেননি অথবা মোবাইল হ্যাং করেছে। ফলে ভাড়া নিয়ে কিছুটা ঝামেলা করতে চান তিনি।

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঢু মেরে দেখা গেল সেখানে রয়েছে ‘পাঠাও’ সেবা প্রদানকারী এবং গ্রাহকদের কয়েকটি গ্রুপ। গ্রুপে অনেকে মন্তব্য করেছেন পক্ষে বিপক্ষে। অনেকে দীর্ঘক্ষণেও সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন আবার অনেকে কীভাবে কি করতে হবে জানতে চেয়েছেন।

‘পাঠাও’ সেবার ব্যাপারে তেমন কিছু অবহিত নন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ পশ্চিমের উপকমিশনার লিটন কুমার সাহা। তার মতে, এ ধরণের অভিযোগ তার দফতরে নেই। আর তার এলাকায় ‘পাঠাও’ কার্যক্রম নেই বলে জানালেন তিনি।

তবে ট্রাফিক দক্ষিণের ডিসি রিফাত রহমান শামীম ইটিভি অনলাইনকে বলেন, আমরা যখনি ‘পাঠাও’ মোটরসাইকেল ড্রাইভার পাচ্ছি মামলা দিচ্ছি। তার অঞ্চলের ট্রাফিক কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে সজাগ আছে বলে জানান তিনি। এ পর্যন্ত কতটা মামলা দেওয়া হয়েছে? জানতে চাইলে পরিসংখ্যান হাতে নেই বলে ইটিভি অনলাইনকে জানান।

‘পাঠাও’ সেবাকে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলে জানান বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) সচিব মুহাম্মদ শওকত আলী। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও ইটিভি অনলাইনকে জানান তিনি।

ডব্লিউএন

 

 


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি