ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১২:১৪:১১

অহিংস ধর্মে হিংসা ছড়ানো কে এই উইরাথু

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৪:৫২ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সোমবার | আপডেট: ০৯:২৫ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সোমবার

বলা হয়ে থাকে বৌদ্ধ ধর্ম অহিংসার ধর্ম। কিন্তু মিয়ানমারের রাখাইনে বর্তমানে যে সহিংস পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা বৌদ্ধ ধর্মের অহিংসা মতবাদকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আর এর সহিংসতার পেছনে যাকে সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হচ্ছে তিনি মিয়ানমারের  উগ্রপন্থী বৌদ্ধ ভিক্ষু আশ্বিন উইরাথু ।

মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত হিংসাত্মক বক্তব্য তুলে ধরার জন্য অনেকের কাছেই পরিচিত উগ্রপন্থী বৌদ্ধ ভিক্ষু আশ্বিন উইরাথু ।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিষয়ে বৌদ্ধদের মনে ভীতি ছড়ানোর জন্য তাকে অভিযুক্ত করা হয়।

রাখাইনে বিদ্যমান সহিংস পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে আহ্বান জানানোয় জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি-কে `বেশ্যা` বলে গালমন্দ করেছেন এ বৌদ্ধ ভিক্ষু আশ্বিন উইরাথু।

অথচ ১৫ বছর আগেও উইরাথু কারো কাছে পরিচিত ছিলেন না।

উইরাথু জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬৮ সালে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে ভিক্ষু হতে গিয়েছিলেন।

২০০১ সালে তিনি মুসলিম-বিরোধী এবং জাতীয়তাবাদী একটি গ্রুপ গঠন করেন, যার নাম ছিল ৯৬৯ গ্রুপ। এ সংগঠনটিকে উগ্রপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

যদিও উগ্রপন্থার বিষয়টি উইরাথুর সমর্থকরা বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।

২০০৩ সালে তাঁকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০১০ সালে অন্যান্য রাজবন্দীর সাথে তাঁকে মুক্তি দেয়া হয়।

এরপর সরকার নিয়ম শিথিল করলে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেন। তিনি ইউটিউব এবং ফেসবুকে তাঁর নানা ধরনের বক্তব্য ছড়াতে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁর ৩৭ হাজারের বেশি ফলোয়ার ছিল ।

২০১২ সালে রাখাইন রাজ্যে মুসলমান এবং বৌদ্ধদের মধ্যে যখন তীব্র সংঘাত শুরু হয়। সে সময় আশ্বিন উইরাথু তাঁর জ্বালাময়ী বক্তব্য নিয়ে জনসমক্ষে আসেন।

তাঁর একটি পরিচিত উক্তি ছিল, " তুমি যাই করো, সেটা একজন জাতীয়তাবাদী হিসেবে করবে।"

তাঁকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি `বার্মার বিন লাদেন` কি না? জবাবে মি. উইরাথু বলেছিলেন, এ বিষয়টি তিনি অস্বীকার করবেন না। বিভিন্ন জায়গায় তিনি বলেছেন, তিনি শান্তির জন্য কাজ করছেন।

২০১৩ সালের ১ জুলাই টাইম ম্যাগাজিন আশ্বিন উইরাথুকে নিয়ে একটি প্রচ্ছদ প্রতিবেদন করেছিল। সেটির শিরোনাম ছিল, "একজন বৌদ্ধ সন্ত্রাসীর মুখ"।

তাঁর বক্তব্য হিংসা ছড়িয়েছিল এবং সেগুলোর মূল টার্গেট ছিল রোহিঙ্গা মুসলমানরা।

রোহিঙ্গা মুসলমানদের তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরিত করার দাবি নিয়ে তিনি সমাবেশও করেছেন।

মুসলমানদের মধ্যে জন্মহার বেশি - এমন বক্তব্য প্রচার করেছেন আশ্বিন উইরাথু। তিনি অভিযোগ করেন, বৌদ্ধ নারীদের জোর করে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে।

অনেকে মনে করেন, আশ্বিন উইরাথুর বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে টার্গেট করা হবে।

তাছাড়া রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিকত্ব দেবার বিরুদ্ধে তিনি যেসব কথা বলতেন, সেগুলো ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিল।

এমনকি মিয়ানমারের অন্য অনেক বৌদ্ধ ভিক্ষু তাঁর বিষয়ে কোন কথা বলতে চান না।

যদিও ২০০৭ সালে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন।

আশ্বিন উইরাথু খুব দ্রুত বিশ্বের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেন বার্মার বৌদ্ধদের প্রতীক হিসেবে।

তবে তিনি বাস্তবে বার্মার সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধদের প্রতিনিধিত্ব করেন কি না সেটি নিয়ে বেশ সংশয় আছে।

প্রায় অর্ধ শতাব্দী সামরিক শাসনের পরে মিয়ানমারে এখন নিয়ন্ত্রিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

অনেকে মনে করেন, উগ্রপন্থী ভিক্ষু আশ্বিন উইরাথু রোহিঙ্গা বিরোধী যে মনোভাব দেখিয়েছেন সেটি মিয়ানমারের ভেতরে অনেকেরই মনের কথা।

সরকারের ভেতরে অনেকেই কূটনৈতিক কারণে রোহিঙ্গা বিরোধী কথা সেভাবে বলতে পারেন না।

ফলে মি. উইরাথু রোহিঙ্গা বিরোধী যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তাঁর পেছনে সরকারের সমর্থন রয়েছে।

মিয়ানমার সরকার জানিয়েছে, আশ্বিন উইরাথুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না পেলে তারা কোন পদক্ষেপ নিতে পারবে না। সূত্র : বিবিসি নিউজ।

ডব্লিউএন


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি