ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ৬:৪১:৫৬

আখের গুণাগুণ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৪:১৫ পিএম, ১৬ জুলাই ২০১৭ রবিবার | আপডেট: ০৯:১৩ পিএম, ১৮ জুলাই ২০১৭ মঙ্গলবার

রসালো আর মিষ্টি আখ খেতে ভালোবাসেন সবাই। আখের উপরের শক্ত আবরণ ছাড়িয়ে ভেতরের আঁশযুক্ত অংশ চিবিয়ে রস বের করে খেতে হয়। অনেকে মেশিনের সাহায্যে আখের রস বের করে খেয়ে থাকেন। তবে চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন আখ চিবিয়ে খাওয়ার। মিষ্টি এই আখের রসে রয়েছে বেশকিছু গুণাগুণ। আসুন জেনে নেই কি কি গুণ রয়েছে আখের রসে -

আখের রস গর্ভবতী নারীদের খাদ্য তালিকায় যুক্ত করলে উপকার পাওয়া যায়। এটি গর্ভধারণে সাহায্য ও নিরাপদ গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করে। আখের রসে প্রচুর ফলিক এসিড বা ভিটামিন বি ৯  থাকে যা স্পিনা বিফিডা এর মত জন্মগত ত্রুটি থেকে সুরক্ষা দেয়। এছাড়াও গবেষণায় জানা হয় যে, নারীর ডিম্বস্ফুটনের সমস্যা কমায় এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।

যদি আপনার দাঁত ক্ষয়ের পাশাপাশি নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধের সমস্যাও থাকে তাহলে আখের রস পান করাই হচ্ছে সবচেয়ে ভালো উপায়। আখের রসে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মতো খনিজ উপাদান থাকে যা দাঁতের এনামেল গঠনে সাহায্য করে। নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ পুষ্টির ঘাটতির কারণেও হতে পারে যা আখের রস পান করার মাধ্যমে তা পূরণ করা যায়। শিশুরা যদি আখ চিবিয়ে রস পান করে তাহলে দাঁতের সমস্যা কম হয়। আখের রসে ক্যালসিয়াম থাকে যা দাঁত ও হাড়ের শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

আখের রসের সাথে মুলতানি মাটি মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি মুখে ও ঘাড়ে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। তারপর ভেজা তোয়ালে দিয়ে মুখ ও ঘাড় মুছে পরিষ্কার করুন। সপ্তাহে একদিন এটি ব্যবহার করুন। ব্রণের সমস্যা দূর হবে। আখের রসে আলফা হাইড্রক্সি এসিড থাকে যা অনেকটা গ্লাইকলিক এসিডের মতোই কাজ করে। ত্বকের ছিদ্রগুলো বন্ধ হয়ে গেলে ব্রণের সৃষ্টি হয়। আখের রস ত্বককে এক্সফলিয়েট হতে সাহায্য করে এবং মরা চামড়ার জমার পরিমাণ কমায়।

যদি আপনি ডিহাইড্রেশনে ভুগে থাকেন তাহলে এক গ্লাস আখের রস পান করুন। কারণ আখের রস তাৎক্ষণিকভাবে এনার্জি প্রদানের সবচেয়ে ভালো উৎস। আখের রসে চিনি বা সুক্রোজ থাকে যা খুব সহজেই শরীরে শোষিত হয়। এই চিনি শরীরের হারিয়ে যাওয়া চিনির মাত্রাকে পুনরায় পূর্ণ করতে কাজে লাগে।

যকৃতের রোগ যেমন – জন্ডিস নিরাময়ে সবচেয়ে ভালো উপাদান হচ্ছে আখের রস। পিত্তরস জমে গেলে লিভারের কার্যকারিতা কমে যায় বলে জন্ডিস হয়। শরীরের গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রেখে দ্রুত রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে আখের রস।

আখের রস ক্ষারীয় প্রকৃতির হওয়ায় শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করায় সাহায্য করে। জন্ডিসে আক্রান্ত হলে প্রতিদিন দুই বেলা আখের রস পান করুন।

কেআই/ডব্লিউএন

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি