ঢাকা, বুধবার, ১৮ জুলাই, ২০১৮ ২২:৩৬:৫৭

Ekushey Television Ltd.

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস

শাওন সোলায়মান

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১২:১৮ এএম, ৮ মার্চ ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৯:৪৯ পিএম, ৮ মার্চ ২০১৮ বৃহস্পতিবার

আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ১৯৭৫ সাল থেকে প্রতি বছরের ন্যায় এ বারও বিশ্বব্যাপী পালন করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস।

এবারের নারী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বা স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে “সময় এখন নারীর : উন্নয়নে তারা, বদলে যাচ্ছে গ্রাম-শহরের কর্ম-জীবনধারা”।

নারী দিবসের রঙ নির্ধারিত হয়েছে বেগুনি এবং সাদা। এ রঙ ভেনাসের, যা নারীরও প্রতীক। বেগুনি রঙ নির্দেশ করে সুবিচার ও মর্যাদা, যা দৃঢ়ভাবে নারীর সমতায়নে সংশ্লিষ্ট। বেগুনি রঙটা নারীবাদীদের প্রতিবাদের এক ধরনের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। ১৯৮৩ সালে পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ লেখক এবং নারীবাদী অ্যালিস ওয়াকারের প্রশংসিত উপন্যাস ‘দ্য কালার পারপল’ বইটি এই রঙ নির্ধারণে অনুপ্রেরণা জোগায়। এ বইতে তিনি নারীদের অধিকারের কথা তুলে ধরেছেন । ধারণা করা হয়, সেখান থেকেই নারীবাদী আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে গেছে বেগুনি-সাদা রঙ।

পেছনের ইতিহাস
আজকের নারী দিবস পালনের পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে নারীদের ওপর হওয়া বৈষম্য, নির্যাতন এবং এসবের বিরুদ্ধে করা প্রতিবাদ। আলোড়ন সৃষ্টি করা প্রথম প্রতিবাদের কথা শোনা যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ সড়কে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হন নিউ ইয়র্কের সুতা কারখানায় কর্মরত নারীরা।

বেতন বৈষম্য, নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা আর কাজের বৈরি পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে একজোট হয়েছিলেন তারা। আর সেই মিছিলে দমন-পীড়ন চালায় কারখানা মালিকেরা আর তাদের মদদপুষ্ট পুলিশ বাহিনী।

এরপর নানান কর্মকান্ডের মধ্যে প্রায় অর্ধশতাব্দী পর ১৯০৮ সালে প্রথম নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় জার্মানীতে। জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ও রাজনীতিবিদ ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

পরবর্তীতে ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে প্রায় ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে অংশ নিয়েছিলেন। এ সম্মেলনেই প্রথমবারের মত ক্লারা প্রতি বছরের ৮ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সেই সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হয় যে, ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে।

এ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ নারী দিবস পালিত হতে লাগল। স্বাধীন বাংলাদেশেও ১৯৭১ সাল থেকেই ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তবে দিবসটি বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক দিবসের স্বীকৃতি পায় ১৯৭৫ সালে। সে বছর জাতিসংঘ তাঁর সদস্য দেশগুলোকে ৮ মার্চ দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের আহবান করে। এরপর থেকেই মূলত সারা পৃথিবী জুড়েই পালিত হচ্ছে দিনটি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতই বাংলাদেশেও যথাযথ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পালিত হবে এ বছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবস।

নারী দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পীকার ড.শিরিন শারমিন চৌধুরী এবং সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী এবং নারী অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন।

এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠীর উদ্যোগেও নেয়া হয়েছে নানান কর্মসূচি। ফেসবুক ভিত্তিক জনপ্রিয় গ্রুপ ‘ড্যু সামথিং এক্সেপশনাল’ এর উদ্যোগে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন রুটে চলমান গণপরিবহনে সচেতনতামূলক স্টিকার সংযোজন করা হবে।

//এস এইচ এস//এসি



© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি