ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০:১৮:০৭

ইটিভি অনলাইনকে আমান

‘আমাদের থেকে কলকাতা বেশি প্রফেশনাল’

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৩:৪২ পিএম, ৯ নভেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৪:০১ পিএম, ৯ নভেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার

বাংলাদেশের ছেলে আমান রেজা। ঢালিউডের পাশাপাশি কলকাতাতেও আলো ছড়াচ্ছেন সমানভাবে। ওপার বাংলার ‘আলেয়া’ ও ‘এ্যাটাক লক-দ্য মিশন’সহ একাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করছেন ‘সংগ্রাম’খ্যাত এই প্রতিভাবান অভিনেতা। সম্প্রতি ‘ঝরা পালক’চলচ্চিত্রে জীবনানন্দ দাশের ছোটভাই অশোকানন্দ দাশের ভূমিকায় অভিনয় করছেন তিনি। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমান জানান তাঁর ক্যারিয়ার ও অভিজ্ঞতার কথা। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : কেমন আছেন?

আমান রেজা : আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো কাটছে।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : বর্তমানে কি কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

আমান রেজা : এই মুহূর্তে বাংলাদেশে ‘রক্তাক্ত সুলতানা’ নামে একটি সিনেমাতে কাজ করছি। তাজু কামরুলের পরিচালনায়। এছাড়া কাজ করছি ‘ভয়ঙ্কর নেশা’ নামে একটি সিনেমাতে। আরও আছে ‘শতরূপে শতবার’। পাশাপাশি আমি কলকাতাতেও কাজ করছি।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : তার মানে আপনিতো এখন দুই বাংলাতেই কাজ করছেন। বর্তমানে দেশের সিনেমায়, নাকি কলকাতাতেই বেশি কাজ করা হচ্ছে?

আমান রেজা : কাজের জন্য নিয়মিতই যেতে হয় কলকাতাতে। প্রথম সিনেমা শুরু করতে করতেই অনেকবার যাওয়া হয়েছে। বিগত এক দেড় বছরের মধ্যে এগারোবার গিয়েছি। বর্তমানে তিনটি সিনেমার কাজ এক সঙ্গে চলছে। পাঁচটির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। এরমধ্যে একটি হচ্ছে ‘আলেয়া’। অনিকেত চট্টোপাধ্যায় এর সিনেমা এটি। তিনি অনেক স্বনামধন্য নির্মাতা। ‘গোড়ায় গন্ডগোল’, ‘বাই বাই ব্যাংকক’, ‘ছ-এ ছুটি’, ‘শঙ্কর মুদি’, ‘কিরীটী রায়’সহ অসংখ্য ভালো সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। এরপর শুরু করলাম জীবনানন্দ দাশের জীবনির উপরে নির্মিত ‘ঝরা পালক’। এ সিনেমায় কবির আপন ছোট ভাই এর চরিত্রে আমি অভিনয় করছি।  

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : ‘ঝরা পালকতো জীবনানন্দদাশের বায়োপিক। এ সিনেমায় কাজ করা নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতার কথা যদি বলেন।

আমান রেজা : বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের জীবনীভিত্তিক ছবি এটি। ‘ঝরা পালক’ তৈরি করছেন সায়ন্তন মুখার্জি। এর আগে তিনি ‘অদ্ভুত’নামে একটি ছবি বানিয়েছিলেন। ‘ঝরা পালক’ প্রযোজনা করছেন পাওয়ান কানরিয়া। ছবিটিতে জীবনানন্দ দাশের তরুণ ও মাঝ বয়সের দু’টি চরিত্রে দেখা যাবে যথাক্রমে রাহুল ও ব্রাত্য বসুকে। আমি জীবনানন্দ দাশের ছোটভাই অশোকানন্দ দাশের ভূমিকায় থাকছি। জীবনানন্দের সঙ্গে তার ছোট ভাই অশোকের সম্পর্ক ছিলো তুই-তুকারির ও  বন্ধুত্বপূর্ণ। অশোক সে সময় বৃটিশ সরকারের চাকরি করতেন। জীবননান্দ স্বভাবজাতভাবে চুপচাপ থাকতেন, উদাস থাকতেন। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতেন তার ছোটভাই। কবিকে সঙ্গ দেওয়া, টাকা-পয়সা দিয়ে সহযোগিতা করা, সবই করতেন অশোক।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : ‘ঝরা পালক ছাড়া কলকাতার অন্য কোনো সিনেমায় কি কাজ করছেন?

আমান রেজা :  হ্যাঁ। ‘আলেয়া’ নামে আরও একটি সিনেমাতে কাজ করলাম। ‘আলেয়া’ পরিচালনা করেছেন অনিকেত চট্টোপাধ্যায়। চলচ্চিত্রের কাহিনী লিখেছেন কলকাতার ডিআইজি ডা. হুমায়ন কবির। এটি প্রযোজনা করছেন প্রদীপ চুড়িয়াল। ‘আলেয়া’তে আমার পাশাপাশি আরও দেখা যাবে তনুশ্রী চক্রবর্তী, খরাজ মুখোপাধ্যায়, কৌশিক গাঙ্গুলি ও প্রিয়াঙ্কা সরকারকে। এছাড়া চুক্তিবদ্ধ হয়েছি ‘অ্যাটাক লক-দ্য মিশন’ নামের একটি সিনেমাতে। ওটার কাজ এখনও শুরু হয়নি।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : দুই বাংলার কাজে কিছুটা হলেও তফাত রয়েছে। তাদের কাজের পরিবেশের সঙ্গে আমাদের কি কি পার্থক্য দেখছেন?     

আমান রেজা : আমার কাছে যেটা মনে হয়, আমাদের ইন্ডাস্ট্রি থেকে ওরা একটু বেশি প্রফেশনাল। ওদের টাইমিং সেন্স, কাজের ধরণ, লাইটিং সব কিছুই অন্যরকম। তবে আমি খুবই প্রাউড ফিল করি বাংলাদেশি হিসেবে। খুব গর্বিত আমি। কারণ, খুব সীমিত জায়গা থেকে আমরা বেশ চমৎকার সিনেমা দর্শকদের উপহার দিতে পারি। আমাদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। সমসাময়িক বিষয়কে সিনেমার মধ্যে আনতে হবে। কাজ করতে হবে নিখুত ভাবে। তবেই ভালো কিছু সম্ভব।   

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : ইতিমধ্যে বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছে। এ বিষয়ে কিছু বলেন।

আমান রেজা : কিছু সময় আছে যখন কিনা কাজ করতে হবে তাই করি। অনেক কাজের মধ্যে কোন কাজটি দর্শকের ভালো লাগবে তা বোঝা কঠিন। অন্য আরেকটি দিক থেকে যদি বলি- প্রতিটি গল্পের ক্ষেত্রে, যেমন জীবনানন্দ দাশ একটা ইতিহাস, সেই ইতিহাসের একটা পার্ট হয়েছি আমি। তাও বাংলাদেশ থেকে গিয়ে। ওখানকার (কলকাতার) বিখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গে। প্রতিটি সিনেমা আলাদা আলাদা গল্প থাকে। এই যে আলাদা আলাদা চরিত্রে একজন শিল্পীকে দর্শক পায় তখন সে নিজেকে খোঁজে। কেননা আমরা নিজেকে মেলে ধরছি আমাদের অভিনয়ের মাধ্যমেই।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : একজন ভালো অভিনেতা হতে হলে কি গুণ থাকা জরুরি বলে মনে করেন?

আমান রেজা : একজন অভিনয় শিল্পীকে ভালো পর্যবেক্ষক হতে হয়। তাকে আশপাশের চরিত্রগুলোকে দেখতে হয়। নিজের চরিত্রটি বাস্তব চরিত্রের সঙ্গে মিল রাখতে হয়। মনে করেন একজন খেটে খাওয়া মানুষ- সে কিভাবে কাজ করছে, তার দৃষ্টিভঙ্গিটা কি এবং তার এক্সপেক্টেশনটা কি সবকিছু বিবেচনায় রাখতে হয়। সেখান থেকে একেবারে আপার ক্লাস পর্যন্ত; যেমন ধরুণ যারা দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা কিভাবে কথা বলেন, তাদের বাচনভঙ্গিটা কি, তাদের মুভমেন্ট কেমন, কতটুকু হাসছেন এসব কিছুই একজন অভিনয় শিল্পীকে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে হয়।

শতরূপে শতবার সিনেমায় আমান ও মিমো

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : সিনেমায় আপনার যাত্রা কখন থেকে?

আমান রেজা : আমার শুরুটা হয়েছিলো ২০০৯ এর দিকে। এটাই আমার প্রথম কাজ। হাফিজুদ্দিনের পরিচালনায় ‘সেই তুফান’। আমি আর কেয়া ছিলাম। এছাড়া ইলিয়াস কাঞ্চন সাহেব ছিলেন। তখনই মূলত: ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো। তবে আমি তখন চুক্তিবদ্ধ ছিলাম শওকত জামিলের ‘যেখানে তুমি সেখানে আমি’ নামের একটি সিনেমাতে। আমার বিপরীতে তখন শাবনূরকে পেয়েছিলাম। ওটাতে আলমগীর সাহেব, চম্পা আপু, ইলিয়াস কাঞ্চনসহ আরও অনেকেই ছিলেন। সেই থেকেই টুকটুক করে শুরু।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : বড় পর্দায় কাজ করতে হলে নিজের অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়। ইতিমধ্যে বেশ কিছু ভালো কাজও করেছেন। নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলতে আপনার প্রস্তুতিটা কেমন?

আমান রেজা : আমার ক্ষেত্রে আমি যেটা করি নিয়মতান্ত্রিক ভাবে, আমি ফিট থাকতে চেষ্টা করি। প্রচুর সিনেমা দেখি। বিভিন্ন শিল্পী, কে কিভাবে কথা বলছেন, অভিনয় করছেন, কিভাবে সে একটি চরিত্র ধারণ করছেন এগুলো খেয়াল রাখার চেষ্টা করি। জীবনমুখি সিনেমার উপর আমার ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা আছে। ইদানিং কেনো যেন মাথায় ঘুরছে আমি একটি অ্যান্টি হিরো চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। জানি না এটা কখন ব্যাটে বলে মিলবে। হয়তো বা হয়েই যাবে ইনশাআল্লাহ।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : আপনি যেমন একজন অভিনেতা। ঠিক তেমনি মডেল হিসেবেও পরিচিত। আপনার শুরুটা কি মডেলিং দিয়ে হয়েছিল?

আমান রেজা : সত্যি কথা বলতে মডেলিং দিয়েই শুরু। ২০০৭ সালে আমার ইচ্ছে হয়েছিল মডেল হব। আমি জানতাম না কিভাবে এগুলো করতে হবে। আমার একজন আঙ্কেল ছিলেন প্রদীপ ভট্টাচার্য্য। তিনি আমাকে দেখে আমার আম্মুকে বললেন যে- আপা আপনার ছেলে দেখতে তো ভালোই। ওকে মডেলিং- এ নিয়ে নিই। আম্মু তখন বললেন- নিয়ে নেও। তিনিই আমাকে দিয়ে প্রথম বিজ্ঞাপন করান। সেই থেকে শুরু। তারপর খুব ফিট হয়ে প্রথম ফটোশ্যুট করলাম। তবে এরপর মডেলিং-এ কাজ করার আগেই আমি সিনেমার অফার পাই। আসলে সিনেমায় ব্যস্ততার কারণে মডেলিংটা খুব বেশি করা হয়নি। তবে বেশকিছু মিউজিক ভিডিওর কাজ করেছি। সামনেও ভালো মিউজিক ভিডিও আসছে।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : আপনার জন্য শুভ কামনা। ভালো থাকবেন।

আমান রেজা : একুশে টিভি অনলাইনের পাঠকদের প্রতিও শুভ কামনা।

এসএ/ডব্লিউএন

 


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি