ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৪:২২:০৭

একান্ত সাক্ষাৎকারে ভিসি

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার রোল মডেল হবে জবি

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০২:২১ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০১৭ মঙ্গলবার | আপডেট: ০১:৫০ পিএম, ২ ডিসেম্বর ২০১৭ শনিবার

শুরু থেকেই বিভিন্ন সংকট নিয়ে পথচলা জগন্নাথ বিশ্ববদ্যালয়ের (জবি)। তবে সব সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে উচ্চশিক্ষার রোল মডেলে পরিণত করতে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বর্তমান ভাইস-চ্যান্সেলরের পাশাপাশি একদল তরুণ উদ্যমী শিক্ষক। তাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে জগন্নাথ। শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় দেশের নবীন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা শিক্ষা-সংস্কৃতিসহ চাকরির বাজারে নিজেদের মেলে ধরছে। পরপর দু’বার বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণের তালিকায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দ্বিতীয় হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এরইমধ্যে পুরান ঢাকাবাসীর শিক্ষা-সাংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে জগন্নাথ। এই অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিগগিরই রোল মডেলে পরিণত হবে-এমন স্বপ্ন দেখেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান উপাচার্য শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের  সেই স্বপ্নের কথা এবং অল্প সময়ে কীভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এতটা অগ্রগতি অর্জন করল সে বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ইয়াসির আরাফাত রিপন

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে কীভাবে অল্প সময়ে এই অবস্থানে এলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়?   

ড. মীজানুর রহমান : এক সময় শিক্ষার্থীদের সংখ্যার দিক থেকে দেশের সবচেয়ে বড় কলেজ ছিল জগন্নাথ। ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর জাতীয় সংসদে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পর্যন্ত এর ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেরাই বহন করে। ২০১৩ সালের ২০ মার্চ আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে যোগ দিয়েছি।

প্রথমেই আমি কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরকালীন পরিবর্র্তিত সংস্কৃতির সমস্যা মোকাবেলা করি। তবে পরিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় আমার যোগদানের আগে থেকেই। যদিও এর গতি ছিল মন্থর। শিক্ষার্থী-শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজ অনেকদূর এগিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। তবে ২০১১ সালে এটি প্রকৃত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা অর্জন করে। এসময় পূর্বের কলেজ থেকে আসা শিক্ষকদের বাদ দেওয়া হয়। বর্তমানে ৬ শতাধিক শিক্ষক, সাড়ে ৬শ’র বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ২২ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে চলেছে।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনার মেয়াদে উচ্চশিক্ষার বিকাশে জবি কতটুকু এগিয়েছে?

ড. মীজানুর রহমান : বিশ্ববিদ্যালয় কেবল জ্ঞান বিতরণ নয়, জ্ঞান অনুসন্ধান ও আহরণও করতে হয় এখানে। জ্ঞান আহরণের বিষয়টা একান্তই গবেষণার উপর নির্ভরশীল। গবেষণা কর্মকাণ্ড বলতে যা বোঝায় তা আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল না। আমরা এসব গবেষণা কর্মকাণ্ড ধীরে ধীরে দাঁড় করিয়েছি। এমফিল এবং পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগে এমফিল এবং পিএইচডি প্রোগ্রামে প্রায় একশ’ শিক্ষার্থী রয়েছেন। এর বাইরেও শিক্ষকদের ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রকল্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উচ্চশিক্ষা গ্রহণে শিক্ষকরা বাইরে যাচ্ছেন এবং ডিগ্রি নিয়ে ফিরে আসছেন, ফলে জগন্নাথের একাডেমিক পরিবেশ ক্রমান্বয়ে উন্নত হচ্ছে।

আমাদের বড় অর্জন হলো এখানে বিশ্বব্যাংকের হেকেপ প্রকল্পের আওতায় উচ্চশিক্ষায় জন্য একটি প্রকল্প রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত। ডিজিটাল পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমেই ডিজিটাল জালিয়াতিসহ যে ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো ছিল, সেগুলো বিভিন্নভাবে আমরা উত্তরণ ঘটিয়েছি। অনেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাকে অনুকরণীয়ও বলে থাকে থাকেন।

গবেষণাগারের উন্নয়নের কাজটি খুবই ব্যয়বহুল। গবেষণার জন্য যেসব যন্ত্রপাতি প্রয়োজন, সেগুলোর মূল্য কোটি কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংকের ‘হেকেপ’ প্রকল্পের আওতায় ফার্মেসি, কম্পিউটার সায়েন্স, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেস এবং মার্কেটিং বিভাগে গবেষণা উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে, যা শেষ পর্যায়ে। আমাদের রসায়ন এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ল্যাবরেটরি এবং কম্পিউটার সুবিধার উন্নয়নের জন্য ‘হেকেপ’ প্রকল্পের আওতায় কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : এর পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান কার?

ড. মীজানুর রহমান : একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বড় বিষয় হলো- একাডেমিক ডেভেলপমেন্ট, শিক্ষকদের সংখ্যা, সেটা ইতোমধ্যে কিছুটা হলেও পূরণ করতে পেরেছি। আমি যখন প্রথমবার উপাচার্য হিসেবে যোগদান করি, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোনো বিভাগে দুইজন-তিনজন শিক্ষকও ছিলেন। আমরা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সংখ্যা বাড়িয়েছি। আগে  ৯৩ জন শিক্ষক ছিলেন। বর্তমানে ৬৩৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ বছর ধরে এমফিল, পিএইচডিতে ভর্তি চলছে। ১০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী এমফিল, পিএইচডি করছেন। ইতোমধ্যে অনেকের গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ৪ থেকে ৫ জন পিইচডি ডিগ্রী সম্পন্ন করবেন।

আমাদের বড় অর্জন হলো সবচেয়ে মেধাবী এবং যোগ্যতাসম্পন্নরাই এখানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ও পাচ্ছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারীরা এখানে আবেদন করেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে, যোগ্যতার ক্ষেত্রে ১ শতাংশও ছাড় দেওয়া হয় না। অনেক বিভাগেই এখন পিএইচডি ডিগ্রিধারী নতুন শিক্ষক নিয়োগ পাচ্ছে। এখানকার প্রায় ১৭০ জনের মতো শিক্ষক যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, কোরিয়া, জাপান, চীন ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করছেন। ভালো ডিগ্রিধারী শিক্ষক এবং মেধাবী শিক্ষার্থী এই দুটি বিষয়ের সম্মিলন ঘটছে বলেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বাড়ছে। বলা যায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগামী কয়েক বছরের মধ্যে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার রোল মডেল হবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে জবি কী কী কার্যক্রম পরিচালনা করছে?

ড. মীজানুর রহমান : বর্তমান যুগে শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে আমি প্রথমে গুরুত্ব দিই বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি, ইন্টারনেট সুবিধা এবং গবেষণাগারের দিকে। মাত্র সাড়ে সাত একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বড় ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ খব একটা নেই। তারপরও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা এবং শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কক্ষ এবং ল্যাবরেটরি লাগবেই। আমরা প্রথমে উদ্যোগ নিই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সহায়তায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ক্যাম্পাসে গবেষণা উন্নয়ন, দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু করা। খুব দ্রুত ইন্টারনেট সুবিধার মাধ্যমে বিশ্বমানের ডিজিটাল লাইব্রেরিতে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

এরইমধ্যে আমরা ই-লাইব্রেরি চালু করেছি। ই-বুক সিস্টেমে চলে যাচ্ছে পুরো গ্রন্থাগার। এখন সবাই বই বা গবেষণা পত্রিকা পড়ার জন্য খুব সহজেই অনলাইনে প্রবেশ ও ডাউনলোড করতে পারেন। তবে লাইব্রেরির জন্য নতুন বইয়ের পাশাপাশি লাইব্রেরিটি ই-লাইব্রেরিতে পরিণত হওয়ায় যুগের চাহিদাও পূরণ হয়েছে। এখন পৃথিবীর ২৬টি পাবলিশার্সের বই সরাসরি শিক্ষার্থীরা পড়তে পারছেন।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : আপনার সময়ে একাডেমিক কার্যক্রম কতটুকু এগিয়েছে?

ড. মীজানুর রহমান : অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী সংখ্যা কম। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে এখানে আবাসিক সুবিধা নেই। যে এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত অর্থাৎ পুরান ঢাকায় মেয়েদের নিরাপত্তাসহ স্বাস্থ্যসম্মত আবাসনের অভাব রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে আবাসনের জন্য আমরা প্রথমে মেয়েদের হল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে ২০ তলাবিশিষ্ট আধুনিক বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব নামে একটি হল নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। যেখানে এক হাজার ছাত্রী থাকতে পারবে। পুরো উদ্যমে এই হলের নির্মাণকাজ চলছে। হলের চার তলার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের সহযোগিতায় এবং হল পুনরুদ্ধার কমিটির অক্লান্ত পরিশ্রমে বেদখল হওয়া কয়েকটি ছাত্রাবাস নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সেগুলোর বর্তমান স্থাপনা ঝুঁকিপূর্ণ। জায়গা কম হওয়ায় সেখানে পূর্ণাঙ্গ হল হবে না। কাজেই এগুলোর বিকল্প ব্যবহারের পথ খুঁজছি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়নের জন্য আমরা নতুন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। যেটি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে কাজ শুরু হয়েছে। কেরাণীগঞ্জে প্রায় ২০০ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের একটা খেলার মাঠ, টিএসসি, একাডেমিকসহ আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে সেখানে। সেখানেই আমাদের প্রথম সমাবর্তনের চিন্তা আছে। পাশাপাশি আমরা কেরানীগঞ্জে নবনির্মিত জেলখানার বিপরীত দিকে ঢাকা মহাসড়কের পাশেই ৭ একর জমি ক্রয় করেছি। সেখানে আমরা এরইমধ্যে ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের কাজ উদ্বোধন করেছি। এতে করে অবকাঠামোগত সমস্যা থেকে কিছুটা হলেও উত্তরণ ঘটবে।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : জবিতে সাংস্কৃতিক কার‌্যক্রমের সম্প্রসারণে আপনি কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন?

ড. মীজানুর রহমান: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে একটি সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে তোলার চিন্তা অনেক আগে থেকেই আমার ছিল। সাংস্কৃতিক উন্নয়নের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে নতুন বিভাগ চারুকলা, নাট্যকলা, সঙ্গীত, ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগ। অপর একটি চাওয়ার বিষয় ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ‘শিক্ষা এবং গবেষণা ইনস্টিটিউট’ (আইআর) খোলা। আমাদের এই চাওয়াও পূর্ণ হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা আইইআর চালু করেছি। এছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন বিভিন্ন কাজ করছে। আন্তঃক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন খেলাধুলার ব্যবস্থা রয়েছে।

এছাড়া জাতীয় উৎসবগুলো জাঁকজঁমকভাবেই পালন করা হয়। এখন পুরান ঢাকার সংস্কৃতি চর্চা গড়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেই। আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পুরান ঢাকার ৭০টি সংগঠন আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। আমরা পুরান ঢাকার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পয়লা বৈশাখে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছি। এতে পুরান ঢাকার সর্বসাধারণের অংশগ্রহণ ছিল। এছাড়া পূজায় পুরান ঢাকার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় ক্যাম্পাস।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : সেশনজট নিরসনে জবি কতটুকু এগিয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

ড. মীজানুর রহমান : বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই সেমিস্টার পদ্ধতি চালু রয়েছে। আমাদের ক্যাম্পাসে সেশনজট না থাকলেও ফল প্রকাশে একটু জটিলতা আছে। তবে ২০১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে সফটওয়্যার ব্যবহার হচ্ছে বিভাগের ফল প্রকাশে। সমস্যা কমে এসেছে। সামনের দিনগুলোতে এ ধরনের কোনো সমস্যাই আর থাকবে না বলে আশা করছি।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : জবির পরিবহন সংকট কিভাবে মোকাবেলা করছেন?

ড. মীজানুর রহমান : হ্যাঁ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অনাবাসিক হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাইরে থেকে আসতে হয়। আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসের তীব্র সংকট একং স্বল্পতা ছিল। আমরা ইতোমধ্যে অনেক রুটে বাস সেবা চালু করেছি। শিক্ষকদের বাসের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আমাদের বাস এখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, মাওয়াঘাট, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর এবং নরসিংদী পর্যন্ত যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ১১টি বড় বাস, ৩টি মিনি বাস ও ৭টি মাইক্রোবাস রয়েছে। এছাড়া বিআরটিসির ভাড়ায় চালিত দ্বিতল বাস ১২টি এবং ৩টি বড় বাস রয়েছে। তবে আমি মনে করছি আমাদের পরিবহন ব্যবস্থায় সংকট নেই। তবে তা উন্নত হওয়া দরকার। সে চেষ্টা আমরা অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছি।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : স্বাধীনতার মূল্যবোধ, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কী ধরনের কাজ করছে জবি?

ড. মীজানুর রহমান : মুক্তবুদ্ধির চর্চা, স্বাধীনতার মূল্যবোধ, প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নের কেন্দ্র হিসেবে আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে দেখতে চাই। সেক্ষেত্রে আমাদের সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্বাধীনতা, বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন দিবসে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন হচ্ছে। ক্যাম্পাসে এত ছোট জায়গার মধ্যেও প্রায় ৩২টি মণ্ডপে স্বরস্বতী পূজা সুষ্ঠু সুন্দর এবং মনোরম পরিবেশে উদযাপন হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে পুরান ঢাকার হাজার হাজার মানুষ রাত পর্যন্ত সমাগম ছিল। এর মধ্য দিয়েই এক ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। গতবার ব্যাপক জাঁকজঁমকভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করেছি। আমি মনে করি পহেলা বৈশাখ উদযাপনের ক্ষেত্রে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গোটা পুরান ঢাকাকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: শিক্ষার মান বজায় রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কী আশা করেন?

ড. মীজানুর রহমান : শিক্ষার মান বজায় রাখতে হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকাটা জরুরি। আমাদের শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট, কর্মসংস্থানের দিক দিয়ে তারা কি ধরনের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারছে, যোগ্যতায় ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে কিনা এসবই পর্যালোচনা করা দরকার। গত ২টি বিসিএস পরীক্ষায় আমাদের ক্যাম্পাস দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থান করেছে। আমি মনে করি মানসম্মত লেখাপড়া, পরীক্ষা ও ফলাফল নিয়মিতকরণ এবং শিক্ষকদের জ্ঞান অন্বেষী মনোভাব— আপাতত: এটুকু হলেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গৌরবের একটি অবস্থান তৈরিতে সক্ষম হবে। বিগত বছরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অনেকদূর এগিয়ে গেছে। কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের কঠিন কাজটি আমরা অতিক্রম করে এসেছি। এখন এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। আরো অধিকতর ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য যেসব শর্তের প্রয়োজন আমরা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই মিলে তা পূরণ করছি। এক্ষেত্রে সরকার আমাদের যথেষ্ট সাহায্য-সহযোগিতা করছে, আগামীতেও সবার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ?

ড. মীজানুর রহমান : একুশে টেলিভিশনের প্রতিও শুভ কামনা।

আর//এআর


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি