ঢাকা, শনিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৮ ২১:১২:৪৭

Ekushey Television Ltd.

কর্মক্ষেত্রের নারীদের সমস্যা ও প্রতিকার: ৫ নারীর মত

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:২৭ পিএম, ৩ এপ্রিল ২০১৮ মঙ্গলবার

পুরুষের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীদের পদচারণা দিন দিন বেড়েই চলেছে। পুরুষদের সাথে টেক্কা দিয়ে সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে এখনও কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় নারীদের নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। বিষয়গুলো অনেকের জন্য এতটা বিব্রতকর যে, এগুলো নিয়ে সরাসরি কথাও বলা যায় না। অফিসের বস কিংবা সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে, এই ভয়ে অনেকেই বুকে পাথর বেঁধে মাটি চাপা দেন এসব নিগ্রহের ঘটনা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মক্ষেত্রে যে ধরণের সমস্যা আসে আর এসব সমস্যা কিভাবে মোকাবেলা করা যায়, তা নিয়েছেন ভারতের পাঁচ কর্মজীবী নারী।


কর্পোরেট কর্মকর্তা তারা মেহেতা: বিবাহিত হওয়ায় আমাকে চাকরিতে নেওয়া হয়নি। ভারতে মানব মেধা সম্পদ নিয়ে কাজ করে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক তারা মেহতা একটি চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “একটি চাকরির ইন্টারভিউতে সবগুলো রাউন্ডে পাস করার পরেও শেষমেশ আমাকে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ইন্টারভিউ এর এক মাস আগেই আমার বিয়ে হয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ মনে করেছে যে, আমি হয়তো অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাব। আর তাই তারা আমাকে চাকরিতে নিয়োগ দেয়নি”।
এই সমস্যা মোকাবেলার কথাও জানিয়েছেন তারা মেহতা। তিনি বলেন, “আমার এক বান্ধবীও আমার মত একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল। আর তাই এরপরে যখন একটি প্রতিষ্ঠানে আমি ইন্টারভিউ দিতে গেলাম সেখানে আগেই বলেছি যে, আমার বৈবাহিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে আমাকে বিচার করা যাবে না। আর আমার ব্যাপারে এই ধারণাও করা যাবে না যে, আমি হয়তো খুব শীঘ্রই সন্তান নেব”।“ কর্তৃপক্ষ আমার এই সততা পছন্দ করলেন এবং আমার মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই আমাকে চাকরিতে নিয়োগ দিয়েছেন”-বলছিলেন তারা।

উদ্যোক্তা নলিনী শর্মা: নলিনী শর্মা নামের এক নারী উদ্যোক্তা বলেন, “অফিসে আমার বস একবার মন্তব্য করলেন যে, নারীদের অন্যদের প্রভাবিত করার দক্ষতা অনেক বেশি। আর তিনি আমাকে বিজনেস ডেভেলপমেন্ট দলগুলো পরিচালনার দায়িত্ব দিলেন। এমনকি আমি মেয়ে বলে আমাকে দিয়ে ক্লায়েন্টস মিটিং করানো হতো। তার ধারণা ছিল আমাদের প্রতিষ্ঠানের ক্লায়েন্টসগুলোকে আমাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে আমি প্রভাবিত করতে পারব। কিন্তু যে বিষয়টি আমার সবথেকে খারাপ লাগত তা হল যে, আমি মেয়ে বলেই তিনি আমার প্রশংসা করতেন। আমি মেয়ে বলেই সবাইকে প্রভাবিত করতে পারি মনে করতেন তিনি। আমার মেধা বা কাজের দক্ষতার কোন মূল্যায়নই তিনি করতেন না”। তিনি আরও বলেন, “নিজের মেধা প্রমাণ করার জন্য আমি এরপর থেকে অনেক পরিশ্রম করতে থাকি। এক পর্যায়ে আমি নিজের ব্যবসা আরম্ভ করি। প্রতিষ্ঠানটি থেকে বের হয়ে আসার সময় বসকে বলে আসি যে, শুধু নারী হয়েই না বরং নিজের মেধা ও দক্ষতাকে কাজ লাগিয়েই আমি কাজ করি”।

সরকারি কর্মকর্তা আরতি শাহ: ভারতের একজন সরকারি কর্মকর্তা আরতি শাহ বলেন“মাতৃত্বকালীন ছুটি থেকে আসার পর আমাকে অন্য অফিসে বদলি করা হয়। বদলির আদেশে বলা ছিল যে, এমন বদলি খুবই সাধারন ঘটনা। কিন্তু আমার একজন সহকর্মী বললেন যে, অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করেছেন যে, যেহেতু আমি মা হয়েছি সেহেতু আমার সন্তানের জন্য অফিসের কাজের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। আর তাই তারা আমাকে অন্য অফিসে বদলি করেছেন। কিন্তু নতুন অফিসে আমি আমার কাজের দক্ষতা দিয়ে প্রমাণ করেছি যে, মা হয়েও সফলভাবে কাজ করা যায়”-বলছিলেন 

ব্যাংক কর্মকর্তা সোয়েতা জোশি: মাসিক ছুটির প্রসঙ্গে নারী কর্মীদের নিয়োগ না দেওয়ার পরামর্শ-ভারতের একজন ব্যাংক কর্মকর্তা সোয়েতা জোশি বলেন, “আমাদের অফিসে একবার এই প্রসঙ্গ উঠল যে, নারী কর্মীদের মাসিককালীন সময়ে ছুটি দেওয়া যায় কি না। এই প্রস্তাবের এক প্রতিক্রিয়ায় এক পুরুষকর্মী বলেন যে, এরপর থেকে আমাদের অফিসে নারী কর্মী নিয়োগ দেওয়ার আগে দুই বার ভাবতে হবে। “তার কথায় আমার অনেক খারাপ লাগে। বিনয়ের সাথে আমি তার কথার প্রতিবাদ করে আমি বলি যে, শুধুমাত্র লিঙ্গ বৈষম্যের ওপর ভিত্তি করে কর্মী নিয়োগের বিষয়টি ঠিক নয়। আমার কিছু সহকর্মীও আমাকে সাপোর্ট দিল”।

সেবিকা নমরতা: পুরুষ সহকর্মীরা কখনই আমাকে দলের অংশ মনে করেনি। ভারতের একটি হাসপাতালের সেবিকা নমরতা বলেন, “একটি হাসপাতালে কাজ করার সময় আমি এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলাম। সেখানে কর্মরত পুরুষ সহকর্মীরা নিজেদের মত করে সময় কাটাতেন। অফিসে নিজেরা আড্ডা বা গল্প করতেন। আমাকে বা অন্য কোন নারী সহকর্মীদের সাথে তারা ভাব বিনিময় করতেন না। একদিন তাদের আড্ডার কাছাকাছি গিয়ে কিছু জোকস শুনতে পাই। সেখানকার এক পুরুষ সহকর্মী একদিন আমাকে জানালেন যে, তারা মাঝে মাঝে এমন জোকস করেন যা নারী হিসেবে আমাদের জন্য বিব্রতকর হতে পারে। এরজন্য তারা আমাদের সাথে মেশেন না”।
“একদিন আমি তাদের এসব জোকসের প্রতিবাদ করি। এরপর থেকে তারা জোকস করা বন্ধ করেন। কিন্তু এরপর থেকে তারা আর আমার সাথে কথাও বলে না। আমিও যে তাদের দলেরই একজন সদস্য তারা আর সেটা মনে করেন না”।

সূত্রঃ টাইমস অব ইন্ডিয়া
/এস এইচ এস/ এমজে

 



© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি