ঢাকা, সোমবার, ১৬ জুলাই, ২০১৮ ১৬:৫৬:০৭

Ekushey Television Ltd.

কোটা সংস্কার অান্দোলনের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ

অালী অাদনান

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৬:৩৪ পিএম, ৭ জুলাই ২০১৮ শনিবার

(ফাইল ফটো)

(ফাইল ফটো)

দেশের চলমান অালোচিত ইস্যুগুলোর মধ্যে কোটা সংস্কার অান্দোলন একটি। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বজায় থাকা ৫৬ ভাগ কোটার বিরুদ্ধে অান্দোলনে নামা শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠা এ অান্দোলন বর্তমানে দেশব্যাপী যেমন পরিচিত তেমনি অান্দোলন পরিচালনাকারী নেতাদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় জনমনে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

এতদিন পর্যন্ত কোটা সংস্কার অান্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন অাছে এমন অভিযোগ থাকলেও অান্দোলনের মূল নেতৃত্বে থাকা রাশেদ খান ও ফারুক হাসান গ্রেফতার হওয়ার ঘটনার পর থেকে অান্দোলনের পেছনের শক্তি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অান্দোলনকারীদের নিজস্ব ফেসবুক পেজে কী কী অালোচনা হচ্ছে, বিকাশ ও রকেট এ্যাকাউন্ট নাম্বারে কেমন লেনদেন হয়েছে, কারা সেসব লেনদেনে সম্পৃক্ত সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা যায়। তবে অাইনশৃংখলা বাহিনীর দাবি, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা অাছে এমন কোনো তথ্য এখনও নিশ্চিত করতে পারেননি তারা।

কোটা সংস্কার অান্দোলন দেশব্যাপী গড়ে উঠলেও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এর মূল নেতৃত্বে ছিলেন চারজন। অান্দোলনের সমন্বয়কারী হাসান অাল মামুন। যুগ্ম অাহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন নুরুল হক নুর, রাশেদ খান ও ফারুক হাসান। এর মধ্যে নুরুল হক নুর বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রাশেদ খান মীরপুরে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে গ্রেফতার হয়ে তথ্যপ্রযুক্তি অাইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায় রিমান্ডে অাছেন। ফারুক হাসান অাছেন কারাগারে। হাসান অাল মামুন গ্রেফতার না হলেও অাত্মগোপনে অাছেন।

পুলিশ রিমান্ডে থাকা রাশেদ খানকে বিভিন্নভাবে জেরা করে তথ্য বের করার চেষ্টা করছেন কলে জানা গেছে। তথ্যপ্রযুক্তি অাইনে দায়ের হওয়া মামলায় রাশেদ খানের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনি মানহানিকর ও কূটুক্তি করেছেন। তবে রাশেদ খান অাইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে দাবি করেছেন, অাবেগ নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে হয়তো তিনি এমন কথা বলেছেন। তবে এমন কথা বলার কোনো উদ্দেশ্যে তার ছিল না।

গত ১ জুলাই মীরপুরের ১৪ নাম্বার সড়কে ভাষানটেক থেকে ডিবি পুলিশ রাশেদ খানকে গ্রেফতার করে। তিনি সে সময় সেখানে অাত্মগোপনে ছিলেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, রাশেদ খান ফেসবুক ভিত্তিক তিনটি ক্লোজড গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। যার একটিতে ৩০ জন ও অন্যটিতে ১০ জন সদস্য রয়েছে। এসব গ্রুপে অান্দোলন নিয়ে বিভিন্ন অালোচনা হতো। তবে কী অালোচনা হতো তদন্তের স্বার্থে তা বলতে রাজি হননি তিনি।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা অারও জানান, রাশেদ খান- নিজে ২০টি এ্যাকাউট পরিচালনা করতেন। এই বিশটি এ্যাকাউন্টে সারা দেশ থেকে অান্দোলনের সমর্থকরা টাকা লেনদেন করত। তবে অধিকাংশ লেনদেন ছোট অংকের। ১০০ টাকা ১০০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। অবশ্য রমজান মাসে ইফতার পার্টির খরচ জোগানোর জন্য একজন তাদেরকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছিল -এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়। শাহবাগ থানায় তথ্য প্রযুক্তি অাইনে রাশেদ খানের নামে মামলাটি দায়ের করেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অাইনবিষয়ক সম্পাদক অাল নাহিয়ান খান জয়।

কোটা সংস্কার অান্দোলনের প্রথম থেকে সোচ্চার কন্ঠটির নাম নুরুল হক নুর। অান্দোলন পরিচালনাকারী সংগঠন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম অাহবায়ক তিনি। গত ৩০ জুন সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরির সামনে ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে হামলা হলে অাহত হন তিনি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ও পরে সায়েন্স ল্যাবরেটরীস্থ অানোয়ার খান মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হলেও বর্তমানে তিনি অাত্মগোপনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত হওয়া উদ্বিগ্ন অভিভাবক নাগরিক সমাবেশে নুরুল হক নুর- এর বাবা অভিযোগ করে বলেন, তিনি জমি বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসা খরচ চালাচ্ছেন। তার ছেলে নুরকে হামলার কারণে তার শরীরে বেশ কয়েকটি অঙ্গ ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে তার ব্রেনে ও কিডনিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তিনি কথা বলতে পারছেন না।

অান্দোলনকারীদের অারেক নেতা ফারুক হাসান বর্তমানে কারাগারে অাছেন। গত ৩ জুলাই অাদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। উপাচার্যের বাসভবনে হামলা ও গাড়ি ভাংচুরের মামলায় পুলিশের বাদী হওয়া একটি মামলা দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। অান্দোলনের অারেক নেতা হাসান অাল মামুন এখন অাত্মগোপনে অাছেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত থাকায় তা সংস্কারের জন্য চলতি বছরের শুরুতে আন্দোলনে নামেন ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ ব্যানারে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এসএইচ/



© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি