ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭ ০:৫৫:৫৮

গর্ভাবস্থায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি কেন করবেন

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৪:৪৫ পিএম, ৭ অক্টোবর ২০১৭ শনিবার

আল্ট্রাসনোগ্রামের কথা শুনলেই আমাদের চোখের সামনে মনিটরের পর্দায় ভেসে ওঠে গর্ভবতী মায়ের অনাগত বাচ্চার ছবি। আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে চিকিৎসক স্ক্রিনের ছবি বিশ্লেষণ করে রোগ নির্ণয় করে থাকেন। আল্ট্রাসনোগ্রাফি মূলত গর্ভকালীন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ডাক্তারি পরীক্ষা।

স্বাভাবিক গর্ভাবস্থায় ন্যূনতম দুবার আল্ট্রাসনো করা উচিত। গর্ভাবস্থায় আল্ট্রাসনো পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা আছে কি না তা নিয়ে অনেকের মধ্যে সংশয় আছে। আবার কখন করতে  হবে এটা নিয়েও নানা কথা আছে।

কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, ক্লিনিক্যালি স্বাভাবিক গর্ভাবস্থার জন্য এই পরীক্ষা জরুরি নয়। তবে এমন কিছু জটিলতা আছে, যা সঠিকভাবে নিরূপণ করতে সনোগ্রাফি জরুরি। যা শুধু শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে সেটি নির্ণয় করা সম্ভব নয়।

তাদের মতে, স্বাভাবিক গর্ভাবস্থায় ন্যূনতম দুবার সনোগ্রাফী করা উচিত। কিন্তু তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করা যেমন ভাল, আবার অসময়ে বার বার না করাও শ্রেয়।

নির্ধারিত দুটি সময়সীমায় এই পরীক্ষাটি করাই ভালো। সময় দুটি হলো- গর্ভাবস্থার ১৮-২২ সপ্তাহের মধ্যে (শেষ মাসিকের দিন থেকে) ও গর্ভাবস্থার ৩২-৩৬ সপ্তাহের মধ্যে। এ ছাড়া বিশেষ ক্ষেত্রে ১৮ সপ্তাহের আগে করা গুরুত্বপূর্ণ।

১৮-২২ সপ্তাহ: গর্ভাবস্থার ১৮-২২ সপ্তাহের মধ্যে আল্ট্রসনোগ্রাফি করলে যে বিষয়গুলো জানা যায়। এর মাধ্যমে ভ্রূণের সঠিক বয়স নির্ণয় করা যায়। জরায়ুতে একটপিক ভ্রূণের অবস্থান আছে কিনা জানা যায়। এসময় সনোগ্রাফির মাধ্যমে শিশুর শারীরিক জটিলতা বা বিকলাঙ্গতা নির্ণয় করা যায়।

এসময়টিতে জরায়ুতে ফুলের অবস্থান এবং তা মায়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কিনা জানা যায়। পাশাপাশি জরায়ুতে টিউমার বা অন্য কোনো জটিলতা আছে কিনা বা থাকলে প্রসবে জটিলতা সৃষ্টি করবে কিনা তা জানা যায়।

৩২-৩৬ সপ্তাহ: আর গর্ভাবস্থার ৩২ থেকে ৩৬ সপ্তাহের মধ্যে যদি আল্ট্রসনোগ্রাফি করা যায় তাহলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনি জানতে পারবেন। এর মধ্যে জানতে পারবেন শিশুর বৃদ্ধি জটিলতা আছে কিনা, শিশুর বিকলাঙ্গতা নিরূপণ করা যায়, যা প্রথম আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে নির্ণয় হয় না।

এসময় সনোগ্রাফি করলে গর্ভের শিশুর প্রকৃত অবস্থান নির্ণয় করা যায়। জরায়ুর সঠিক অবস্থান, জরায়ুর পানির পরিমাপ করা যায়। তাছাড়া অন্যান্য জটিলতা, যেমন ফাইব্রয়েড, ওভারিয়ান টিউমার ইত্যাদি নিরূপণ করা যায়।

১৮ সপ্তাহ: গর্ভাবস্থার ১৮ সপ্তাহের আগে যদি আল্ট্রসনোগ্রাফি করা হয় তাহলে যে বিষয়গুলো আপনি জানতে পারবেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে গর্ভের সঠিক বয়স নির্ণয় করা যায়, ভ্রূণের সঠিক অবস্থান নির্ণয় হয়। যেমন জরায়ুর ভেতরে না বাইরে (এক্টোপিক প্রেগনেন্সি)।

আবার এই সময়টাতে আল্ট্রসনোগ্রাফি করলে ভ্রূণের সংখ্যা নির্ণয় হয় (এক বা একাধিক), মোলার প্রেগন্যান্সি যাচাই করা যায়। তলপেটে গর্ভধারণের মতো উপসর্গ প্রকাশ করে তা চিহ্নিত হয়। শিশুর সঠিক বৃদ্ধি বা স্বাভাবিক প্রসবের অন্তরাল ইত্যাদি চিহ্নিত করা হয়।

আল্ট্রাসনোগ্রাফি এমন একটি পরীক্ষা, যা উৎকৃষ্ট পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে সুস্থ শিশু জন্ম দেয়া যায়। এই পরীক্ষাটি সঠিক সময়ে, সঠিক পদ্ধতিতে করার মাধ্যমে শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানো যায়।

আর/ডব্লিউএন


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি