ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৮:৫৬:৫৫

ঘুরে আসতে পারেন গাইবান্ধার দর্শণীয় স্থানগুলো

সাদ্দাম উদ্দিন আহমদ

প্রকাশিত : ০৫:৫৫ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৬:২৩ পিএম, ২ ডিসেম্বর ২০১৭ শনিবার

গাইবান্ধায় ভ্রমণের অনেক জায়গা রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ,বালাসীঘাট, প্রাচীন মাস্তা মসজিদ, গাইবান্ধা পৌরপার্ক, বর্ধনকুঠি, এসকেএস ইন, ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার, মীরের বাগানের ঐতিহাসিক শাহসুলতান গাজীর মসজিদ এছাড়াও দেখে আসতে পারেন শিবরাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বামনডাঙ্গার জমিদার বাড়ি, রংপুর সুগার মিলস্ লিমিটেড প্রভৃতি।

বালাসীঘাট

যমুনার কোলঘেসে বাঁধটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে ধীরে ধীরে আকর্ষণীয় হয়ে উঠে। শুধু ছুটির দিনেই নয় প্রত্যেকদিনই এখানে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড়। বন্ধুবান্ধর নিয়ে এখানে ঘুড়তে আসেন। আবার অনেকেই সপরিবারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানেই কাটিয়ে দেন।  শুধু উৎসব কিংবা দিবস নয় সারাবছরই ভ্রমনপিপাসু মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। নিজের পছন্দমেতো জায়গা থেকে দাড়িয়ে নদীর বুকে সুর্যাস্তের দৃর্শ উপভোগ করা যায়। শুধু জেলা শহর থেকে নয় সারা বাংলাদেশ থেকেই ভ্রমণপ্রিয় মানুষরা এখানে আসেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মধ্যে যাত্রী ও মালামাল পারাপারের জন্য ফেরি সার্ভিস চালু হয়। পরে ফেরিঘাটটি তিস্তামুখঘাট থেকে বালাসী ঘাটে স্থানান্তর করা হয়।

যেভাবে যাবেন-

প্রথমে বাস অথবা ট্রেনযোগে গাইবান্ধা জেলা শহরে আসতে হবে। গাইবান্ধা জেলা বাসস্ট্যান্ড হতে যাওয়ার উপায়- অটোরিক্সা, রিক্সা ও সিএনজি যোগে যাওয়া যায়। অটোরিক্সা ভাড়া-১৫০ টাকা, রিকসা ভাড়া- ৮০-১০০ টাকা।

গাইবান্ধা পৌরপার্ক-

 

গাইবান্ধায় রয়েছে পৌরসভার অধীন পার্ক। পার্কের পুকুর পাড়ে রয়েছে সব বয়সের মানুষের জন্যই বিনোদনের ব্যবস্থা, সকাল থেকে সন্ধ্যা দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে। বিভিন্ন উৎসরের সময় দর্শনার্থীদের ভিড় সারা বছরের অন্যান্য দিনের চেয়ে আরও অনেকটাই বেড়ে যায়।          

যেভাবে যাবেন-

গাইবান্ধা জেলা বাসস্ট্যান্ড  থেকে রিকসা অথবা অটোরিকসা দিয়ে যেতে পারেন এ পৌরাপার্কে।

বর্ধনকুঠি-

গাইবান্ধার গোবিন্ধগঞ্জে কালের সাক্ষি হয়ে দাড়িয়ে আছে বিধ্বস্ত রাজবাড়িটি, রাজবাড়ির ভাঙা অংশ মনে করিয়ে দেয় তার প্রাচীন অবস্থার কথা। ভঙ্গুর দেওয়ালগুলি আপনাকে তার অতীতের কথাই মনে করিয়ে দিবে।

যেভাবে যাবেন-

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ হতে অটো বা সিএনজিতে করে যেতে পারেন রাজবাড়িটিতে।

এসকেএস ইন-

গাইবান্ধা শহরের অদূরে রাঁধাকৃষ্ণপুর  (তিন গাছ তল) এক সুন্দর মনোরম পরিবেশ, নয়নাভিরাম সবুজের ওপর গড়ে উঠেছে এই রিসোর্ট। সুন্দর নাম বিশিষ্ট ছোট ছোট কটেজ, বিশাল অডিটরিয়াম, সুন্দর ঝর্ণা, গাইবান্ধায় প্রথম বারের মতো আধুনিক সুমিংপুল ও আশেপাশের সবুজ সমারোহ।

যেভাবে যাবেন-

 গাইবান্ধা থেকে রিকসা, অটোরিকসা খুব সহজেই যেতে পরেন।

ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার-

শুধু গাইবান্ধা কিংবা বাংলাদেশ নয় ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারটি অবাক করেছে সারা বিশ্বকে। ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়। ভবনটির ছাদ ভূমি সমতলে আর বাকি অংশটুকু মাটির নিচে অবস্থিত। ছাদটা যেন বিভিন্ন ধরনের ঘাষের মাঠ। স্থাপত্য শিল্পে এক অনবদ্য সৃষ্টিটি অবাক করেছে বিশ্বকে। ভবনটি দেখতে প্রতিদিনই হাজারো দর্শনার্থী ভিড় করে। ভবনটির ভিতরের সবকিছুও দৃষ্টিন্দন।

যেভাবে যাবেন –

গাইবান্ধা থেকে রিকসা, অটোরিকসা ও মোটরসাইকেল ভাড়া করে যেতে পারেন ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারে।

 শিবরাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-

বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিবরাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নে ছাইতানতোলা গ্রামে অবস্থিত বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯১৬ সালে। পরে এটি জাতীয়করণ হয় ১৯৭৩ সালে। বিদ্যালয়টি মোট ২.২৮৫ একর জমির ওপর অবস্থিত। এখানে রয়েছে একটি পাঁচ তলা ভবন, দুটি দ্বিতল ভবন, পাঁচটি অর্ধ দালান। ভবনগুলোতে রয়েছে একটি প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, একটি সহকারী শিক্ষকদের কক্ষ, ২২টি শ্রেণি কক্ষ, একটি সভা কক্ষ,একটি ক্লিনিক কক্ষ, একটি অতিথি কক্ষ, একটি উপকরণ কক্ষ, একটি ভৌগলিক কক্ষ, একটি কম্পিউটার কক্ষ, একটি বিজ্ঞানাগার, একটি ছাত্রাবাস ভোজনালয় প্রভৃতি।

এছাড়া রয়েছে শিশুদের জন্য বিশাল মাঠ, শহীদ মিনার, মসজিদ, পোস্ট অফিস, সরকারি ক্লিনিক, মডেল চিড়িয়াখানা ইত্যাদি।

বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১০৫৩ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন সরকারি ও ৫৮ জন বেসরকারি শিক্ষক রয়েছে। বিদ্যালয় চত্তরে রয়েছে দীপশিখা নামের একটি ছাত্রাবাস। যেখানে ১২০ আবাসিক শিক্ষার্থী অবস্থান করছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা পরিদর্শনে আসে।

যেভাবে যাবেন-

গাইবান্দা সদর থেকে বাসে বা ট্রেন যোগে যেতে পারেন।

প্রাচীন মাস্তা মসজিদ

স্থাপত্যের এক অপার নিদর্শন মাস্তা মসজিদ। প্রাচীন এই মসজিদটির চার কোণে রয়েছে চারটি স্তম্ভ, একই আকারের তিনটি গম্বুজ  ও আছে, মসজিদটির তিনটি দরজা থাকলেও  কোন জানালা নেই । সব মিলিয়ে মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ ফুট এবং প্রস্ত প্রায় ১৬ ফুট । মসজিদটিতে এখনো এলাকার লোকজন নামাজ আদায় করে। গাইবান্ধার গোপালগঞ্জের কামারদহ ইউনিয়নের  মাস্তা গ্রামের প্রাচীন লাল মসজিদটিই `মাস্তা  মসজিদ` নামে পরিচিত ।

যেভাবে যাবেন-

গাইবান্ধা হতে গোবিন্দগঞ্জ সেখান থেকে কামারদহ ইউনিয়নের ফাঁসিতলা বাজার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার. উত্তরে মহাসড়কের পশ্চিম পার্শ্বে মাস্তা মসজিদ অবস্থিত। যে কোনো যানবাহন ব্যবহার করে মাস্তা মসজিদে যেতে পারেন। সবচেয়ে সহজে যেতে চাইলে সিএনজিতে যেতে পারেন।

বামনডাঙ্গার জমিদার বাড়ি-

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গার সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র গ্রামের জমিদার বাড়ির ঐতিহাসিক নিদর্শন। উত্তর জনপদের বামনডাঙ্গার এ অঞ্চলে এই জমিদারদের গোড়াপত্তন কবে হয়েছিল বা কে করেছেন সে সম্পর্কে সঠিক কোন তথ্য এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। তবে কথিত আছে যে, পঞ্চদশ শতকের কোন এক সময়ে সম্রাট আকবরের আমলে পরাজিত ও রাজ্যচ্যুত গৌড় বংশীয় ব্রাহ্মণ কৃষ্ণকান্ত রায় পালিয়ে এখানে আসেন এবং বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে তার আমলেই বামনডাঙ্গার এই জমিদারদের নামডাক ছড়িয়ে পড়ে। তাদের সময়ে এই এলাকার প্রজাদের মধ্যে সর্বত্র সুখ-শান্তি এবং আনন্দ বিরাজমান ছিল। এ ছাড়া জমিদাররা সুশীল এবং ভদ্র। এ কারণেই ওই এলাকার নাম হয়েছিল সর্বানন্দ।

যেভাবে যাবেন-

গাইবান্ধা থেকে ট্রেন বা বাসে যেতে পারেন।

 

এসএইচ/

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

এ বিভাগে আপনাদের মতামত ও লেখা পাঠান [email protected]


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি