ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ৪:২৫:০৪

ঘুরে আসুন শশীকান্তের বাড়ি

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০১:২৯ পিএম, ১২ জুলাই ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ১০:০৪ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শনিবার

ধান, নদী আর মহিষে শিং এই তিনে মিলে ময়মনসিংহ। প্রাচীন ঐহিত্যের শিল্প-সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত এ জেলাটি। আর এই ময়মনসিংহ শহরেই রয়েছে শৌখিন জমিদার শশীকান্ত আচার্যের প্রায় দুই শত বছর পুরনো শশীলজ নামক বাড়ি যা ময়মনসিংহের রাজবাড়ি নামে পরিচিত।


ঢাকা শহর থেকে মাত্র ১২২ কি.মি দুরে এর অবস্থান। রাজবাড়ির ফুলেল সুবাসে মন জুড়িয়ে যাবে আপনার। রয়েছে গ্রিক দেবি ভেনাসের স্বল্পবসনা স্নানরত মর্মর মূর্তি। এর নির্মাণ শৈলীই জমিদারের রুচি বহন করে আসছে যুগ যুগান্তর ধরে।

নয় একর জমির ওপরে লালচে-হলুদ রাঙা ইট দিয়ে গাঁথা ১৬টি গম্বুজবিশিষ্ট দ্বীতল এই জমিদার বাড়ি নির্মিত। বাড়ির সামনে উঠানজুড়ে রয়েছে বাগান। শশীলজ নামক এ জমিদার বাড়িটির মূল প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী। তার একচল্লিশ বছর শাসনামলে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ময়মনসিংহ শহর পেয়েছিল নান্দনিক সৌন্দর্য।

১৮৯৭ সালের ১২ জুন গ্রেট ইন্ডিয়ান ভূমিকম্পে বাড়িটি বিধ্বস্ত হলে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন জমিদার সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী। ১৯০৫ সালে ঠিক একই স্থানে নতুনভাবে শশীলজ নির্মাণ করেন পরবর্তী জমিদার শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী। নবীন জমিদারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শশীলজ হয়ে উঠে অনিন্দ্য সুন্দর আরও বেশি দৃষ্টিনন্দন।

শশীলজের বিশাল ফটকসহ মার্বেল পাথর দিয়ে ঘাটলা বাঁধা পুকুর রয়েছে। কল্পকাহিনী রয়েছে, পুকুরে নাকি বড় বড় মাছ রয়েছে, যা ঠিক সন্ধ্যার সময় টিপটিপ বৃষ্টি ঝরলে তখন ভেসে উঠে।

বাড়ির পিছনে স্নানঘরের পাশেই রয়েছে একটি সুড়ঙ্গ পথ। ধারণা করা হয়, ওই সুড়ঙ্গ পথে মুক্তাগাছার বাড়িতে যাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। এখানে বেশকিছু দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য প্রাচীন গাছগাছালি রয়েছে। ওর মধ্যে অন্যতম নাগলিঙ্গম বা নেগুরাবৃক্ষ। নাগলিঙ্গম গাছে বছরজুড়েই ফুল ফুটে।

শশীলজে কথাসাহিত্যিক   ‍হুমায়ূন আহমেদ তার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘অয়োময়’ নাটকে জমিদার বাড়ির দৃশ্যগুলো ধারণ করেছিলেন। সেই থেকে স্থানীয়দের নিকট শশীলজ ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

১৯৫২ সাল থেকে বাড়িটি মহিলা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হয়ে এসেছে। বর্তমানে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সঙ্গে সীমানা প্রাচীর নির্ধারণ করে শশীলজ ২০১৫ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আওতাধীন করে সংস্কারের কাজ চলছে।

যেভাবে যাবেন

রাজধানীর গুলিস্তান ও মহাখালী থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন পরিবহনে বাস ছেড়ে যায় ময়মনসিংহ। ভাড়া ২৩০ টাকা। বাসে গিয়ে শহরের চরপাড়া থেকে অটো বা রিকশায় শহরের জিরো পয়েন্টের পাশেই শশীলজের অবস্থান।স্থানীয়রা অনেকে জমিদার বাড়ি বা মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নামে চিনে থাকে।

ময়মনসিংহ প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘর সপ্তাহের রোববার বন্ধ ও সোমবার অর্ধবেলা এবং প্রবেশ ফি জনপ্রতি ১৫ টাকা। চাইলে আপনি শহরে রাত্রি যাপন করতে পারেন। শহরে মান সম্মত অনেক হোটেল রয়েছে।

 //আর//এআর

 

 

 

এ বিভাগে আপনাদের মতামত ও লেখা পাঠান travel@ekushey-tv.com.


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি