ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২২:৩৮:০৮

চাকুরি পাচ্ছে তৌফা-তহুরার বাবা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:৫৪ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ রবিবার | আপডেট: ১০:৪০ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার

চাকরি পাচ্ছেন তৌফা-তহুরার বাবা রাজু মিয়া। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসা নেয়া তৌফা-তহুরাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান। বিদায় অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজু মিয়ার চাকুরির বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দেন।  

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা চাই তারা (তৌফা-তহুরা) ভালো থাকুক। মানসম্মত ও উন্নত চিকিৎসায় তারা বড় হয়ে উঠুক।

তিনি বলেন, এই কৃষক পরিবার এখন কোথায় যাবে? আমার নানার দেশে তাদের বাড়ি। আমি অবশ্যই পরিবারটিকে দেখব।

গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের ঝিনিয়া গ্রামের রাজু মিয়ার স্ত্রী সাহিদা বেগম নিজ বাড়িতে শরীর জোড়া লাগানো অবস্থায় তৌফা-তহুরার জন্ম দেন।

কোমরের  জোড়া লাগানো শিশু দুটির সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই ছিল। তবে জন্ম থেকেই তাদের প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা একটি ছিল। গত বছরের অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রথমবার ঢামেক হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে তাদের পায়ুপথের রাস্তা পৃথক করা হয়। পরবর্তীতে গত ৩ আগস্ট বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুই বোনকে পৃথক করা হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাহনুর ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তোফা ও তহুরা ভাল আছে; অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিক খাওয়া দাওয়া করছে। গতকাল তোফা বসতে শিখেছে।

তবে তাদের আরও দুবার অস্ত্রোপচার করার প্রয়োজন হবে জানিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরে দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। এখন তাদের পুর্নবাসনের প্রয়োজন। তাই তাদের বাবা-মার নামে ডাচ বাংলা ব্যাংকে একাউন্ট খোলা হয়েছে।

চিকিৎসকদের দেয়া নতুন জামা, চুড়ি, জুতা, আর মাথায় ব্যান্ড পরা তৌফা-তহুরাকে দুটি পুতুল বলে মনে হচ্ছিল। তাদের মা সাহিদা বেগম পরেছিলেন চিকিৎসকদের দেয়া নতুন শাড়ি, বাবা রাজু মিয়া পরেছিলেন নতুন লুঙ্গি-শার্ট।

দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম তাদের বিদায় জানান। এ সময় তাদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকগণসহ  ঢামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন।

কেআই/ডব্লিউএন

 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি