ঢাকা, শনিবার, ২১ জুলাই, ২০১৮ ২:২১:৫৯

Ekushey Television Ltd.

চার বছর হিমঘরে থাকার পর কবর পাচ্ছে নীপার লাশ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৪:১৫ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০১৮ বৃহস্পতিবার

প্রেমের টানে ঘর ছেড়েছিলেন নীলফামারীর নীপা রানী রায় (২০) ও হুমায়ুন ফরিদ লাজু (২৩)। হিন্দু থেকে মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে হোসনে আরা লাইজু নামও নিয়েছিলেন নিপা। তারা বিয়েও করেছিলেন। আবার বিষপানে আত্মহত্যারও পথ বেছে নিয়েছিলেন তারা। আইনি জটিলতায় বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত লাইজুর লাশ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলের হিমঘরেই থেকে যায়। অবশেষে চার বছর মর্গে (হিমঘরে) থাকা ধর্মান্তরিত লাইজুর লাশ মুসলিম রীতিতে দাফনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি হোসনে আরা লাইজুর দাফনের পূর্বে তার (লাইজু/নীপা) পরিবারকে (মা-বাবাকে) দেখার সুযোগ করে দিতে জেলা প্রশাসক (ডিসিকে) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এক আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর একক বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতে মেয়ের বাবার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সমীর মজুমদার। অন্যদিকে ছেলের বাবার পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ কে এম বদরুদ্দোজা।

মামলার বিবরণী অনুসারে, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বামুনিয়া ইউনিয়নের খামার বমুনিয়া গ্রামের অক্ষয় কুমার রায়ের মেয়ে নীপা রানী রায়ের (২০) সঙ্গে একই উপজেলার পূর্ব বোড়াগাড়ী গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে হুমায়ুন ফরিদ লাজুর (২৩) প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর তারা পালিয়ে যান। এরপর নীপা রানী রায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ও মোছা. হোসনে আরা বেগম লাইজু নাম নেন। নীলফামারী নোটারি পাবলিক ক্লাবের মাধ্যমে অ্যাভিডেভিটে দুই লাখ ১ হাজার ৫০১ টাকা দেনমোহরে হুমায়ুন ফরিদ লাজুকে বিয়ে করেন তিনি।

এরপর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন। এ অবস্থায় মেয়েটির বাবা অক্ষয় কুমার রায় ২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর বাদী হয়ে নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে। মামলার পর তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ের সব কাগজপত্রসহ আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দি দেন। পরে আদালত সার্বিক বিবেচনায় অপহরণ মামলাটি খারিজ করে দেন।

পরে ২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারি লাইজুর স্বামী হুমায়ূন ফরিদ ওরফে লাজু ইসলাম বিষপান করে আত্নহত্যা করেন। লাজুর আত্নহত্যার বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করে লাইজুর বাবা তাকে নিজের জিম্মায় নিতে আদালতে আবেদন করেন। আদালত তা মঞ্জুর করলে ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি মেয়েকে নিয়ে বাবা তার বাড়িতে চলে যান। তবে মেয়েকে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও মস্তিস্ক বিকৃতি (পাগল) দাবি করে আদালতে দায়ের করা মামলাটি চলমান থেকে যায়।

২০১৪ সালের ১০ মার্চ কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেন নীপা। পরে ডোমার থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মেয়েটির লাশ উদ্ধার করে নীলফামারী জেলার মর্গে নিয়ে ময়নাতদন্ত করে।

এরপর পুত্রবধূ দাবি করে তার শ্বশুড় জহুরুল ইসলাম ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক নীপার দাফন ও মেয়েটির বাবা অক্ষয় কুমার রায় হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে মেয়ের সৎকারের জন্য নীলফামারী জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন।

আদালতে উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে লাইজুর লাশ তার শ্বশুরের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে লাইজুর বাবা আপিল করেন। এরপর জজ আদালত লাইজুর লাশ তার বাবার কাছেই হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন তার শ্বশুর। বৃহস্পতিবার সেই আবেদনের নিষ্পত্তি করে আদালত আদেশ দেন।

একে// এআর

ফটো গ্যালারি



© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি