ঢাকা, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২০:০৬:৫২

জাতিসংঘের বৈঠকে যাচ্ছেন না সু চি

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০২:০৮ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার

জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ সভায় যোগ দেবেন না মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি। বুধবার সু চির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) এক মুখপাত্র এ তথ্য জানান। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের ‘গণহত্যা’-সংক্রান্ত খবরে সারা বিশ্ব যখন শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চির ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ও সমালোচনামুখর, ঠিক তখনই মিয়ানমার এ সিদ্ধান্তের কথা জানাল।


সু চির মুখপাত্র অং শিন বলেন, ‘সম্ভবত’ তাঁর হাতে আরও জরুরি কাজ রয়েছে, তাই তিনি যেতে পারছেন না। তবে সমালোচনার মুখোমুখি হতে বা পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে তিনি কখনও ‘ভয় পান না’। আগামী ১৯ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদফতরে বার্ষিক এই সাধারণ অধিবেশন বসছে।


বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ দেওয়ার জন্য এই সঙ্কটের কথা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তুলবেন বলে আগেই জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে দশকের পর দশক ধরে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে রয়েছে। গত ২৪ অগাস্ট রাতে রাখাইনে পুলিশ পোস্ট ও সেনা ক্যাম্পে হামলার ঘটনার পর দমন-পীড়নের মুখে নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল চলছে বাংলাদেশ সীমান্তে।  


জাতিসংঘ কর্মকর্তারা জানান, এরই মধ্যে তিন লাখ ৭০ হাজারের বেশি রাহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। তাদের এই সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।


সেনাবাহিনী কীভাবে গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে গুলি করে মানুষ মারছে, ঘরের ভেতরে আটকে রেখে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, লুটপাট করে গ্রামের গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে এই বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে পালিয়ে আসাদের কথায়। অন্যদিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই’ হিসেবে বর্ণনা করেছে দেশটি। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন গ্রামে হামলার জন্য রোহিঙ্গাদেরই দায়ী করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার রাখাইনের ঘটনাপ্রবাহকে চিহ্নিত করেছেন জাতিগত নির্মূল অভিযানের একটি ‘ধ্রুপদী উদাহরণ’ হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

//আর//এআর

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি