ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭ ৩:১৯:১৯

জিম্বাবুয়েতে সেনা অভ্যূত্থান!

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১২:০৭ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ১২:৪৩ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৭ বুধবার

জিম্বাবুয়েতে গত কয়েকদিনের ঘটনা কি সেনা অভ্যুত্থানের ইঙ্গিত বহন করছে, এমন প্রশ্ন জিম্বাবুয়ের নাগরিকদের। গত সপ্তাহধরে সেনাবাহিনী ও প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য ও সেনাবাহিনীর অস্বাভাবিক হস্তক্ষেপে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়েছে দেশটির নাগরিকরা। এরই মধ্যে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দখল করে নিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

সরকার ও সেনাবাহিনীর তরফ থেকে স্পষ্ট করে কিছু না বলায়, জিম্বাবুয়েবাসীর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। রাস্তায় লোকজন বের হচ্ছেন না। দোকানগুলোও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র তার দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে। এমন অবস্থায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সেনা অভ্যুত্থান কি ঘটেই গেল?

গত মঙ্গলবার রাতে জিম্বাবুয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দখল করে সেনা কর্মকর্তারা। পরে ওই টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে সেনাবাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্তা দাবি করেন, দুর্নীতিগ্রস্থদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে তারা অভিযানে নেমেছেন। মুগাবে নয়, তাদের অভিযান দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে।

টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে ও তার স্ত্রী নিরাপদে রয়েছেন। দুর্নীতিগ্রস্থদের পাকড়াও করার পরই তারা অভিযান শেষ করবে।

নিউইয়র্ক টাইমসের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য ‘ক্যু’র বিষয়ে জানতে তথ্যমন্ত্রী সায়মন খায়া ময়োর সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে, ময়ো বলেন, “আমি কি বলবো? আমি কিছু বলতে পারবো না।”

গত সপ্তাহের শুরুর দিকে মুগাবে তার সরকারের ভাইস-প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগাকে বরখাস্থ করলে জিম্বাবুয়েতে উত্তেজনা দেখা দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, মুগাবে তার স্ত্রী গ্রেসকে তার স্থলাভিষিক্ত করতে চান। তবে এটা দলের অনেকেই মেনে নিতে পারছে না। এমনকি সেনাবাহিনীও বিষয়টিতে জড়িয়ে পড়েছে।

গত সোমবার প্রতিরক্ষা বিভাগের কমান্ডার জেনারেল কনস্টেনাইন চিওয়েনগা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “দেশের গণঅভ্যুত্থানের উপর আঘাত আসলে সেনাবাহিনী বসে থাকবে না। সেনাবাহিনী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দ্বিতীয়বার ভাববে না।” এতে অভ্যুত্থানের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

এদিকে অভ্যুত্থানের শঙ্কার মধ্যেই জনগণের উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী ও রবার্ট মুগাবের কেউ বক্তব্য না দেওয়ায় সেখানে ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

এমজে/এমআর


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি