ঢাকা, শনিবার, ২৬ মে, ২০১৮ ১৬:০৫:২৪

Ekushey Television Ltd.
বিশ্ব ভালবাসা দিবস

ডিজিটাল ভ্যালেনটাইন’স ডে

শাওন সোলায়মান

প্রকাশিত : ১১:৫৮ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ১২:০০ এএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বুধবার

রাত পোহালেই বিশ্ব ভালবাসা দিবস। অনেকের কাছেই যা ভ্যালেন্টাইন’স ডে নামে বেশি পরিচিত। কালের পরিক্রমায় সেই ভালবাসা দিবস আজ উদযাপিত হচ্ছে প্রযুক্তির কল্যাণে। মুঠোফোন এবং ইন্টারনেটের আশীর্বাদে ভালবাসার বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পরবে সর্বত্র। ভালবাসার মানুষকে খুঁজে পাওয়াসহ আবেগীয় সেই মুহুর্তগুলো ভাগাভাগিও করে নেওয়া হচ্ছে ভার্চুয়াল জগতে। আজকের এই পর্বে পাঠকদের জানাবো ডিজিটাল ভালবাসার হালচিত্র।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভালবাসা

ভালবাসা উদযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। ফেসবুক, টুইটার, স্ন্যাপচ্যাট, ইন্সটাগ্রামের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রতি মুহুর্তে বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে মানব জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আবেগের। তবে প্রেম-ভালবাসার আবেগগুলোকে আদান-প্রদানের আগে ভালবাসার মানুষটিকে তো পেতে হবে, তাই না? মনের সেই মানুষটিকে খুঁজে পেতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সামাজিক মাধ্যমগুলো।

ফেসবুক বা টুইটারে যোগাযোগের সূত্র ধরে প্রতিদিনই নিত্য নতুন মানুষের সাথে যোগাযোগের সুযোগ হচ্ছে আমাদের। আমাদের চারপাশে একটু কান পাতলে অনেক সম্পর্কের কথা এখন শোনা যায় যেগুলোর সূত্র হয়েছে এই ভার্চুয়াল জগতে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কল্যাণে এখন সহজেই খুঁজে নেওয়া যাচ্ছে প্রিয় মানুষটিকে। একে অপরকে খানিকটা যাচাইও করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তরুণ জনগোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ করা বেশকিছু ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপেও ভালবাসার মানুষটিকে খুঁজে পাওয়ার বিভিন্ন উদ্যোগ দেখা যায়। ফেসবুক গ্রুপ ড্যু সামথিং এক্সেপশনাল বা ডিএসই’তে মাঝে মাঝেই আয়োজন করা হয় ‘ম্যাচ মেকিং’ এর। নিজের বিষয়ে বর্ণনা দিয়ে আগ্রহী ব্যক্তি এখানে খুঁজে পেতে পারেন তার মনের মত সঙ্গী বা সঙ্গিণীকে। এ বিষয়ে এই গ্রুপটির অ্যাডমিন জেবিন ইসলাম বলেন, “যদিও আমাদের গ্রুপের মূল কাজ ম্যাচ মেকিং না। তবে যেহেতু সাধারণকে সাহায্যের উদ্দেশ্য নিয়ে এই গ্রুপটি খোলা হয় সে উদ্দেশ্য থেকেই যারা বিয়ের জন্য সঙ্গী বা সঙ্গিণী খুঁজছেন তাদের জন্য আমাদের এই উদ্যোগ। কোন ম্যারেজ মিডিয়া বা অন্য কোন মাধ্যমে গেলে এর জন্য অর্থ ব্যব করতে হয়। কিন্তু ডিজিটাল এই মাধ্যমে কারও কোন অর্থ ব্যয় করতে হয় না। আর বর্তমান সময়ে এক জন মানুষের ডিজিটাল বায়োডাটা হচ্ছে তার ফেসবুক বা টুইটার প্রোফাইল। তাই ডিজিটাল মাধ্যম থেকেও ঐ মানুষটির ব্যাপারে বেশ কিছু ধারণা পাওয়া যায়”।

‘আত্মার সঙ্গী’ বা সৌলমেট খুঁজে নেওয়ার জন্য আছে আরেক বিশেষায়িত গ্রুপ। নাম ডিসকাশন ফর সেলেকটিং সৌলমেট বা ডিএসএস। দুই লাখের বেশি সদস্য বিশিষ্ট এই গ্রুপ থেকেও অনেকে খুঁজে নিচ্ছেন নিজের ভালবাসার মানুষটিকে। গ্রুপের অ্যাডমিন কামরুল হাসান ইমন বলেন, “আমাদের গ্রুপ থেকে অনেকেই ‘একলা’ থেকে ‘দোকলা’ হয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তারা এখন পর্যন্ত ভালো আছেন বলেই জানি। অনেক সম্পর্কই বিয়ে পর্যন্তও গড়িয়েছে। একে অপরের থেকে দূরে থেকেও কাছাকাছি থাকার এক অনুভূতি পাওয়া যায় ভার্চুয়াল জগতে। যদিও তা হয়তো বাস্তবের আবেগের মত না”।

অ্যানালগ দুনিয়ায় যাদের দিনের পর দিন দেখা হয় না তাদের জন্য এক আশীর্বাদ এই ভার্চুয়াল দুনিয়া। হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও দেখা হতে পারে নিজেদের মধ্যে। তাৎক্ষণিক বার্তা আদান প্রদান করা ছাড়াও ছবি বা ভিডিও আদান প্রদান করা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে।

ওয়ান টু ওয়ান চ্যাট

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো যেমন অনেকটা খোলামেলা তেমনি একান্তে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য আছে কিছু ওয়ান টু ওয়ান চ্যাট অ্যাপস। ফেসবুক মেসেঞ্জারের পাশাপাশি হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবার, ইমো, উই চ্যাটসহ বেশকিছু জনপ্রিয় চ্যাট অ্যাপসের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে বার্তা আদান প্রদান করা যায়। কোন ধরণের মোবাইল বিল ছাড়া শুধু মাত্র ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে ফোনালাপ করা যায় এসব অ্যাপসগুলোতে। আরও আছে ভিডিও কলিং এর সুবিধা। এসব সুবিধা ও ফিচারের কারণে দুই জন ব্যক্তি খুব সহজেই একে অপরের কাছাকাছি চলে আসতে পারছে। তবে অবশ্যই ভার্চুয়াল জগতে।

সঙ্গী খোঁজার অ্যাপস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও যদি কেউ তার পছন্দের সঙ্গী খুঁজে না পান তাহলে এখনই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তাদের জন্য আছে কিছু বিশেষ অ্যাপস। এসব অ্যাপসের সাহায্যে মোবাইল দিয়েই পেয়ে যেতে পারেন আপনার মনের মানুষটিকে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হল অক্যুপিড, টিন্ডার, ওও, ট্রুলিম্যাডলি, বাম্বুল, হটঅরনট, হিটচ ইত্যাদি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের থেকে এগুলোর মৌলিক পার্থক্য এই যে, যারা সঙ্গির সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ বা ডেট করতে চান তারা মূলত এসব অ্যাপস বেশি ব্যবহার করে থাকেন। এসব অ্যাপসের মাধ্যমে দেশের সীমানার বাইরেও খুঁজে পেতে পারেন আপনার স্বপ্নের রাজকুমার অথবা রাজকুমারীকে।

ভার্চুয়াল ও বাস্তবতার মিলন

আপনি চাইলে এবারের ভ্যালেন্টাইন’স ডে’কে ভার্চুয়াল ও বাস্তবতার মিলনে রাঙ্গিয়ে তুলতে পারেন। একে অপরের দূরে থেকেও একে অপরের কাছে ভালবাসার নিদর্শনসরুপ পাঠাতে পারেন উপহার। আপনি যে শহর বা দেশে বাস করেন তার বাইরেও যদি আপনার ভালবাসার মানুষটি থেকে থাকে তাহলেও তার কাছে পৌছে দিতে পারেন আপনার ‘ভালবাসা’। আর মজার বিষয় হচ্ছে এবার তা শুধু ভার্চুয়াল বা ডিজিটাল মাধ্যমে হবে না। এতে থাকবে নিখাঁদ বাস্তবতার ছোঁয়া। বিভিন্ন অনলাইন শপ আছে যারা আপনার উপহার সামগ্রী সরাসরি পৌছে দেবে আপনার সঙ্গির হাতে। চাইলে সেসব উপহার সামগ্রীও কিনে নিতে পারেন সেখান থেকে। শুভেচ্ছা কার্ড থেকে চকলেট পাঠাতে পারেন অনেক কিছু। এমনকি বই বা ফুলও। ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় ই-শপ ইটিসি ওয়্যারহাউসের সত্ত্বাধিকারী আমিন উদ্দীন সাগর বলেন, “এবারের ভালবাসা দিবসে সবথেকে বেশি অর্ডার পাচ্ছি ম্যাজিক মগের। অনেক কাপলই তাদের ছবি দিয়ে বানিয়ে নিচ্ছেন এসব ম্যাজিক মগ। এছাড়াও ঘড়ি, টেডি বিয়ারসহ আরও বেশ কিছু পণ্যের অর্ডার করছেন গ্রাহকেরা”।

প্রিয় ভ্যালেনটাইন দূর নক্ষত্র মাঝে থেকে বুঝি এই ‘ডিজিটাল ভালবাসা’ দেখছেন আর তৃপ্তির হাসি হাসছেন। ভার্চুয়াল মাধ্যমে ডিজিটাল ভালবাসা বিনিময় করা সকলের জন্য রইল “হ্যাপি ডিজিটাল  ভ্যালেনটাইন’স ডে”

       



© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি