ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭ ৩:১৯:৫৩

তারুণ্যের প্রাণের বন্ধন ডিএসএস

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০১:৪৮ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ১২:৩৪ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৭ শনিবার

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন আর নিতান্ত সময় ক্ষেপণের জায়গা নয়। এগুলো হয়ে উঠেছে বিনোদন, প্রয়োজন এবং সামাজিক নেটওয়ার্কিংয়ের এক অনন্য মাধ্যম। আর তাই দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফেসবুকে জনপ্রিয় তেমনি এক গ্রুপ ডিসকাশন ফর সিলেকটিং সৌলমেট বা ডিএসএস। আগামী ১৭ নভেম্বর উদাযাপিত হবে গ্রুপটির ২য় বর্ষপূর্তি। জনপ্রিয় এই গ্রুপের ডিএসএস এডমিন কামরুল হাসান ইমন ও মডারেটর ফয়সাল রহমান একান্ত আলাপচারিতায় অংশ নেন ইটিভি অনলাইনের সঙ্গে। তরুণদের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ইটিভি অনলাইনের সহ-সম্পাদক সোলায়মান হোসেন শাওন

ইটিভি অনলাইন: ডিএসএস গ্রুপের শুরুটা কীভাবে হল?

ইমনঃ ২০১৫ সালের দিকে আমি এবং মাশহারুল হুদা আনান ভাই (গ্রুপের একজন এডমিন) একদিন আড্ডার ছলে আলোচনা করছিলাম যে, ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপ আছে কিন্তু ‘সৌলমেট’ বিষয়ে কোন গ্রুপ নেই। আমরা একটা গ্রুপ খোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলাপ করলাম যে, এমন একটি গ্রুপ খোলা যায় কী না। প্রাথমিকভাবে সম্মত হলেও বিষয়টিকে ভালোভাবে শুরু এবং এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে আমাদেরকে অনেক চিন্তা ভাবনা করতে হয়েছে। বিশেষত গ্রুপটা যেন পরবর্তীতে বিতর্কিত না হয় সে লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে কী কী বিষয়ে কাজ করতে হবে তা নিয়ে দীর্ঘ আলাপ আলোচনা হয়। শুরুতে আমাদের এক বন্ধু আহমেদ শাকুর রনি ছিল। তবে সে সময় দিতে না পারায় এডমিন প্যানেলে তাকে রাখা হয়নি। পরবর্তীতে এডমিন হিসেব যুক্ত হন নাহিয়ান ববি। মূলত এভাবেই আমাদের গ্রুপের শুরুটা হয়।

ইটিভি অনলাইনঃ শুধুই কী সৌলমেট? নাকি আরও কিছু...

ইমনঃ গ্রুপটার প্রধান থিম ছিল সৌলমেট। তবে সৌলমেট তো বললেই হয়ে যায় না। বন্ধুত্ব, নেটয়ার্কিং এবং সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করাও ছিল আমাদের প্রধান উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম। ফেসবুক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সচরাচর একটি অভিযোগ শোনা যায় যে, মানুষ ফেসবুকে সময় নষ্ট করে। আমরা চিন্তা করলাম এই নষ্ট করা সময়টাকেও কীভাবে একটা ভালো কাজে লাগানো যায়। সময় নষ্ট হলেও যেন ভাল কাজে হোক। মূলত এসব চিন্তাভাবনাকে সামনে রেখেই গ্রুপটা চালু করা।

ইটিভি অনলাইনঃ ডিএসএস মূলত কী? এখানে কী ধরনের কাজ হয়? আর একজন গ্রুপ মেম্বার কী করেন এখানে?

ইমনঃ ডিএসএস মূলত একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সৌলমেট বন্ধু এবং এমন মানুষকে খুঁজে পাওয়া যাবে যাদের সঙ্গে আপনি আত্মার সম্পর্ক গড়তে পারবেন। এর বাইরেও বন্ধু এবং যোগাযোগ বৃদ্ধিরও একটি মাধ্যম এটি। কারো অবসর কিংবা একাকী সময়গুলোকে এখানে সবার সঙ্গে ভাগ করে কাটাতে পারেন। তৈরি করতে পারেন নতুন নতুন বন্ধু বা বন্ধু মহল। মূলত ডিএসএস সুস্থ বিনোদনের একটি জায়গা। এখানে আপনি সৌলমেট পান বা না পান বিনোদিত হতে পারবেন। ভার্চুয়াল বা বাস্তব আড্ডায় অংশ নিয়ে সবার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেন। প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগটাও থেকে যাচ্ছে।

ইটিভি অনলাইনঃ এডমিন প্যানেলের কাছেই জানতে চাই, ‘সৌলমেট’ এর অর্থ কী? কে কার সৌলমেট?

ইমনঃ সৌলমেট বলতে আমরা বুঝি এমন ব্যক্তি যে আমাদের সঙ্গে আত্মার সঙ্গে জড়িত। সে হতে পারে আমাদের স্বামী কিংবা স্ত্রী, বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা বন্ধু। আসলে সৌলমেট সেই ব্যক্তি যার সঙ্গে আমরা আমাদের সবকিছু ভাগাভাগি করে নিতে পারি। অনেক সময় দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক অনেক ভালো থাকার পরেও কোনো একটা বিষয় একে অপরের সঙ্গে শেয়ার করা যায় না। কিংবা বাবা-মা অনেক ভালো বন্ধু হলেও তাদের সঙ্গে শেয়ার করা যায় না। এমন পরিস্থিতিতে যে মানুষটির সঙ্গে আমরা নির্দ্বিধায় সবকিছু শেয়ার করে নিতে পারি তিনিই আমাদের সৌলমেট। সৌলমেট এমন এক ব্যক্তিও হতে পারে যার সঙ্গে আমাদের পারিবারিক কিংবা পেশাগত সম্পর্ক নেই। খুব অল্প সময়েও এমন কোনো ব্যক্তি আমাদের সৌলমেট হয়ে যেতে পারেন। বিষয়টা নির্ভর করে কার বা কাদের সঙ্গে আমাদের বোঝাপরা ভালো এবং আস্থার জায়গাটা দৃঢ়।

ইটিভি অনলাইনঃ জানতে চাই এতদিনের পথ চলাটা কেমন ছিল? একটি গ্রুপকে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করা কীভাবে সম্ভব হল?

ইমনঃ শুরু থেকেই বিষয়টা খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল। ফেসবুকে অনেক বিতর্কিত গ্রুপ আছে। আমাদের শুরুতেই চ্যালেঞ্জটা ছিল আমরাও যেন তেমন বিতর্কে না পরি অথবা আমাদেরকে যেন তাদের মত মনে করা না হয়। তাই শুরু থেকেই আমরা গ্রুপের একটা গুণগত মান এবং স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখতে কাজ করে গেছি। খুবই কঠোরভাবে গ্রুপের নীতিমালা মেনে কাজ করতে হয়েছে। এজন্য কৃতিত্বের দাবিদার আমাদের পুরো এডমিন প্যানেল। অতিসম্প্রতি আমাদের মডারেটর ফয়সাল রহমান যুক্ত হয়ে এ কাজটিকে আরও সুশৃংখলভাবে এগিয়ে নিয়ে যান। সবাই যেন গ্রুপের নীতিমালা ঠিকঠাক মেনে চলে তার তদারকিতে তার ভূমিকা অনন্য। এর বাইরেও আমাদের গ্রুপকে বিতর্কিত করতে অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সবকিছুর পরেও এখন পর্যন্ত গ্রুপটি ভালোভাবেই চলছে। আমাদের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে অনেক হুমকি দেওয়া মেসেজ বা ফোন কল পাই আমরা। তবুও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আর এ কৃতিত্বের অন্যতম দাবিদার আমাদের গ্রুপের সদস্যরা। আমাদের প্রতি তাদের আস্থা এবং গ্রুপের প্রতি ভালবাসাই আমাদেরকে এক বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখছে।

ইটিভি অনলাইনঃ গ্রুপের মেম্বারদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন অথবা বিয়ে হওয়ার ঘটনা ঘটছে কী?

ইমনঃ এ সংখ্যাটা আসলেই অনেক চমকপ্রদ। গত ২ বছরে আমরা অন্তত ২০টি বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়েছি আমরা। সংখ্যাটা বাস্তবে আরও বেশি। কারণ অনেকেই বিয়ে করছেন সীমিত পরিসরে। তখন আমরা সেগুলো জানতে পারি না। তবে এই ২০টি সংখ্যাও একেবারে কম না। এর বাইরে বেশ কিছু সফল সম্পর্ক হতে দেখেছি আমরা। আর এসব বিয়ে বা সম্পর্ক আমাদের গ্রুপ সদস্যদের মধ্যেই হচ্ছে।

ইটিভি অনলাইনঃ আলাপ করা যাক ফয়সাল ভাই আপনার সঙ্গে। আপনাকে গ্রুপের ‘পুলিশিং’ এর কাজ করতে দেখা যায়। অনেকে আপনাকে গ্রুপের ‘পুলিশ’ বলে। আপনি কী মনে করেন?

ফয়সালঃ আসলে আমি কোন পুলিশ-ফুলিশ না ভাই (হাসতে হাসতে)। ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে সক্রিয় থাকলেও এই গ্রুপটার প্রতি একটা ভাললাগা কাজ করত শুরু থেকেই। কারণ সব গ্রুপের মধ্যে এটাকে অনেক পরিচ্ছন্ন মনে হয়েছে। একজন সাধারণ সদস্য হিসেবেই তাই শুরু থেকে গ্রুপের নিয়মের বাইরে কিছু দেখলে রিপোর্ট করতাম অথবা এডমিন প্যানেলকে জানাতাম। এমন করতে করতেই একদিন এডমিন প্যানেলে প্রবেশের সুযোগ পেলাম।

আর নিয়ম-নীতির ব্যাপারে বললে এটাই বলব যে, যেকোনো জিনিস নিয়মের মধ্যে থাকলে ভালো থাকে। তাই গ্রুপটাকে সাবলীলভাবে চালিয়ে নিতে আমাদের কিছু নিয়ম-নীতির দিকে নজর রাখতে হয়। কারণ ডিএসএস আর দশটা গ্রুপের মত না। এর একটি নিজস্ব স্বকীয়তা আছে। এখানে যেন সবাই কোন ধরনের হয়রানি ছাড়া সক্রিয় থাকতে পারেন তা নিশ্চিত করাই আমাদের কাজ।

ইটিভি অনলাইনঃ ফেসবুকের অনেক গ্রুপেই মেয়েদের হয়রানি হতে দেখা যায়। এ ব্যাপারে ডিএসএস’র অবস্থান কী?

ইমনঃ নারীদের সম্মান প্রদানে আমরা সব থেকে বেশি সতর্ক। এমন কোনো পোস্ট কিংবা মন্তব্য যা কোন নির্দিষ্ট নারী কিংবা নারী শ্রেণীকে আঘাত করে বা তাদেরকে নিচু স্থানে দেখায়, সেসব নারী আমাদের গ্রুপের সদস্য হোক বা না হোক, আমরা তা সঙ্গে সঙ্গে মুছে দিই। আর যে বা যারা এমন পোস্ট বা মন্তব্য করেন তাদেরকে সরাসরি গ্রুপ থেকে ব্যান করে দেই। শুধু গ্রুপেই না, আমাদের কোন সদস্য অপর কোনো নারী সদস্যকে ব্যক্তিগত মেসেজের মাধ্যমে হয়রানি করছেন বলেও যদি আমরা প্রমাণ পাই তাহলে তাকেও গ্রুপ থেকে বের করে দেয়া হয়। নারীদের হেনস্তা করা আমরা কোনভাবেই সহ্য করি না। আর এসব কারণে অন্য অনেক গ্রুপের থেকে আমাদের গ্রুপে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখ করার মত।

ফয়সালঃ যখনই আমরা আমাদের ব্যক্তিগত মেসেজ কিংবা গ্রুপে কোন নোটিফিকেশন দেখি যে, কোনো ব্যক্তি কোন নারী সদস্যকে হয়রানি করছেন আমরা সাথে সাথে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই। গ্রুপ সদস্যদের জোরালোভাবে আমরা বলে দেই, গ্রুপের কোন সদস্যের এমন কর্মকান্ড দেখলে আমাদেরকে যেন জানানো হয়।

ইটিভি অনলাইনঃ গ্রুপের সদস্য মূলত কারা? আর সদস্য সংগ্রহ প্রক্রিয়াই বা কেমন?

ফয়সালঃ আমাদের গ্রুপের সদস্য মূলত সবাই। আর আমরা মূলত সদস্য ‘সংগ্রহ’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ করি না। বরং যারা আমাদের গ্রুপের সদস্য হতে আগ্রহী তারাই আমাদের গ্রুপে সদস্য হতে চেয়ে আবেদন করেন। আমরা কিছু বিষয়কে সামনে রেখে তখন সেসব আবেদন গ্রহণ করি অথবা বাতিল করি। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে যে, যে ফেসবুক আইডি থেকে আবেদন জানানো হয়েছে তা আপাত দৃষ্টিতে ফেক বা ভুয়া মনে হয় কী না। অন্যদিকে ২০১৭ সালের মধ্যে যেসব ফেসবুক আইডি খোলা হয়েছে সেসব আইডি থেকে আসা কোন আবেদন গ্রহণ করি না।

আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন বলে মনে করছি। আমাদের গ্রুপের সদস্য হতে কোন নির্দিষ্ট শ্রেণীর হতে হয় না। আমাদের গ্রুপে বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর সদস্য আছে। অনেক সেলিব্রেটিও আছেন। আমাদের গ্রুপের সদস্য পদ বহাল রাখতে আপনাকে যা করতে হবে তা হল গ্রুপের নিয়ম-নীতি মেনে গ্রুপে কার্যক্রম চালাতে হবে।

ইটিভি অনলাইনঃ গ্রুপের ২ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। সদস্য সংখ্যাও ২ লাখের বেশি। কেমন অনুভূতি হচ্ছে? কোনো বিশেষ পরিকল্পনা দিনটিকে নিয়ে?

ইমনঃ আসলেই অনুভূতি তো অনেক ভাল। গ্রুপটাকে ঘিরে এত সময় এবং শ্রম দেওয়াকে সার্থক মনে হয়। ২ লাখ সদস্য অবশ্যই একটি বড় অর্জন। আর আগের বারের মত এখনও এটাই বলব যে, এর পিছনে আমাদের সদস্যদের অবদানই বেশি। আমরা হয়তো নিয়ম-নীতি নিয়ে একটু বেশিই কঠোর তবে তারা আরও সহনশীল। সহনশীল বলেই আমাদের সঙ্গে আছেন তারা।

আর আগামী ১৭ নভেম্বর শুক্রবার ধানমণ্ডির সেলিব্রেশন কনভেনশন সেন্টারে একটি ‘গেট টু গেদার’ বা মিলনী এর আয়োজন করা হয়েছে। গ্রুপ সদস্যদের নিয়ে আমাদের এ আয়োজন। এ দিন আমরা শুধু আমাদের জন্মদিনই না বরং ‘সৌলমেট ডে’ এরও উদযাপন করা হবে। আড্ডা, গেম শো, সংগীত অনুষ্ঠান, ডিজে শো এবং কেক কেটে আমাদের সদস্যদের নিয়ে দিনটি উদযাপন করব। এর বাইরে কিছু সেলিব্রেটি অতিথিও থাকবেন।

ইটিভি অনলাইনঃ ‘সৌলমেট ডে’? এমন কোনো দিন কী আছে?

ইমনঃ সৌলমেট ডে বলতে আসলে কোন দিন নেই। তবে আমরা চেষ্টা করছি নভেম্বর মাসের তৃতীয় শুক্রবার ‘সৌলমেট ডে’ হিসেবে পালন করতে। আর এ দিনটি যেন ‘সৌলমেট’ হিসেবে বিশ্বের অন্যান্য জায়গায়ও উদযাপিত হয় সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশে অবস্থিত বেশ কিছু দেশের হাইকমিশনের সঙ্গে এরইমধ্যে যোগাযোগ করেছি। বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রক্ষা করছি। আমাদের গ্রুপের জন্মদিনও তাই নভেম্বর মাসের তৃতীয় শুক্রবার উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।

ইটিভি অনলাইনঃ গ্রুপটির আগের নাম ছিল ডেসপারেটলি সিকিং সৌলমেট। নাম পরিবর্তন করে রাখা হল ডিসকাশন ফর সিলেক্টিং সৌলমেট। এর কারণ কী?

ইমনঃ আগের নামটি থাকার সময় আমরা লক্ষ্য করলাম কিছু সদস্য তাদের জীবনে সৌলমেট খুঁজে পেতে খুব ডেসপারেট বা মরিয়া আচরণ করেন। “ডেসপারেটলি” শব্দটাকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছিল কী না বোঝা যাছিল না। সৌলমেট নির্ধারণে যে আলাপ আলোচনার দরকার হতে পারে এই দিকটিকেও বোঝাতে চেয়েছি আমরা। শুধু সৌলমেট নির্ধারণেই না বরং আমাদের প্রতিদিনকার ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোর কোনো বিষয়ে সদস্যরা এখানে আলোচনা করতে পারেন। কোনো সমস্যা মনে হলে তা নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হতে পারে এখানে। এসব বিষয় বোঝানোর জন্যই নাম পরিবর্তন করা। এছাড়াও আমাদের সাফল্যকে পুজি করে অনেক ফেক বা ভুয়া গ্রুপ খোলা হচ্ছিল আমাদের আগের নাম দিয়ে। সে কারণেও নতুন নামকরণ করা হয় গ্রুপের।

ইটিভি অনলাইনঃ গ্রুপ নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

ইমনঃ গ্রুপটাকে আরও বড় হতে দেখতে চাই। সবাই গ্রুপটাকে আরও সফল হতে সাহায্য করবে এটাই আশা। আমরা গ্রুপ থেকে কিছু সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করি। যেমন শীত বস্ত্র বিতরণ, পথ শিশুদের একবেলা খাওয়ানো ইত্যাদি। এখন এ কাজগুলো সীমিত পরিসরে করছি আমরা। গ্রুপ বড় হলে এ কাজগুলোও বড় পরিসরে করতে পারব এমনটাই পরিকল্পনা আমাদের।

ইটিভি অনলাইনঃ শেষ কথা...

ইমনঃ শেষ কথা এটুকুই বলব যে, আমাদের গ্রুপটাকে সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে সব সদস্যদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও আপনারা আমাদের প্রতি এমন ভালবাসা এবং আস্থা রাখবেন এমন আশা রইল। সদস্যদের প্রতি আমাদের গেট টু গেদারে অংশ নেবার অনুরোধ রইল। আশা করি সবার ভালো লাগবে।

ফয়সালঃ আর আমাদের কাজকে মূল্যায়ন করার জন্য ইটিভি অনলাইন এবং এর পাঠকদের প্রতি ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতেও আমাদের প্রতি তাদের এমন সাহায্য অব্যাহত থাকবে এই আশা রইল। 

//এস এইচ// এআর

 

 


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি