ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭ ৫:১২:১৪

তৃতীয় দিনের শেষটা বাংলাদেশের

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৬:৪৫ পিএম, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ১০:৪৫ পিএম, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার

আগের দিনের ধারাবাহিকতা বলে দিচ্ছিল তৃতীয় দিনটি বুঝি অষ্ট্রেলিয়ারই থেকে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে একটি সেশন ভেস্তে গেল। অষ্ট্রেলিয়া চালকের আসনে থাকায় অনেকে তাই কামনাও করেছিলেন বৃষ্টি আরো থাকুক না। তাহলে হয়ত দ্বিতীয় টেস্টটি ড্র হবে, সিরিজটা জেতা যাবে। তবে বৃষ্টি থামার পর আকাশটা হেসে ওঠে। ওদিকে জন্মদিনে জ্বলে উঠে মোস্তাফিজুর রহমান। আগের দিনের বাংলাদেশের রক্ষণাত্মক রূপ নিমিষেই আগ্রাসী হয়ে উঠে। তৃতীয় দিনের একেবারে শেষ মুহূর্তে অলআউট হয়ে যায় অষ্ট্রেলিয়া।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

(তৃতীয় দিন শেষে)

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসঃ ৩৭৭/৯ (রেনশ ৪, ওয়ার্নার ১২৩, স্মিথ ৫৮, হ্যান্ডসকম্ব ৮২, ম্যাক্সওয়েল ৩৮, কার্টরাইট ১৮, ওয়েড ৮, অ্যাগার ২২, কামিন্স ৪, ও`কিফ ৮*, লায়ন ০*; মোস্তাফিজ ৩/৮৪, মিরাজ ৩/৯৩, তাইজুল ১/৭৮, সাকিব ১/৮২)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসঃ ৩০৫/১০

আগের দিন মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে ২২৫ নিয়ে বুধবারের দ্বিতীয় সেশন থেকে খেলা শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। বিশাল কোনো রানের হাতছানি ছিল অষ্ট্রেলিয়ার। খেলার কিছু সময় অন্তত এর প্রতিফলনও দেখা দেয়। কারণ, বৃষ্টি শেষে দুপুরের দিকে খেলা শুরুর পর পিটার হ্যান্ডসকম্ব এবং ডেভিড ওয়ার্নার যেভাবে ব্যাটিং শুরু করেছিলেন, তাতে প্রথম ইনিংসেই অনেক বড় লিড দাঁড় করিয়ে ফেলবে মনে হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া।

কিন্তু হ্যান্ডসকম্ব রান আউট, মোস্তাফিজের ব্রেক থ্রু বাংলাদেশকে খেলায় ফিরিয়ে আনে। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ চেপে বসেন অস্ট্রেলিয়ানদের উপর। এর মধ্যে নিজের ক্যারিশমা অব্যাহত রাখেন মোস্তাফিজও। ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরিটা হলো বটে, এশিয়ান কুফাও কাটলো। দিনের শেষ দিকে এসে উইকেটের দেখা মেলে সাকিবেরও। সুতরাং, বলাই যায়- লিড পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তবে তৃতীয় দিনের শেষ অংশটা বাংলাদেশের বোলারদের।

অর্থাৎ অষ্ট্রেলিয়া লিড দিয়েছে ৭২ রানের। যদিও মিরাজ-সৌম্যরা ওভাবে ক্যাচ মিস না করলে আরো সন্তুষ্টি নিয়েই ফিরতে পারতেন টাইগাররা। মিরাজ ও মোস্তাফিজ ৩টি করে উইকেট নিয়ে দিনের হিরো দুই যুবা। কাটার মাস্টার ও অফি বিস্ময়। আর ৭টি উইকেট নিয়ে এটাকে তো বলতেই হয় টাইগারদের অসাধারণ ফেরা, যেটা হয়তো তেমন কল্পনাতেও ছিল না আগের দিনের বোলিং দেখে।

ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ছিলেন তিনি। দুই ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন। ব্যাট হাতেও প্রথম ইনিংসে ছিলেন সর্বোচ্চ স্কোরার। সেই সাকিব আল হাসান চট্টগ্রাম টেস্টে এসে যেন খানিকটা নিষ্প্রভ। তার বলগুলো বিপজ্জনকভাবে বাঁক খেয়ে অস্বস্তিতে ফেলছিল অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের; কিন্তু দুর্ভাগ্য তার উইকেটের দেখাই মিলছিল না। অবশেষে সাকিব সাফল্যের মুখ দেখলেন। অসাধারণ এক ঘূর্ণিতে ফেরালেন ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা অ্যাস্টন অ্যাগারকে।

ইনিংসের ১১৭তম ওভারের শেষ বলে উইকেটের অনেক বাইরে স্পাইক আর বুটের আঘাতে তৈরি হওয়া ক্ষতের উপর বল ফেলে টার্ন করান। সেটিই সোজা ভেতরে ঢুকে গিয়ে ভেঙে দেয় অ্যাগারের উইকেট। ৩৭৬ রানে পড়লো নবম উইকেট। ৩৫ বল খেলে অ্যাগার করলেন ২২ রান। দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ১১৯ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৭৭।

ডব্লিউএন

 

 

 


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি