ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ৩:১০:৫১

থ্রি ইডিয়ট স্টাইলে সন্তান প্রসব করাতে গিয়ে

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৪:০৭ পিএম, ৫ অক্টোবর ২০১৭ বৃহস্পতিবার

থ্রি ইডিয়টস সিনেমার দৃশ্যটি ছিল, ফোনে চিকিৎসকের নির্দেশ শুনে অস্ত্রোপচার করে সন্তান প্রসব করানো । ঠিক তেমনি এক বিরল ঘটনা ঘটে ভারতের ওড়িশার কেন্দাপাড়া জেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। রাঞ্চোরূপী আমির খানের কায়দাতেই ফোনে চিকিৎসকের নির্দেশ শুনে অস্ত্রোপচার করে সন্তান প্রসব করানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনজন নার্স।

 সিনেমায় চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে সফলভাবেই সন্তান প্রসব করাতে পেরেছিলেন রাঞ্চো ও তাঁর  সঙ্গীরা। কিন্তু ওই তিনজন নার্স পারলেন না। মারা গেল শিশুটি।

কেন হঠাৎ এভাবে ঝুঁকি নিয়ে সিনেমাটিক স্টাইলে প্রসব করাতে গেলেন ওই তিন নার্স? জানা গেল, এক চিকিৎসকের পরামর্শে আরতি সামাল নামে ওই প্রসূতিকে কেন্দাপাড়ার ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন তাঁর পরিবারের লোকেরা। কিন্তু যখন আরতিকে ভর্তি করা হয়, তখন হাসপাতালে ছিলেন না চিকিৎসক রেশমীকান্ত পাত্র। এদিকে ভর্তি হওয়ার পরই প্রসূতির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। তাই ফোনেই চিকিৎসকের নির্দেশ শুনে অস্ত্রোপচার করে সন্তান প্রসব করানোর সিদ্ধান্ত নেন হাসপাতালের তিন নার্স।

আর তাতেই ঘটে বিপত্তি। শিশুটিকে  বাঁচানো যায়নি, আবার  অদক্ষ হাতে অস্ত্রোপচারের ফলে প্রসূতির জরায়ুরও ক্ষতি হয়েছে।

নার্সরা যখন অস্ত্রোপচার করেছিল তখন হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন প্রসূতি  আরতি সামালের স্বামী কালপাত্রু সামাল। তিনি জানিয়েছেন, `আমরা ডা. রেশমীকান্ত পাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। তিনি আমার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন। ডাক্তার পাত্র জানিয়েছিলেন, তিনি হাসপাতালে নেই। তবে নার্সদের সঙ্গে কথা বলে আমার স্ত্রীর চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা করে দেবেন। কিন্তু, আমার স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পরও হাসপাতালে আসেননি ডাক্তার পাত্র ।আমি জানি না, কারা এই কাজ করেছে। তবে আমার স্ত্রীর অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং আমাদের প্রথম সন্তান মারা গিয়েছে।  

এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক রেশমীকান্ত পাত্রের বিরুদ্ধে স্থানীয় এফআইআর দায়ের করেছেন প্রসূতির স্বজনরা ।

//এআর


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি