ঢাকা, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২০:০৬:৫৬

দেশকে তামাকমুক্ত করতে কাজ করবে জাতীয় প্ল্যাটফর্ম

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:০৪ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার | আপডেট: ১০:৩৭ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার

আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করবে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)’র উদ্যোগে নবগোঠিত তামাক বিরোধী জাতীয় প্ল্যাটফর্ম। মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবনে প্ল্যাটফর্মের প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন প্ল্যাটফর্মের আহবায়ক ও পিকেএসএফ’র পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। সভায় পিকেএসএফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম, জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এই সভায় প্ল্যাটফর্মের উপদেষ্টা পরিষদ ঘোষণা করা হয় এবং প্ল্যাটফর্মের স্টিয়ারিং কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। প্ল্যাটফর্মের উপদেষ্টা পরিষদ স্টিয়ারিং কমিটির কার্যক্রমকে তদারকি করবে ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করবে এবং স্টিয়ারিং কমিটি তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করবে। সভায় তামাক: এক মরণফাঁদ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মচন করা হয়।

সভায় পিকেএসএফ’র সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, বাংলাদেশে ২০০৫ সালে ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইন করা হয়, যা ২০১৩ সালে সংশোধন করা হলেও যথাযথ বাস্তবায়নের অভাবে এই আইন খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি। এ প্রেক্ষিতে দেশ ও জাতিকে তামাকের এই ভয়ঙ্কর অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সংশ্লিষ্ট টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে তামাকবিরোধী জাতীয় প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তামাক নিয়ন্ত্রণে একটি জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে যেখানে সমাজের সকল পর্যায়ের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সমভাবে সম্পৃক্ত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে এই প্ল্যাটফর্মটি সর্বাত্মকভাবে কাজ করবে বলে জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং এই প্ল্যাটফর্ম গঠনে পিকেএসএফ’র ভূমিকার প্রশংসা করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, জনসংখ্যার আধিক্য, নিম্নআয়, দারিদ্রতা, অসচেতনতা এবং নানাবিধ কারণে বিশ্বের সর্বোচ্চ তামাকজাত পণ্য ব্যবহারকারী দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ মানুষ অকালমৃত্যু বরণ করে, ৩৮২,০০০ লোক পঙ্গুত্ব বরণ করে। তামাক বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, খাদ্য নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং দারিদ্রতার ক্ষেত্রে হুমকি স্বরূপ।

সুস্থ সমাজ গঠনে তামাক অন্যতম অন্তরায়। তামাকমুক্ত সমাজ গড়তে এবং তামাকের উৎপাদন ও যথেচ্ছ ব্যবহার রোধে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংগঠন ও নেটওয়ার্ক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এ ধরণের চ্যালেঞ্জিং ইস্যুতে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন সম্ভব নয়। এ প্রেক্ষিতে তামাকবিরোধী আন্দোলন আরও জোরাল করতে পিকেএসএফ’র উদ্যোগে গঠিত তামাকবিরোধী জাতীয় প্ল্যাটফর্মটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

আরকে/ডব্লিউএন

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি