ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ৬:৫৩:৪৬

‘নাগরিকরা সচেতন হলেই ভোক্তা অধিদফতর সফল’

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:৩৯ এএম, ২৩ জুলাই ২০১৭ রবিবার | আপডেট: ০৩:৫২ পিএম, ৮ আগস্ট ২০১৭ মঙ্গলবার

পণ্যে ভেজাল, -স্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য তৈরি বিক্রি, মূল্যে কারসাজি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, ওজন কম দেয়াসহ বিভিন্ন অপতৎপরতার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর প্রতিষ্ঠানটি গত আট বছরে বাজার তদারকির মাধ্যমে পণ্যে ভেজাল, মূল্য কারসাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে ২৯ হাজার ৫৬২টি প্রতিষ্ঠানকে দোষী সাব্যস্ত করেছে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ২০ কোটি ৪৭ লাখ ৩৫ হাজার ৪শ’ টাকা

বাজারে যেকোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে ভোক্তা অধিদফতর। এ কারণে ভোক্তাদের কাছ থেকে সাড়াও পাচ্ছে। শুরুর দিকে অভিযোগ কম পেলেও দিন দিন সেই সংখ্যা বাড়ছে। সঠিক অভিযোগদাতাকে আদায়কৃত জরিমানার এক চতুর্থাংশ দেয়ায় অনেকেই ব্যবসায়ীদের অসাধু তৎপরতার বিরুদ্ধে অধিদফতরে অভিযোগ করতে আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে ভোক্তাদের আস্থা অর্জন করতে শুরু করেছে অধিদফতর।

ভোক্তা অধিদফতরের সামগ্রিক ও সাম্প্রতিক কার‌্যক্রম নিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনের (ইটিভি অনলাইন) মুখোমুখি হয়েছেন জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্কর। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ইয়াসির আরাফাত রিপন

ইটিভি অনলাইন:  অধিদফতরে কি ধরণের অভিযোগ আসে?

শফিকুল ইসলাম:  সাধারণত পণ্যের উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ না থাকা, মূল্য তালিকা না থাকা, নির্ধারিত দামে চেয়ে বেশি মূল্য নেয়ার অভিযোগ আসে ভোক্তাদের কাছ থেকে। এছাড়া মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারিত করা, দৈর্ঘ্য পরিমাপক যন্ত্রে কারচুপির, অবহেলা দ্বারা সেবাগ্রহিতার জীবন বিপন্ন করা, স্বাস্থ্য হানি ঘটানোর পণ্য বিক্রয় ইত্যাতি।  আবার খাদ্য অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন বা পরিবেশন করা বিষয়ে অভিযোগ আসে।

ইটিভি অনলাইন: ভোক্তা অধিদফতরে এ বছর কী পরিমাণ অভিযোগ এসেছে?

শফিকুল ইসলাম লস্কর: অধিদফতর প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত আট বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে। ২০১৫ সালে অভিযোগ এসেছিল মাত্র ২২৫টি। পরের বছর এ সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৬২২টিতে উন্নীত হয়। আর চলতি বছর প্রথম দুই মাসেই অভিযোগের সংখ্যা ১ হাজার ৬৮২টিতে দাঁড়িয়েছে। যা বছর জুনের ৩০ তারিখ পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৯৬টিতে।

ইটিভি অনলাইন:  তাহলে বলাই যায় যে, বছরটি আপনাদের জন্য সফলতার বছর ?

শফিকুল ইসলাম লস্কর: না, এটা সফলতার বছর বলা যাবে না। সফলতা তখনই আসবে যখন দেখব দেশের সব নাগরিক সচেতন। দেশের সব কোম্পানিগুলো বা প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো পণ্যে ভোক্তাকে প্রতারিত করছে না। অধিদফতর আর কারোর অভিযোগ পাচ্ছে না। তখনই আমরা সফল হব, সফল হবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

ইটিভি অনলাইন:  ভোক্তা অধিদফতরের কার‌্যক্রম নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন?

শফিকুল ইসলাম লস্কর: শুধু অধিদফতরের মাধ্যমেই ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণ করা যাবে না। এ জন্য চাই সবার সচেতনতা। এজন্য সারাদেশে এবার ৮০টি গণশুনানি করেছি যা গত বছরের ছিল ১৪টি। ৩১৯টি সেমিনার করেছি, জেলাগুলোতে প্রতিনিয়ত সভা চলে সচেতনতা করতে।

ইটিভি অনলাইন: ভোক্তা অধিদফতরে যে অভিযোগ বাড়ছে এর জন্য কার অবদান বেশি, ভোক্তার নাকি অধিদফতরের ?

শফিকুল ইসলাম লস্কর: সফলতার পিছনে ভোক্তাদের অবদান আছে কারণ। তারা আমাদের এখানে অভিযোগ করছেন বলেই আমরা জানতে পেরে কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছি। সবচেয়ে বেশি অবদান বলব অধিদফতরের কর্মকর্তাদের। কারণ তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন, সততার পরিচয় দিচেছন।

ইটিভি অনলাইন:  একটা অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে কতদিন সময় লাগে?

শফিকুল ইসলাম লস্কর:  ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরে কেউ অভিযোগ করলে আমরা ৭ দিনের মধ্যেই এটা নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করি। অনেক ক্ষেত্রে কিছুটা দেরি হয়ে যায়। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে বড় গ্রুপ অব কোম্পানিগুলো সিনিয়র আইনজীবী নিয়ে আসেন, এ ক্ষেত্রে একটু সময় লাগে। তবে আমরা চাই যতদ্রুত সম্ভব অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে।

ইটিভি অনলাইন: অধিদফতরে কর্মীরা বা অধিদফতর কোনো ধরনের চাপে আছে কিনা কিংবা কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে কিনা?

শফিকুল ইসলাম লস্কর:  প্রশ্নই ওঠেনা। এখন পর্যন্ত অধিদফতর কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়নি। হয়ত ছোট-খাট বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করতে কেউ কেউ আসে। কিন্তু অধিদফতর তাদের কোনো পাত্তা দেয় না। আর এক্ষেত্রে ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণে অধিদফতরের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রনালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।

ইটিভি অনলাইন:  বড় বড় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যখন অভিযোগ আসে তখন অধিদফতর কী কোনো ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়?

শফিকুল ইসলাম লস্কর: ছোট-বড় সব ধরনের প্রতিষ্ঠান যারা অনিয়ম করে সবার বিরুদ্ধেই আমাদের কাছে অভিযোগ আসে। অভিযোগ তদন্ত শেষে বহু প্রতিষ্ঠানকে আমরা জরিমানা করেছি। দেশের টেলিকম খাতের প্রায় সব কোম্পানির বিরুদ্ধেই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এছাড়া দেশের বড় বড় গ্রুপ অব কোম্পানি ছাড়াও বাংলাদেশ বিমানের বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। মোট কথা হলো কোম্পানি ছোট আর বড় হোক অপরাধ করলে, অভিযোগ প্রমাণ হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

ইটিভি অনলাইন: একটা প্রতারক চক্র আছে, যারা জরিমানার ২৫ ভাগ পাওয়ার আশায় বড় বড় কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আসে। তাদের ক্ষেত্রে আপনাদের অবস্থান কি?

শফিকুল ইসলাম লস্কর:  হ্যাঁ এক শ্রেণীর প্রতারক আছে যারা জরিমানার ২৫ শতাংশ পাওয়ার আশায় অভিযোগ করে। অধিদফতর এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। অধিদপ্তর এসব প্রতারকের ফাঁদে কখনই পা দেয় না। তাছাড়া আমরা বুঝতে পারি কারা প্রতারক, তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসে।

ইটিভি অনলাইন:  শুনেছি আপনাদের জনবল কম, আপনার মতামত কি?

শফিকুল ইসলাম লস্কর:  হ্যাঁ আমাদের এখানে জনবল সংকট রয়েছে। প্রতিটি জেলায় আমাদের জনবল নেই।  প্রতিটি জেলায় জনবল দেয়া গেলে আমাদের কাজটা এগিয়ে নেওয়া আরও সহজ হতো। ঢাকায়  অধিদফতরের ১৪ জন বিচারক রয়েছেন। যারা তদন্ত সাপেক্ষ অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি করেন। তাছাড়া সারা দেশে আরও ৪৫জন বিচারক রয়েছেন। ৬৪টি জেলাতেই আমরা বিচারক দিতে পারিনি। তবে আগামীতে ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণে প্রতিটি জেলাতেই বিচারক থাকবে আশা করি।

আইটিভি অনলাইন:  আপনার গুরুত্বপূর্ণ সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

শফিকুল ইসলাম লস্কর:  ইটিভি অনলাইনকেও ধন্যবাদ।

//আর//এআর

 

 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি