ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৮ ৮:১২:২৮

Ekushey Television Ltd.

পাঁচ কারণে আটকে আছে ছাত্রলীগের কমিটি

আলী আদনান

প্রকাশিত : ০৬:০৫ পিএম, ১১ জুন ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ১২:২৭ পিএম, ১৭ জুন ২০১৮ রবিবার

উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বহুল আকাংখিত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শেষ। খোদ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই কমিটি করেছেন। কমিটি চূড়ান্ত হলেও বেশ কয়েকটি কারণে ঘোষণা হচ্ছে না নেতৃত্ব। তবে ঈদের পরপরই আসবে ছাত্রলীগের নতুন কমিটির ঘোষণা হবে এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। অতীতে ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের সঙ্গে জড়িত এমন কয়েকজন নেতা ও আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ বছরের ১১ ও ১২ মে অনুষ্ঠিত হয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলন। সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণার সব ধরণের প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। পদ প্রত্যাশী নেতা ও তাদের কর্মী সমর্থকদের কৌতুহলের মধ্যে রেখেই কমিটি ঘোষণা ছাড়া শেষ হয় সম্মেলন। তার পর থেকেই নতুন কমিটি নিয়ে জল্পনা কল্পনা চলে আসছে।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে জানিয়েছেন, সেই কৌতুহলের দিন শেষ হয়ে আসছে। ঈদুল ফিতরের পরপরই যেকোনো সময় ঘোষণা আসবে নতুন নেতৃত্বের। এদিন একইসঙ্গে সংগঠনটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাখা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কারা নেতৃত্বে আসবেন তাদের নামও ঘোষণা করা হবে।

আওয়ামী লীগ ও সাবেক ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বরে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি কারণে কমিটি ঘোষণা আটকে গেছে। প্রথমত : ছাত্রলীগকে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেটের বেড়াজাল থেকে বের করে আনা। দ্বিতীয়ত : ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ ঠেকানো। তৃতীয়ত : ঈদের আগে কমিটি ঘোষণা দিয়ে পদপ্রত্যাশীদের মন ভেঙে না দেওয়া। চতুর্থত : রমজানে প্রধানমন্ত্রীসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের ব্যস্ততা। পঞ্চমত : অধিকতর যাচাই বাছাই।    

ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা জানান, সংগঠন ঢেলে সাজাতে নতুন কমিটি ঘোষণায় সময় লাগছে। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও বর্তমানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ছাত্রলীগের মূল দুটি পদের জন্য অতীতের যে কোনো কমিটিতে বড়জোর তিন-চারজন প্রার্থী হতো। এবার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ৩২৩ জন প্রার্থী হয়েছেন। এ বিশালসংখ্যক প্রার্থীর ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া, তাদের পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড ইত্যাদি বিস্তারিত নিতে কিছুটা সময় লাগছে।

সম্প্রতি ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ বাড়ছে এমন অভিযোগ জোরালো হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের পর‌্যন্ত এ নিয়ে একাধিকবার কথা বলেছে। বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।  এসব কারণে নড়েচড়ে বসেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যান্যবার নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হলেও এবার সিন্ডিকেট ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আওয়ামী লীগ সভাপতি নিজে কমিটিতে হাত দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, কমিটি নিজ করবেন। এবং তাঁর পছন্দের প্রার্থী আছে। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার দুটো প্রধান কারণ কারণ ছিল-এক সিন্ডিকেটকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। দ্বিতীয়ত: কমিটি গঠনে স্বচ্ছতা বজায় রাখা।  প্রধানমন্ত্রী নিজে কমিটি করার কারণে তিনি যাচাই বাছাই করছেন বেশী। খোঁজ খবরও নিচ্ছেন বারবার। ফলে সময় লাগছে বেশি। সভাপতি-সম্পাদক মনোনীতদের বিষয়ে অধিকতর খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের অন্য একটি সূত্র দাবি করছে প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছা করেই কমিটি ঘোষণার সময় পিছিয়ে দিয়েছেন। ঈদের আগে কমিটি ঘোষিত হলে অনেকের ঈদের আনন্দ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন ঈদটা সবাই হাসি-খুশিভাবে কাটাক। ছাত্রলীগের সম্মেলন হয় ১২ মে। এর আগে ১১ মে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন হওয়ায় আনন্দে ভাসছিল দেশ। ওই মুহুর্তে কমিটি ঘোষণা করে পদ বঞ্চিত নেতা ও তাদের সমর্থকদের হতাশায় ফেলতে চাননি প্রধানমন্ত্রী। তাই তখন তিনি ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের বিষয়টি পিছিয়ে দেন।

গণভবনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে এমন একজন ছাত্রনেতা একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান না নেতৃত্ব বঞ্চিতদের মধ্যে হতাশা আসুক বা কোনো কারণে তারা মন খারাপ করুক। সেই চিন্তা থেকে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কমিটি ঘোষণার আগে মনোনয়ন ফরম যারা সংগ্রহ করেছেন বা নেতৃত্ব প্রত্যাশী তাদের সম্মানে তিনি গণভবনে ভোজ সভার আয়োজন করবেন। সেখানে খাওয়া দাওয়ার পর ছাত্রলীগের উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই বক্তব্যের পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন ছাত্রলীগের কমিটি। কিন্তু রমজান মাসে গণভবনে প্রতিনিয়ত ইফতার পার্টি থাকায় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করা ৩২৩ জনের সঙ্গে আলাদা ভাবে বসার সুযোগ পাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী। মূলত এ কয়েকটি কারণে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা হতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানা গেছে।

 ঈদের পরপরই যে কমিটি আসছে সেটি নিশ্চিত করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, ছাত্রলীগের কমিটি গঠণের প্রক্রিয়া শেষ। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজে কমিটি করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের পর পরই নতুন কমিটির ঘোষণা আসবে।

ছাত্রলীগের কমিটি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এবারে ছাত্রলীগে একটি মডেল কমিটি হবে। কমিটি চূড়ান্ত। যেকোনো সময় আসতে পারে কমিটির ঘোষণা।

উল্লেখ্য গত ১১ ও ১২ মে অনুষ্ঠিত হয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলন। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন নতুন কমিটি ঘোষিত হওয়ার কথা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। এবারের নতুন কমিটিতে স্বচ্ছ, মেধাবী ও ত্যাগী কর্মীরা প্রাধান্য পাবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংগঠনটির সঙ্গে জড়িত সবাই।

/ আআ / এআর

 



© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি