ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭ ১:০০:২৭

প্রবারণায় রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদ বৌদ্ধদের

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:৫০ এএম, ৬ অক্টোবর ২০১৭ শুক্রবার | আপডেট: ১২:২৫ পিএম, ৬ অক্টোবর ২০১৭ শুক্রবার

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমায় মিয়ামারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গাদের উপর চালানো নির্মম নির্যাতনের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৌদ্ধ প্রধান দেশ মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে যা করেছে, তা গৌতম বুদ্ধের অহিংস নীতির পরিপন্থি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে প্রবারণা পূর্ণিমায় উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সভাপতি অসীম রঞ্জন বড়ুয়া মিয়ানমার সরকারের দমন নীতির সমালোচনা করে বলেন, ৯০ শতাংশ বৌদ্ধের দেশ মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের উপর যে অত্যাচার করেছে, আমরা তার নিন্দা জানাই। তিনি বলেন, গৌতম বুদ্ধের মূল নীতি ‘অহিংসা পরম ধর্ম।’ কিন্তু মিয়ানমার বৌদ্ধ ধর্মের মূল নীতিতে আঘাত করেছে।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে গত এক মাসে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। রোহিঙ্গাদের উপর হামলার প্রতিবাদে এবার বাংলাদেশ সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজ, বৌদ্ধ বিহার ও প্যাগোডা থেকে ফানুস উৎসব বন্ধ রেখেছে। প্রবারণার সন্ধ্যায় ‘ফানুস উৎসব’ বৌদ্ধদের ধর্মীয় উৎসবের একটি অংশ।

বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অশোক বড়ুয়া বলেন, প্রবারণার সন্ধ্যায় ফানুস উৎসব আমরা বন্ধ রেখেছি। এবার প্রবারণা পূর্ণিমায় সংগৃহীত অর্থ রোহিঙ্গাদের জন্য গঠিত ত্রাণ তহবিলে দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে বাড্ডার বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধ পূজার মাধ্যমে শুরু হয় প্রবারণা পূর্ণিমার আনুষ্ঠানিকতা। পরে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা শীল গ্রহণ, অষ্ট পরিকাসহ মহাসংঘ দান, ভিক্ষু সংঘের পিন্ড দান গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

এদিন সকালে বৌদ্ধরা পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে নানা প্রকার খাদ্য-ভোজ্য, ফলমূল, দীপ-ধূপ, পুষ্পাদি নিয়ে স্থানীয় বৌদ্ধ বিহারে আসতে শুরু করেন। প্রবারণায় যাদের পক্ষে সম্ভব তারা উপো শীল পালন করে ও বাকিরা পঞ্চশীল গ্রহণ করে। পঞ্চশীল গ্রহণের সময় তারা প্রতিজ্ঞা করেন, প্রাণিহত্যা, চৌর্যবৃত্তি, ব্যভিচার, মিথ্যাভাষণ ও নেশাদ্রব্যসেবন থেকে বিরত থাকবেন।

এরপর বিকালে ‘প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বৌদ্ধ বিহারের উপাধাক্ষ্য বুদ্ধানন্দ মহাথের ও ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় ধর্ম নির্দেশনা দান করেন।

বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথের বলেন, মানবজীবনের একমাত্র লক্ষ্য হলো নির্বাণ লাভ। দানশীল, ক্ষমাশীল হয়ে নির্বাণ লাভ করতে হয়। প্রবারণা পূর্ণিমায় চিত্তকে সংযত করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে আমরা জীবনকে সুন্দর পথে পরিচালিত করার দীক্ষা নেই। সংসারে থেকেও সত্যের মধ্যে যে জীবনকে দেখে তিনিই প্রকৃতপক্ষে বুদ্ধের দেখা পান।

ঢাকার বাইরেও এবার প্রবারণ পূর্ণিমা জমকালোভাবে পালন করেননি বৌদ্ধরা। কয়েকটি স্থানে ফানুস উড়লেও তা ছিল তুলনায় কম।

 

আর/টিকে

 


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি