ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭ ৮:৩০:৪৭

বাংলাদেশি ডাক্তারের পদ্ধতি অনুসৃত হচ্ছে বহু দেশে

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:২৪ এএম, ১০ আগস্ট ২০১৭ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৮:৩১ পিএম, ১০ আগস্ট ২০১৭ বৃহস্পতিবার

প্রসূতির মৃত্যু এখনও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বড় সমস্যা। আর এই মৃত্যুর প্রধান একটি কারণ সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মায়ের রক্তক্ষরণ। আজ থেকে ১৪ বছর আগে অত্যন্ত অল্প খরচে সহজ একটি পদ্ধতিতে প্রসূতির রক্তক্ষরণ বন্ধের উপায় বের করেছিলেন বাংলাদেশের প্রথিতযশা গাইনী চিকিৎসক ডা. সায়েবা আক্তার। ক্যাথেটার দিয়ে একটি কনডম প্রসূতির জরায়ুর ভেতর ঢুকিয়ে তা বাতাস দিয়ে ফুলিয়ে রক্ত বন্ধ করতে তাঁর আবিষ্কৃত ওই পদ্ধতি এখন এশিয়ার দেশগুলো ছাড়াও বিশ্বের বহু দেশে অনুসরণ করা হচ্ছে।


২০০৩ সালের আগে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মাতৃমৃত্যুর যে হার ছিল এই পদ্ধতি ব্যবহারের পর তা প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। এই পদ্ধতি শুধু যে প্রসূতির মৃত্যু কমিয়েছে তা নয়, বহু মায়ের প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপরও ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। রক্তক্ষরণের কারণে সন্তানজন্মের সময় আগে যেসব মায়ের জরায়ু কেটে ফেলে দেওয়া হতো, তাদের জরায়ু রক্ষা করা এখন সম্ভব হচ্ছে।


পৃথিবীর অনেক দেশে প্রসূতির রক্তক্ষরণ বন্ধে অল্প খরচের এই পদ্ধতি এখন ব্যবহৃত হচ্ছে যা বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে ‘সায়েবাস্ মেথড’ নামে। ২০০৫ সালে এই পদ্ধতির খবর ইন্টারন্যাশানাল মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত হয়।


বিশ্বের বহু শীর্ষ সারির মেডিকেল জার্নালে তার এই গবেষণা পত্রটি ছাপা হয়েছে। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। এই পদ্ধতি নিয়ে ভাষণ এবং প্রশিক্ষণ দিতে ডা. সায়েবা এখন ইন্দোনেশিয়ায় রয়েছেন।


বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডাক্তার সায়েবা আক্তার বলেন, ২০০০ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে গাইনি বিভাগের প্রধান হিসাবে কাজ করার সময় তিনি এই পদ্ধতি প্রথম প্রয়োগ করে সফল হয়েছিলেন।


তিনি বলেন, সেই সময় একদিন অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে শুনলেন একজন প্রসূতির প্রথম সন্তাতন হতে গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে, তাই তার জরায়ু ফেলে দেবার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। কারণ ওই মায়ের অনেক রক্তক্ষরণ হচ্ছিল, যা কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছিল না। আমি ডাক্তারদের বললাম তোমরা একটু অপেক্ষা করো- আমি একটু দেখি।


ডা. সায়েবা আক্তার জানান, অল্পবয়সী ওই মায়ের জরায়ু ফেলে দেওয়ার সব প্রস্তুতি তখন সম্পন্ন করা হয়। এসময় তিনি একটি কনডম নিয়ে গেলেন অপারেশন থিয়েটারে।ওই কনডম একটি ক্যাথেটারের সঙ্গে বেঁধে জরায়ুর ভেতর ঢুকিয়ে সেটা স্যালাইন ভরে ফুলিয়ে দেন ডা সায়েবা। মিনিট পনের পর দেখা গেল ওই মায়ের রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে গেল। তখনই তার মনে হয়েছিল এই ব্যবস্থাটা পরীক্ষা করে দেখা উচিত। এরপর ২০০১ সাল থেকে পরীক্ষা শুরু করলেন তিনি এবং ২৩জন রোগীর ওপর তা পরীক্ষা করে দেখলেন।


ডা. সায়েবা বলেন, কোনো জটিলতা ছাড়াই ২৩রোগীর জীবন যখন বাঁচানো সম্ভব হয়। তখন আমরা ওই স্টাডির ফলাফল একটি অনলাইন জার্নালে প্রকাশ করেন ২০০৩ সালে। ২০০৩ সাল থেকেই তার এই পদ্ধতি অনুসরণ করা শুরু হয় বলে জানান ডা: আক্তার। তিনি বলেন, ওই সময় থেকেই এটি যেহেতু বাংলাদেশের জাতীয় গাইডলাইন্সের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়, তাই ২০০৩ থেকেই বাংলাদেশের সব হাসপাতালে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা শুরু হয়।


২০১০ সালে ব্রিটিশ জার্নাল অব অবস্টেট্রিক্স ও গাইনিতেও বেলুন ট্যাম্পোনয়েড পদ্ধতির ওপর একটি পর্যালোচনা প্রকাশিত হয়। যেখানে স্বল্প খরচে কনডম ক্যাথেটার পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে উদ্ভাবনের খবর বের হয়। বলা হয় স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে বহু মায়ের মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। ২০১১ সালে রয়াল কলেজ অফ অবস্টেট্রিক্স ও গাইনির সর্বোচ্চ সম্মান পান ডাক্তার সায়েবা আক্তার।
তিনি জানান, এশিয়ার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সর্বত্র এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া নেপাল, ভারত, পাকিস্তান, এমনকি পূর্ব তিমরেও গিয়ে তিনি এই পদ্ধতি সম্পর্কে চিকিৎসক, নার্স ও বিশেষ করে ধাত্রীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। সূত্র : বিবিসি।


//এআর

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি