ঢাকা, বুধবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৮ ৬:০৬:১৫

Ekushey Television Ltd.

বাতিল হচ্ছে এমসিকিউ

একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৬:২৬ পিএম, ৯ মে ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ০৭:০৫ পিএম, ১০ মে ২০১৮ বৃহস্পতিবার

শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত ও দক্ষ মানব সম্পদ সৃষ্টি এবং পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রোধে বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) বাতিলের সিন্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রস্তুতি চলছে। আগামী বছর থেকে এসএসসিসহ পাবলিক পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল হতে পারে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আভাস পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষাবিদ ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়ে গঠিত এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই পদ্ধতি তুলে দেওয়া হবে।

আগামী এসএসসি পরীক্ষায় এমসিকিউ পদ্ধতি তুলে দেওয়ার বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন,  আমরা এমসিকিউ পদ্ধতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিয়ে শিগগিরই জানাবো।

এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করছে। এর ধারাবাহিকতায় এমসিকিউ বাতিলে সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কীভাবে এটি তুলে দেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সরকারি মাধ্যমিক) জাবেদ আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে শিগগিরই একটি কমিটি করা হবে। এ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়।

এমসিকিউ তুলে দেওয়ার বিষয়ে গত ৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছিলেন, এমসিকিউ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। আমরা ২০১৫ সালে ঘোষণা করেছিলাম, ২০১৭ সাল থেকে এমসিকিউ বন্ধ হবে। ওই বছরই (২০১৭) ১০ নম্বর কমানো হবে। ওই সময় সিদ্ধান্ত ছিল, শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সেমিনার করে বিষয়টি স্থির করবো।

গত এসএসসি পরীক্ষায় মোট ১৭টি বিষয়ের মধ্যে ১২টিরই এমসিকিউ অংশ ফাঁস হওয়ার পর গত ২০ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেছিলেন, ‘আগামী এসএসসি পরীক্ষা থেকে নতুন কোনো ব্যবস্থাপনা অবশ্যই শুরু করবো। বিদ্যমান পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো শতভাগ সম্ভব হবে না। সেজন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা, প্রস্তাব আমার কাছে এসেছে। আমার প্রস্তাবসহ বিভিন্ন প্রস্তাব শিক্ষাবিদদের কাছে নিয়ে যাবো।’

এসএসসি পরীক্ষায় ধারাবাহিকভাবে এমসিকিউ প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনায় এ অভিযোগ সংক্রান্ত যাচাই-বাছাই কমিটি করে সরকার। গত ৬ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীরকে প্রধান করে এই কমিটি করা হয়। কমিটি গত ১১ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।

কমিটি প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে এমসিকিউ পদ্ধতি তুলে দেওয়ার সুপারিশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ধীরে ধীরে এটি বাতিল করা প্রয়োজন।’

এই প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় বৃহস্পতিবার (৩ মে)। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘আপনারা জানেন ছেলেমেয়েদের জন্য এমসিকিউ কী পরিমাণ বিপজ্জনক হয়েছে। এটা অভিভাবকরাও বুঝতে পারছেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রেস কনফারেন্সে বলেছেন। আমরা এমসিকিউ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিয়ে শিগগিরই জানাবো। বিষয়টি স্পর্শকাতর। কীভাবে করবো এখনও বলা যাবে না।’

এমসিকিউ বাদ দেওয়ার বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন একই অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এমসিকিউসহ পুরো পরীক্ষা পদ্ধতির একটি পরিবর্তন আসতে পারে। এমসিকিউ এখন যেরকম আছে—এ, বি, সি, ডি, সেরকম না করে তার একটা পরিবর্তন আসতে পারে। আক্ষরিক হতে পারে। এটা পুরোপুরি বন্ধ করে সিকিউতে (সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি) যেতে হবে। কিন্তু সিকিউ প্রশ্ন একজন ছাত্রের পক্ষে কতটা লেখা সম্ভব, সেটা বিবেচনায় নিতে হবে।’

সরকারের এই পরিকল্পনাকে শিক্ষাবিদদের অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি অনেক আগেই বলেছি, আমাদের দেশের জন্য এমসিকিউ পদ্ধতি মোটেও উপযুক্ত নয়। এমসিকিউ তখনই কার্যকর হয়, যখন একজন শিক্ষার্থীর পুরো জ্ঞানটা আয়ত্তে আসে। যখন একজন শিক্ষার্থী একটি প্যারাগ্রাফ ভালোভাবে পড়ে আয়ত্ত করে, তখন তার ওপর এমসিকিউ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তা হচ্ছে না। তাই প্রয়োজন নেই এই পদ্ধতির। এটি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নকলের প্রবণতা তৈরি করবে।

 টিআর/ এআর



© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি