ঢাকা, শনিবার, ২১ জুলাই, ২০১৮ ১৩:১৭:২২

Ekushey Television Ltd.

বাদলের মুক্তির বিষয়ে সরকারই সিদ্ধান্ত দেবে: হাইকোর্ট

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৬:১০ পিএম, ১১ জুলাই ২০১৮ বুধবার

একটি হত্যা মামলায় ভারতে ১০ বছর বন্দি জীবন কাটিয়ে সম্প্রতি দেশে ফেরেন বাদল ফরাজী। দেশে আসার পর বাদল ‘ভুল বিচারের’ শিকার বলে অভিযোগ করে তার মুক্তির আদেশ চেয়ে রিট আবেদন করেন।

রিট করার পর আদালত জানায় বাদলের মুক্তি নিয়ে সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন।

আদালত জানায়, সরকার যেহেতু উদ্যোগী হয়ে বাদলকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে, সেহেতু সরকারই হয়ত তার মুক্তির পদক্ষেপ নেবে। এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা দেওয়া ঠিক হবে না।

এর আগে ভারত থেকে বাদলের দেশে ফেরার বিষয়টি গত রোববার হাই কোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব ও মোহাম্মদ কাওছার। পরে তাদেরকে রিট আবেদন করতে বলা হয়েছিল।

সে অনুযায়ী হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তারা এই রিট আবেদন করেন। পরে বুধবার আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হয়।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাদল ফরাজী ‘ভুল বিচারের’ শিকার হয়ে ভারতে ১০ বছর কারাভোগ করেছেন। তিনি ‘নির্দোষ হওয়ার পরও’ দেশে ফিরিয়ে এনে তাকে আবার কারাগারে নেওয়া হয়েছে, যা সংবিধানের ২৭, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৬ ও ৪৪ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।

এই যুক্তি দেখিয়ে বাদল ফরাজীকে কারামুক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের প্রতি আদালতের নির্দেশনা ও রুল চাওয়া হয় ওই আবেদনে। স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন  সচিব, পররাষ্ট্র সচিব ও পুলিশ প্রধানকে সেখানে বিবাদী করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ৬ মে দিল্লির অমর কলোনিতে এক বৃদ্ধাকে খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় বাদলের। তবে বাদল তার দুই মাসেরও বেশি সময় পর ১৩ জুলাই ভারতে ঢুকেছিলেন বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে। পরে হত্যাকাণ্ডের সময় বাদল ভারতে ছিলেন না জানিয়ে তাকে মুক্তি দিয়ে দেশে ফেরত পাঠাতে ২০১২ সালে ভারতের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় দিল্লিতে বাংলাদেশের হাই কমিশন।

পরে ২০১৫ সালে বাদলকে দোষী সাব্যস্ত করে দিল্লির একটি আদালত। রায়ে তাকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পরে দিল্লি হাই কোর্টও সেই রায় বহাল রাখে। বাংলাদেশ হাই কমিশনের সহায়তায় বাদল ওই রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেও বিফল হন।

পরে গত ৭ জুলাই বন্দি প্রত্যার্পণ চুক্তির আওতায় ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় বাদলকে। বর্তমানে তিনি  কেরাণীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

 

এমএইচ/

 



© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি