ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৩:১৭:১৯

বাস্তবের ‘হেমলক সোসাইটি’

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:৩৮ পিএম, ১১ আগস্ট ২০১৭ শুক্রবার | আপডেট: ১০:২১ পিএম, ১১ আগস্ট ২০১৭ শুক্রবার

কেউ আত্মহত্যা করতে চাইলে ‘হেমলক সোসাইটি’ নামের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান ওই ব্যক্তিকে আত্মহত্যার পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করে বিভিন্ন উপায়ে।  এটা সিনেমার গল্প। আসুন দেখি বাস্তবে কি হচ্ছে আত্মহত্যা নিয়ে।

দীর্ঘদিন ধরেই অবসাদে ভুগছিল চব্বিশ বছর বয়সী অনিন্দিতা (ছদ্ম নাম)। ভারতের মুম্বাই শহরের বাসিন্দা তিনি। বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে রোজকার ঝামেলা, অশান্তি। বদলে গেছে তাদের সম্পর্কটা। এখন রোজই ব্রেকআপের কথা। একটা সময় অসহ্য লাগছিল তার। ইচ্ছা হচ্ছিল নিজেকে শেষ করে দেওয়ার।

কিন্তু কীভাবে করবে আত্মহত্যা? খবরের কাগজে রোজই দেখে গলায় দড়ি, বিষ খাওয়া, ট্রেনের নীচে ঝাঁপ, গায়ে আগুন কত রকম উপায়। কিন্তু ঠিক কোন পদ্ধতিটা বেছে নিলে সহজে মরা যায় সেটাই বুঝতে পারছিল না অনিন্দিতা। মনে যে কোনও প্রশ্ন এলে স্মার্টফোনের জানলা খুলে গুগলের শরণাপন্ন হতেই অভ্যস্ত সেই মেয়ে। মাথায় বুদ্ধি এল। তা হলে তো গুগলকেই প্রশ্নটা করা যায়।

যেমন ভাবা তেমনি কাজ। খটাখট গুগলে টাইপ করল ‘কী ভাবে আত্মহত্যা করব?’ বাহ! এই তো দারুণ উপকার করেছে গুগল। সার্চ করতেই বেরিয়ে এল হেল্প লাইন নম্বর। তাহলে কী এ বার ফোন করলেই পছন্দ মতো আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারবে সে? ওরা কী তাকে আত্মহত্যা করতে সব রকম সাহায্যও করবে? দেখাই যাক।

সঙ্গে সঙ্গেই স্ক্রিনে ফুটে ওঠা নম্বরে ফোন করা হল। কিন্তু ওপ্রান্তে যে পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল! সঙ্গে সঙ্গেই কোথা দিয়ে যেন বদলে গেল পুরো প্রেক্ষাপট। ফোনের লোকেশন দেখে তার বাড়ির অবস্থানও বুঝে গেল পুলিশ। এরপর বোঝানো, কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা, বাড়ির সঙ্গে কথাবার্তা বলা— মোট কথা ততদিনে আত্মহত্যার ভূত নেমে গিয়েছে তার ঘাড় থেকে।

নতুন জীবন ফিরে পেয়ে সবার আগে সে ধন্যবাদ জানিয়েছে গুগলকেই।

ডব্লিউএন

 


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি