ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২৩:০৮:৩৯

বিদেশে থাকা খালেদা জিয়ার সম্পদ ফিরিয়ে আনা হবে : প্রধানমন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৭:৪১ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ০৮:১০ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার

বিদেশে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরিবারসহ দলটির নেতাদের সম্পদের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তদন্ত করে এই বিষয়ে সঠিক তথ্য পেলে তা ফেরত আনা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

ফখরুল ইমাম গ্লোবাল ইনটেলিজেন্স নেটওয়ার্কের এক প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতাদের বিদেশে সম্পত্তির ফিরিস্তি তুলে ধরে সে বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান।

ওই প্রতিবেদনটি পাঠকালে তিনি বলেন, ‘দুবাইসহ অন্তত ১২টি দেশে জিয়া পরিবারের সম্পদ আছে। এই সম্পদের পরিমাণ এক হাজার দু’শো কোটি টাকা।’

প্রশ্ন করতে গিয়ে এই সংসদ সদস্য আরো জানান, দুবাইয়ে খালেদা জিয়ার মালিকানায় একটি শপিং মল রয়েছে। কাতারে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন ‘ইকরা’র মালিক আরাফত রহমান কোকো। বেগম জিয়ার ভাগ্নে শাহিন আহমেদ তুহিনের নামে কানাডায় তিনটি বাড়ি রয়েছে। সিঙ্গাপুরে ‘মেরিনা বে’ নামে বিলাসবহুল হোটেলের শেয়ার রয়েছে বিএনপি সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশারফের। মেরিনা বে হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের ১৩ হাজার শেয়ারের মালিক তিনি। খন্দকার মোশারফের সিঙ্গাপুরে দু’টি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। মালয়েশিয়ায় রয়েছে তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট। বিএনপির সাবেক আইনমন্ত্রী আমিনুল হকের নামে লন্ডনের স্ট্রাটফোর্ড ও অলগেটে দু’টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। লন্ডনে বাড়ি আছে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদেরও। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর নামে দুবাইতে রয়েছে  অ্যাপার্টমেন্ট। সিঙ্গাপুরে মির্জা আব্বাস তার সন্তানের নামে দু’টি অ্যাপর্টমেন্ট কিনেছেন। মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর নামে  ‘সিটি সেন্টার-২’ এ তিনটি ২৫০০ বর্গফুটের বাণিজ্যিক জায়গা (স্পেস) রয়েছে। বিএনপির আরেক নেতা নজরুল ইসলাম খানের সিঙ্গাপুরে অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্যগুলো যখন বের হয়েছে, তখন নিশ্চয়ই আমাদের কাছে তা আছে। এটা নিয়ে তদন্ত চলছে। তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে মানি লন্ডারিংয়ের জন্য একটি তদন্তের ব্যবস্থা আছে। সেই সূত্রেও তদন্ত করা হচ্ছে। এই তদন্তেরর মধ্য দিয়ে সত্যতা যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এসব তথ্য তুলে ধরার জন্য সংসদে প্রধান বিরোধী দলের নেতা ফখরুলকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের সম্পদ যারা লুটে নিয়েছে, নিশ্চয়ই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ‘বিদেশ থেকে আসা অর্থ জঙ্গি তৎপরতায় যাচ্ছে কি না, তা নজরে রাখা হচ্ছে। জঙ্গি অর্থায়নের সাথে বেশ কিছু ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে মর্মে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রচেষ্টা অব্যহত আছে।’

মানিকগঞ্জ-২ আসনের মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে সরকার প্রধান বলেন, ‘সরকারের সার্বিক প্রচেষ্টায় অর্থ বছর ২০১১ হতে অর্থ বছর ২০১৭ পর্যন্ত দেশে ও বিদেশে ১৫ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন মার্কিন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় এক দশমিক ৭৪ শতাংশ হারে দারিদ্র্য কমে আসছে। সামাজিক সূচকগুলোর অগ্রগতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে। গত কয়েক বছরে বিস্ময়কর প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। ২০১৮ সাল নাগাদ এই সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা  হবে ।’

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি