ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭ ২০:১০:০৪

বিশ্বের ডুবে যাওয়া কয়েকটি দর্শনীয় স্থান

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০১:৪২ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ০৫:২৬ পিএম, ১২ অক্টোবর ২০১৭ বৃহস্পতিবার

বিশ্বে এমন অনেক এলাকা রয়েছে যেগুলোতে বাঁধ দেওয়ার ফলে পুরো গ্রাম বা আংশিক ডুবে গেছে। সেসব এলাকা ডুবলেও এখনও তার স্মৃতি বহন করছে কিছু স্থাপনা। স্থাপনাগুলো এখন পরিণত হয়েছে দর্শনীয় স্থানে।

যেখানে হাজারে পর্যটকের আনাগোনা হয় এখন। এমনই কিছু দর্শনীয় গ্রাম তুলে ধরা হলো, যেগুলো বাঁধের পানিতে ডুবে যায় এক সময়-

এডার হ্রদের সেতু: ১৯১৪ সালে এডারজে বা এডার হ্রদে বাঁধ দেওয়ার সময় তিনটি গ্রাম পুরোপুরি ডুবে যায়৷ গ্রামগুলো জার্মানির হেসে রাজ্যে অবস্থিত। সাম্প্রতিক সময়ের এক গ্রীষ্মে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় হ্রদের পানি নেমে ডুবে যাওয়া আজেল গ্রামের পুরনো সেতুটি বেরিয়ে আসে।

রেশেন হ্রদের গির্জা: ইটালির দক্ষিণ টিরোল এলাকার রেশেনজে বা রেশেন হ্রদটি হলো চতুর্দশ শতাব্দীর সেন্ট ক্যাথারিন গির্জার ঘণ্টাঘর ৷ ১৯৫০ সালে গ্রাউন গ্রামটি বাঁধের পানিতে ডুবে যায়। বাঁধের পানি ছাড়ার আগেই গ্রামবাসীদের অন্যত্র যাওয়ার জন্য তিন বছর সময় দেওয়া হয়েছিল ৷ সম্পতি পানির মধ্য থেকে গির্জার চুড়াটি বেরিয়ে আসে।

কেচুলার গির্জা: মেক্সিকোর চিয়াপাস অঞ্চলে মালপাসোর বাঁধটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জলাধার ৷ এখানে ষাটের দশক থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। কিন্তু চরম খরার ফলে ২০১৫ সালে ‘সান্তিয়াগোর মন্দির’ নামে পরিচিত ৪০০ বছরের পুরানো গির্জাটি আবার ভেসে ওঠে।

গেয়ামানা গ্রাম: রোমানিয়ার পরিত্যক্ত আপুসেনি পর্বতাঞ্চলের গেয়ামানা গ্রামে এককালে হাজার মানুষের বাস ছিল৷ সত্তরের দশকে গ্রামটির কাছেই একটি তামার খনি চালু হয়। পরে উপত্যকাটি খনির রাসায়নিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলায় গ্রামটিও সেই বিষাক্ত কাদায় ঢেকে যায় ৷

রুংহল্ট গ্রাম: রুংহল্ট গ্রামটিকে উত্তর সাগরের ‘অ্যাটলান্টিস’ বা হারানো মহাদেশ বলা হয়। চতুর্দশ শতাব্দীতে সাগরের বন্যা এসে প্রায় ৩০টি গ্রামকে ডুবিয়ে দিয়েছিল। এর মধ্যে সমৃদ্ধ রুংহল্ট গ্রামটিও ছিল৷

একক প্রহরী: স্পেনের এব্রো নদীর বাঁধের জলে স্মৃতিসৌধের মতো এখনও জেগে রয়েছে গির্জার চুড়াটি। যাটের দশকে বার্সেলোনা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য তিনটি জলাধার সৃষ্টি করা হয়৷ এতে ডুবে যায় গির্জাটি। এখন সৌখিন মৎস্যশিকারিরা সেই হারানো গ্রামের গির্জার ঘণ্টাঘরের কাছে ছিপ ফেলেন ৷

খনি থেকে বিপর্যয়: জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে কয়লাখনির পরিধি বাড়ানোর প্রয়োজনে নাখেটয়ারস্টেট গ্রামটিকে ধীরে ধীরে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে সরে যেতে হয় ৷ পরে খনি বন্ধ হলে খনির খোলা খাদে পানি দিয়ে একটি মনোরম হ্রদ সৃষ্টি করা হয় ৷ ২০০৯ সালে নাখেটয়ারস্টেট গ্রামের একাংশ ধসে পড়ে প্রাণ হারাণ তিনজন মানুষ৷

কালিয়াশিন গ্রামের গির্জা: ১৯৪০ সালে মস্কোর ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে ভলগা নদীর উপর বাঁধ দিয়ে জলাধারটি সৃষ্টি করা হয়। জলধারাটির দৈর্ঘ্য ছিল ১৪০ কিলোমিটার লম্বা ৷ পাঁচ কিলোমিটার প্রস্থের এই হ্রদের পানির গভীরতা ক্ষেত্রবিশেষে প্রায় ১০০ মিটার৷ বাঁধ তৈরির সময় কালিয়াশিন গ্রামটি ডুবে যায়। গ্রামটি ডুবে গেলেও ১৮০১ সালে নির্মিত নিকোলাই গির্জার ঘণ্টাঘরটি আজও মাথা তুলে রয়েছে৷

 সূত্র : ডয়েচে ভেলে।

আর/এআর


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি