ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ১১:১০:২১

বিশ্বের সব দেশ ভ্রমণ করেছেন যে তরুণী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৩:৩৪ পিএম, ১২ অক্টোবর ২০১৭ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৪:০৪ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৭ শুক্রবার

উত্তর-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাটের নারী ক্যাসি ডি পেকোল। তিনি ভ্রমণ করেছেন বিশ্বের প্রতিটি দেশ। এছাড়া তিনিই প্রথম নারী, যার নাম বিশ্বের সব সার্বভৌম দেশ ঘুরে দেখার ক্ষেত্রেও শীর্ষস্থানে আছে। তার সারা বিশ্ব ভ্রমণে খরচ হয়েছে মাত্র ২ লাখ ডলার।

ক্যাসি ডি পেকোল ২০১৫ সালের জুলাইয়ে বিশ্বভ্রমণে বের হন এবং চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্বের সব দেশ ঘোরা শেষ করেন। তার ভ্রমণ তালিকার ১৯৬তম ও সর্বশেষ দেশ হিসেবে ইয়েমেন যোগ হয়েছে। পুরো বিশ্বভ্রমণে তার লেগেছে ১৮ মাস ২৬ দিন, এর আগে বিশ্বের সব দেশ ঘুরতে সময় লেগেছিল  তিন বছর তিন মাস। ডি পেকোল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস স্বীকৃতি পেতে আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছেন।

২৭ বছর বয়সী এই তরুণী আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পিস থ্রু ট্যুরিজমের রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার ঘূর্ণিবেগের বিশ্বভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন। বিশ্বভ্রমণের সময় ডি পেকোল দেশগুলোর মেয়র ও পর্যটনমন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন এবং এ সংস্থার শান্তি ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করেন।

বিশ্ব পরিভ্রমণে ডি পেকোলকে ২৫৫টি ফ্লাইট ও পাঁচটি পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হয়েছে। ৫০টির বেশি দেশে তিনি বৃক্ষরোপণ করেছেন ও প্রতিটি দেশে তিনি অবস্থান করেছেন দুই থেকে পাঁচদিন। তার সারা বিশ্ব ভ্রমণে খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ডলার, যার কিছুটা তিনি নিজে জমিয়েছেন এবং অবশিষ্ট বড় একটা অংশ উঠে এসেছে ক্লিফ বার, ইগল ক্রিক ও বিশ্বের ইকো-হোটেলগুলোর মতো পৃষ্ঠপোষকের অনুদান থেকে। ডি পেকোল পুরো ভ্রমণের ভিডিওচিত্র ধারণ করে নিয়ে এসেছেন, আশা করছেন তা দিয়ে নিজের চমকপ্রদ ভ্রমণের একটি তথ্যচিত্র তৈরি করার।

পরবর্তী ধাপে ডি পেকোল পরিকল্পনা করছেন অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণের। হাইস্কুলে থাকতেই জীবনে বড় মাপের কিছু করার কথা ভাবেন ডি পেকোল। বিশ্বের পরিবর্তন ও পৃথিবীকে উন্নত করার মতো কিছু করতে চাইতেন তিনি। ডি পেকোল বলেন, আশা ছিল এমন কিছুই সম্পন্ন করব, যে স্বপ্ন কিনা আমার চেয়েও বড় এবং বিশ্বে যার ইতিবাচক প্রভাব থেকে যাবে।

ডি পেকোলের ভাষ্য, যখন আমার ২৫ বছর বয়স, তখন বাস্তবতা আমাকে বিশ্বভ্রমণের পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করে। আমি নিজের ছকবাঁধা জীবনযাপন নিয়ে খুশি ছিলাম না। একঘেয়ে চাকরি, নিজের প্যাশনকে উপেক্ষা করার বিষয়গুলো উদ্বিগ্নতা তৈরি করে। তাই সময় যেন আমাকে পেছনে ফেলে না যায়, তাই তখনই সিদ্ধান্ত নিই। বিশ্বাস রাখি নিজের ওপর। মাথায় ঢুকিয়ে নিই যে, কোনো পার্থিব দৃষ্টিভঙ্গিই আমার অসাধারণ ব্যক্তিগত লক্ষ্য থেকে হটাতে পারবে না।

কিন্তু পরিব্রাজক শব্দটির সঙ্গে নারীমুখ স্পষ্ট করতে আজো বাঁধে বহু মানুষের। আর সেখান থেকেই উঠে আসে নানা কথা, উৎকণ্ঠা ও বৈষম্য। এ বিষয়ে ডি পেকোলের ভাষ্য, সাধারণভাবে বলতে গেলে দীর্ঘমেয়াদি এ ভ্রমণে আমি সারা বিশ্বের মানুষের কাছ থেকে এতটা অতিথেয়তা পেয়েছি, তা বলার মতো নয়। তবে অতখানি যে আমি নারী বলেই তারা করেছে, তা মনে করি না। আবার বেশ কয়টি ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতাও হয়েছে, যেখানে ছিল বৈষম্য ও অনৈতিকতা। কিন্তু যখনই নেতিবাচক অভিজ্ঞতা আমার হয়, তখন আমি মনে করি না যে এটি ঘটেছে আমি নারী বলে। সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক এ অভিযানের অভিজ্ঞতা ছিল চমৎকার।

সূত্র: ফোর্বস ও বিজনেস ইনসাইডার।

আরকে//


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি