ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ১৩:৫৫:২২

ব্যাংকে স্বপ্নময় ক্যারিয়ার

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৪:০২ পিএম, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শুক্রবার | আপডেট: ০৬:৫৯ পিএম, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সোমবার

হালের তরুণ-তরুণীদের পছন্দের চাকরির মধ্যে ব্যাংকিং সেক্টর শীর্ষে অবস্থান করছে। এর প্রধান কারণগুলো হল- রাষ্ট্রায়ত্ত, বিশেষায়িত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় কাজের ভালো (কর্পোরেট) পরিবেশ। সঙ্গে রয়েছে চোখ ধাঁধানো বেতন কাঠামো। আছে বছরে বেশ কয়েকটি ইনসেনটিভ যা অন্য বেসরকারি চাকরিতে নেই। মাস শেষে হাতভরে বেতনের টাকা, ভাতা, উৎসব বোনাস, কার লোন, হাউস লোন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, নিয়মিত প্রমোশন, কী নেই এখানে। রয়েছে সপ্তাহে দু’দিন ছুটি, যেই সুযোগ বেশিরভাগ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেই বললেই চলে। ব্যাংকারদের সামাজিক মর্যাদার পাশাপাশি রয়েছে চাকরি নিরাপত্তা এবং পেনশনের ব্যবস্থা। কেউ ব্যাংকে একটা চাকরি পেয়ে গেলে তার অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত। ক্যারিয়ারে আর পিছুটান নেই।

লক্ষ্য স্থির করুন আগেই

ব্যাংকিং ক্যারিয়ার এখন অনেক মেধাবীর স্বপ্ন। তবে সেই স্বপ্ন পূরণে দরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। সেটা নেয়া উচিত মাধ্যমিক স্তর থেকেই। আকাক্ষা যদি থাকে ব্যাংকার হওয়ার তবে বিজনেসে পড়াই ভালো। আরও সুনির্দিষ্ট করে বললে এইচএসসির পর ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিষয়ে বিবিএ-এমবিএ করলে আপনার চাকরির প্রাথমিক প্রস্তুতিটা হয়ে যাবে। যদিও স্নাতক ডিগ্রি থাকলেই ব্যাংকে চাকরির জন্য আবেদন করা যায়। ব্যাংকিংয়ে পড়লে আপনি আধুনিক ব্যাংকিং প্র্যাকটিস, টার্ম ও কনসেপ্টগুলো সম্পর্কে আপডেট থাকতে পারবেন, যা ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষায় আপনাকে এগিয়ে রাখবে।

প্রসপেক্টস

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, যারা ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্সে বিবিএ কিংবা এমবিএ করবেন তাদের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরি পাওয়া সহজ। কারণ এ বিষয়ের গ্রাজুয়েটদের ব্যাংকিংয়ের তাত্ত্বিক বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে পড়ানো হয়। সেইসঙ্গে আধুনিক ব্যাংকিংয়ের কনসেপ্টগুলো প্রতিটি সেমিস্টারে বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানো হয়। এটি তাকে নিয়োগ পরীক্ষায় অ্যাডভান্টেজ এনে দেয়। এছাড়া বিআইবিএমের ডিজি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, বিভিন্ন ব্যাংকের এমডিরা ব্যাংকিং বিভাগে গেস্ট লেকচারার হিসেবে ক্লাস নিয়ে থাকেন। ছাত্ররা তাদের কাছ থেকে জব মার্কেট, ব্যাংকে চাকরির প্রস্তুতির খুটিনাটি বিষয়ে জেনে সেভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারেন। এছাড়া ব্যাংকে একজন কর্মকর্তাকে যেসব কাজ করতে হয় সেগুলো হাতে-কলমে শেখানো হয় ব্যাংকিং বিভাগে। ডাচ বাংলা ব্যাংক কর্মকর্তা শিহাব শাহরিয়ার বলেন, ব্যাংকিং বিভাগে এমবিএ করে আমার চাকরি প্রস্তুতির ভিতটা রচিত হয়ে যায়। বেশিদিন চাকরির জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি।

অবারিত কর্মক্ষেত্র

ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের গ্রাজুয়েটদের প্রধান কর্মস্থল দেশের ৫৬টি ব্যাংক (সদ্য অনুমোদন পাওয়া নয়টিসহ)। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সংখ্যা, শাখা ও কার্যক্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে অবিরত। এজন্য এসব ব্যাংক উন্নত গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে প্রচুর জনবল নিয়োগ দিচ্ছে। ফলে এখানে ব্যাংকিংয়ের গ্রাজুয়েটদের বর্ণিল ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ হচ্ছে। ইনস্যুরেন্স বিষয়ে স্পেশালাইজড জ্ঞানার্জন করায় দেশের ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলোও তাদের লুফে নিচ্ছে। এছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও দেশের ৯২টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সুযোগ রয়েছে মেধাবীদের জন্য।

কোথায় পড়বেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৪ সাল থেকে বিবিএ ইন ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স পড়ানো হচ্ছে। এখানে সি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ৮৭টি আসনে ছাত্র ভর্তি করা হয়। আর ইভিনিং এমবিএতে ৬০ জন ছাত্র ভর্তি করা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাংকিং বিভাগ খোলা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রায় সব কটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের আওতায় ব্যাংকিং পড়ানো হয়। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও বিষয়টি পড়ানো হচ্ছে।

যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন

ব্যাংকে চাকরি পেতে দরকার দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি; বিস্তর পড়ালেখা। এ বিষয়ে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এমডি ও সিইও কাজী মশিহুর রহমান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভালো একাডেমিক ফলাফল, ব্যাংকিং বিষয়ক ডিগ্রি, ভাষাগত দক্ষতা, পারস্পরিক যোগাযোগের সক্ষমতা- চাকরি প্রার্থীর এসব বিষয় নিয়োগের সময় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়ে থাকে। এছাড়া আবেদনকারীর স্মার্টনেস, বিষয়গত জ্ঞান কতটা গভীর তা যাচাই করা হয়ে থাকে। প্রার্থীর কমিউনিকেশন স্কিল, ইংরেজি দক্ষতা, কম্পিউটারে পারদর্শিতার পাশাপাশি সৃজনশীলতা, দায়িত্ববোধ, সততা, ন্যায়নিষ্ঠা সম্পর্কে ভাবনাগুলো বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হয়। প্রস্তুতির বিষয়ে এইচএসবিসি ব্যাংক কর্মকর্তা নাহিদা সুলতানা বলেন, শুরুতে বিভিন্ন ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন দেখে ধারণা নেয়া যেতে পারে। সাধারণ জ্ঞান, ইংরেজি, বাংলা, মানসিক দক্ষতা, কম্পিউটার, অর্থনীতি, গণিত বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এছাড়া প্রার্থীকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও দেশীয় অর্থনীতি নিয়ে সাধারণত প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। তাই অর্থনৈতিক সূচক, অর্থনৈতিক সমীক্ষার দিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্সে বিভাগের গ্রাজুয়েটদের জব অপরচ্যুনিটি এবং ব্যাংকে চাকরির সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে একুশে টেলিভিশেন অনলাইনের সঙ্গে কথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই বিভাগের অধ্যাপক ড. মাইন উদ্দিনের। এই বছর এইচএসসি পাশ করে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের সাবজেক্ট চয়েজের সুবিধার্থে এবং ব্যাংকে যারা ক্যারিয়ার গড়তে চান তাদের জন্য সাক্ষাৎকারটি নিচে তুলে ধরা হল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আতাউর রহমান।

ড. মাইন উদ্দিন

ইটিভি অনলাইন : ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের গ্রাজুয়েটদের জব অপরচ্যুনিটি সম্পর্কে জানতে চাই?
ড. মাইন উদ্দিন : ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্সের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো শেখার সুযোগ হচ্ছে এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের। এখান থেকে পাস করা গ্রাজুয়েটরা ব্যাংকের যে কোনো বিভাগে কাজ করার যোগ্যতা নিয়ে বেরোয়। এ পর্যন্ত বিবিএ ইন ব্যাংকিংয়ের চারটি ব্যাচ বেরিয়েছে। তাদের চাকরির জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি। রাষ্ট্রায়ত্ত-বিশেষায়িত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো তাদের লুফে নিয়েছে। আবার ইনস্যুরেন্স বিষয়ে স্পেশালাইজ জ্ঞানার্জন করায় ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলোও তাদের বেশি বেতনে চাকরিতে নিয়োগ দিচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন আর্থিক ও ফাইন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে ব্যাংকিংয়ের গ্রাজুয়েটদের চাকরি হচ্ছে। বেতন ভাতা কম থাকায় একসময় আমাদের ছাত্ররা সিভিল সার্ভিসে যেতে চাইত না। কিন্তু বর্তমানে নতুন বেতন স্কেলে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বাড়ায় ব্যাংকিংয়ের ছাত্ররা সিভিল সার্ভিসেও যেতে আগ্রহী। বিসিএসে ট্যাক্স, কাস্টম্স অ্যাক্সাইজ ও ভ্যাট ক্যাডার তাদের প্রথম পছন্দ। আমার বিশ্বাস এই ক্যাডারে আমাদের ছাত্ররা অন্যদের চেয়ে ভালো করবে।

ইটিভি অনলাইন : এ বিষয়ে পড়তে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কতটা আছে...
ড. মাইন উদ্দিন: ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্সে চাকরির প্রসপেক্ট ভালো থাকায় বর্তমানে তরুণ প্রজন্ম এ বিষয়ে পড়ার প্রতি ঝোঁকছে। আমরা লক্ষ্য করেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় যারা ভালো করেন তাদের চয়েজ লিস্টে ৩ থেকে চার নম্বরে চলে এসেছে ব্যাংকিং। ব্যাংকিং সেক্টরে যারা ক্যারিয়ার গড়তে চান তাদের ধারণা, ব্যাংকিংয়ে পড়লে আধুনিক ব্যাংকিং সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক জ্ঞানার্জন করা সম্ভব হবে, যা তাকে ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেতে অ্যাডভান্টেজ এনে দিবে। তাদের ধারণা সঠিক।

ইটিভি অনলাইন : সরকারি চাকরিতে ব্যাংকিংয়ের ছাত্রদের প্রসপেক্ট কেমন?

ড. মাইন উদ্দিন : অন্য ব্যাকগ্রাউন্ডের ছাত্ররা সরকারি যেসব চাকরি করতে পারেন সেগুলোর নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে ব্যাংকিংয়ের ছাত্রদের বাধা নেই। তারাও বিসিএস, নন-ক্যাডারসহ প্রায় সব সরকারি চাকরিতে আবেদন করতে পারেন। বাংলাদেশ ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে ব্যাংকিংয়ের ছাত্ররা সহজেই চাকরি পাচ্ছে। এছাড়া গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর প্রতি বছর প্রচুর শাখা খোলছে। এগুলোতে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি, সিনিয়র অফিসার, প্রবেশনারি অফিসার, অফিসারসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগে ব্যাংকিংয়ের ছাত্রদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্যবসায় অনুষদে শিক্ষকতা করতে পারছেন মেধাবী শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ৯২টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটিতে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ রয়েছে। সেখানে শিক্ষক নিয়োগেও ব্যাংকিংয়ের ছাত্রদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

ইটিভি অনলাইন : ব্যাংকে নিয়োগের ক্ষেত্রে এ বিষয়ের গ্রাজুয়েটদের অগ্রাধিকার দেয়া হয় কিনা?
ড. মাইন উদ্দিন: ডাইরেক্ট প্রিফারেন্স দেয়া হয় না। তবে ভাইভাতে দেখা যায়, অন্য ব্যাকগ্রাউন্ডের ছাত্রদের সঙ্গে একজন ব্যাংকিং গ্রাজুয়েট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে স্বভাবতই বোর্ড ধরে নেয় ব্যাংকিং গ্রাজুয়েটের কাছ থেকে কর্মক্ষেত্রে ভালো আউটপুট আসবে। এছাড়া ভাইভাতে ব্যাংকিং গ্রাজুয়েটরা অন্যদের চেয়ে ভালো করে। কারণ ভাইভাতে ব্যাংকিং কনসেপ্টগুলো জিঞ্জেস করা হয় যেগুলো আমাদের ছাত্ররা ভালো জানে।

ইটিভি অনলাইন : গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ব্যাংকিংয়ের গ্রাজুয়েটদের কাজ করার সুযোগ হচ্ছে কিনা?
ড. মাইন উদ্দিন : হ্যা গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাংকিংয়ের গ্রাজুয়েটদের চাহিদা রয়েছে। সিপিডি, মাইডাস, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যানশাল, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি, ব্র্যাক, বিভিন্ন ব্যাংকের গবেষণা সেলে, বাজেট নিয়ে কাজ করে এমন সব প্রতিষ্ঠানে রিসার্স অফিসার কিংবা রিসার্স অ্যাসোসিয়েট হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন এ বিষয়ের গ্রাজুয়েটরা।

ইটিভি অনলাইন : ব্যাংকে নিয়োগের ক্ষেত্রে একজন আবেদনকারীর কোন যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়?

ড. মাইন উদ্দিন : এখানে বেশ কিছু বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। এমসিকিউ পরীক্ষায় প্রার্থীর আইকিউ লেভেল যাচাই করা হয়। লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীর বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও বিষয়গত জ্ঞানের গভীরতা যাচাই করা হয়। আর ভাইভাতে প্রার্থীর ‘ওয়ে অব প্রেজেন্টেশন’ দেখা হয়। তাই ভাইভায় প্রার্থীকে প্রেজেন্টেবল হতে হবে, স্বতঃস্ফূর্ত দ্রুত উত্তর করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রার্থীর স্মার্টনেস, বডি লেংগুয়েজ, কমিউনিকেশন স্কিল, আইটি নলেজ এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হয়।

ইটিভি অনলাইন : ব্যাংকিং বিভাগ শিক্ষার্থীদের প্রায়োগিক শিক্ষাটা কতটা দিতে পারছে?

ড. মাইন উদ্দিন : ব্যাংক কোন কোন গ্রাউন্ডে-শর্তে গ্রাহককে লোন দেয়া হয় তা হাতে-কলমে শেখানো হয়। সেই সঙ্গে ব্যাংক থেকে কেস স্টাডি নিয়ে এসে তা ক্লাসে সমাধান করা হয়। কম্পিউটার ল্যাবে এক্সেলে স্ট্যাটিক্যাল প্যাকেজ অ্যানালাইসিস, ক্রেডিট রেটিং কিভাবে করতে হয় তা শেখানো হয় এখনকার ছাত্রদের। রিসেন্ট ব্যাংকিং প্র্যাকটিস, কনসেপ্ট ও টার্মগুলো শেখানো হয় এখানে। এভাবে ব্যাংকিংয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায়োগিক শিক্ষাটা পাচ্ছেন।

ইটিভি অনলাইন: যারা ব্যাংকার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তারা কিভাবে নিজেদের তৈরি করবেন?
ড. মাইন উদ্দিন : গতানুগতিক চাকরির প্রস্তুতির পাশাপাশি রিসেন্ট ব্যাংকিং টার্ম-কনসেপ্ট ও প্র্যাকটিসগুলো সম্পর্কে আপডেট থাকতে হবে। বাজেট, বিভিন্ন দৈনিক ও ম্যাগাজিনের অর্থনেতিক বিশ্লেষণগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। এজন্য ছাত্রদের জাতীয় দৈনিকের বিজনেস পাতা এবং অর্থনীতিবিদের বিশ্লেষণগুলো পড়তে হবে।

ইটিভি অনলাইন : আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ড. মাইন উদ্দিন : আপনাকেও ধন্যবাদ। ইটিভি অনলাইনের প্রতি শুভ কামনা।


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি