ঢাকা, সোমবার, ১৬ জুলাই, ২০১৮ ২০:৫০:৫৯

Ekushey Television Ltd.

ভিন্নতাকে দূরে ঠেলে জাগাতে হবে সম্প্রীতি: জাফর ইকবাল

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:১৪ পিএম, ৭ জুলাই ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ০৫:১৫ পিএম, ৭ জুলাই ২০১৮ শনিবার

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, সম্প্রীতির ইতিহাস বাঙ্গালীর ইতিহাস। শত ভিন্নতাকে পিছু ঠেলে সম্প্রীতির এ ঐতিহ্যকে জাগিয়ে তুলতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

শনিবার জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে আয়োজিত ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’র আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনীতিক ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রতিনীধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জাফর ইকবাল বলেন, আমার বড় ভাইয়ের একটি কথা আমার বারবার মনে পড়ছে। তিনি বলেছিলেন, কঠিন ভিন্নতার মধ্যে একাত্মতাই মূল্যবান। আজকের এ অনুষ্ঠানে আমরা যারা কথা বলছি- সবাই একই মতের ও ধারাই কথা বলছি। তাছাড়া আমাদের দেশের জনগোষ্ঠির বেশির ভাগ মানুষ মুসলমান। যাদের ধর্ম এক, দেশ এক, আবার চাওয়া পাওয়াও এক। তাদের সম্প্রীতি তো এমনিতেই হয়ে যায়। এটা ঘটা করে করার কি আছে। আর করলে আমার বড় ভাই হুমায়ুন আহমেদ এর ভাষায় সেটার গুরুত্ব থাকে না।

তাই আমাদের দেশে যেহেতু বেশির ভাগ নাগরিক মুসলমান। এখানে সম্প্রীতি বাড়ানোর জন্য আলাদা কোন সংগঠন নেই বলে অনেকেই দাবি করবেন।

কিন্তু আমি বলবো না, এখানে এমন সংগঠন করার প্রয়োজনটা খুব বেশি রয়েছে। কেননা এখানে মুসলমানদের মধ্যে আছে জঙ্গি গোষ্ঠি। আছে ধর্মীয় গোড়ামী গোষ্ঠী। আবার মুসলমানদের পাশাপাশি আছে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টানসহ নানা ধর্ম ও পেশার মানুষ। এছাড়া আছে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি। বিরোধী শক্তি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আছে ভিন্নতা। আমরা ভারতের দিকে তাকালে দেখতে পায়-গরুর গোস্ত খাওয়ার অপরাধে একজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে একজন মানুষের চেয়ে কি পশুর মূল্য বেশি।

তিনি নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা তুলে ধরে বলেন, আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে শরশতী পূঁজা উৎযাপনে কমিটি করা হয়। যেখানে আগে শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকই কমিটিতে থাকতো। আমি একদিন বললাম কেন মুসলমানরা আপনাদের উৎসবে সহযোগিতা করতে পারবে না?

তখন থেকেই সেখানে মুসলমান শিক্ষক ও ছাত্ররাও একত্রিত হয়ে পুঁজা উৎসব পালন করে। আমার মনে হয় এভাবে মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানদের উৎসবেও সবার অংশগ্রহন থাকা উচিত। তবেই সম্প্রীতিটা মজবুত হবে।


আরকে//

 

 



© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি