ঢাকা, সোমবার, ১৬ জুলাই, ২০১৮ ১৬:৫৭:৪৯

Ekushey Television Ltd.

মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে বাঁচাতে মরিয়া  

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৬:১৮ পিএম, ৫ জুলাই ২০১৮ বৃহস্পতিবার

ব্যাপক রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় মিয়ানমার সে দেশের সেনাবাহিনীকে দায়মুক্তি দিতে মরিয়া হয়ে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এমন অভিযোগ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন। জাতিসংঘের কমিশনের প্রধান তার দায়িত্ব শেষ হওয়ার পূর্ব মুহুর্তে দেওয়া বক্তব্য স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিতে জাতিসংঘ প্রতিনিধিকে প্রবেশাধিকার দিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানান। দোষীদের বিচারের আওতায় নিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।     

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গত ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সন্ত্রাসবিরোধী শুদ্ধি অভিযানের নামে শুরু হয় নিধনযজ্ঞ। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হতে থাকে ধারাবাহিকভাবে। তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বরাবরই এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। এমন অবস্থায় দায়িত্ব ছাড়ার আগ মুহূর্তে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান জায়েদ রাদ আল হোসেন অভিযোগ করেছেন, সেনাবাহিনীকে বাঁচাতে মিয়ানমার সমস্ত শক্তি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

মিয়ানমার সরকারের দাবি আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) হামলার কারণেই রোহিঙ্গা সংকটের উদ্ভব। সম্প্রতি তারা আরসার বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে রাখাইনে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত দাবি করা হলেও মিয়ানমার এতে রাজি হয়নি।

প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এপ্রিলের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল,সেই সময় মিয়ানমারে ক্ষমতার পটপরিবর্তনে সু চির বেসামরিক সরকার শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সেই অবস্থান থেকেই ওই মাসের শেষে মিয়ানমার সফরে আসা ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের ‌প্রতিনিধি দলকে নিধনযজ্ঞের তদন্ত আর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়ে হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করবেন। এপ্রিলের নিরাপত্তা বৈঠকে সু চি ঠিক কী প্রস্তাব দিয়েছিলেন তা জানা যায়নি। তবে সবশেষ ৮ জুন রাজধানী নেপিদোতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের এক সম্মিলিত বৈঠক হয়। থাইল্যান্ডভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্যাংকক পোস্টে লেখা এক সাম্প্রতিক নিবন্ধে বিবিসির সাবেক সাংবাদিক ল্যারি জ্যাগান দাবি করেন, সু চি কর্তৃক মিয়ানমারের সেনা নিধনযজ্ঞের তদন্তে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্ত করার আগ্রহে ভীষণ অখুশি ছিলেন সেনাপ্রধান। সু চিকে অভ্যুত্থানেরও হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।

এমন অবস্থায় রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের ঘটনায় মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মুখোমুখি করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে রাদ আল হোসেন আবারও আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, কিছুদিনের মধ্যেই তাদের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য জমা দেওয়া হবে।

দায়িত্ব ছাড়ার আগে এটাই জায়েদ হোসেনের শেষ বক্তব্য। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক চাপের অনুপস্থিতিতে কোনও রাষ্ট্র যদি তিনদিনের সহিংসতায় ৭ লাখ মানুষকে তাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয় তবে বাকিরাও এমনটা করতে প্ররোচিত হবে। মিয়ানমার শুরু থেকেই মানবাধিকার কমিশানারের দাবিকে মিথ্যা ও ভুল আখ্যা দিয়ে আসছে। নেপিদোর দাবি, আরসার ঘৃণ্য হত্যাযজ্ঞ ও সন্ত্রাসই সংকটের মূল কারণ। প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে মিয়ানমার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি তাদের।

এসি  

 



© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি