ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭ ২১:৩৭:১৭

মুক্তামনির হাতে সফল অস্ত্রোপচার

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১২:৩৭ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৭ শনিবার | আপডেট: ০২:৩৪ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৭ শনিবার

অস্ত্রোপচার শেষে ঢামেক বার্ন ইউনিটের আইসিউতে মুক্তামনি। তার সুস্থ হয়ে উঠার আশায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তার স্বজনরা।

অস্ত্রোপচার শেষে ঢামেক বার্ন ইউনিটের আইসিউতে মুক্তামনি। তার সুস্থ হয়ে উঠার আশায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তার স্বজনরা।

বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামনির হাতে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকাল সোয়া ৮টায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নিয়ে যাওয়া হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে অস্ত্রোপচার শেষ হয়।

অস্ত্রোপচারের পর সে ভালো আছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাকে এখন আইসিইউতে রাখা হয়েছে। ৭২ঘন্টা সেখানে রাখা হবে।

অস্ত্রোপচার শেষে গণমাধ্যমকে তা সফল হওয়ার কথা জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, মুক্তার হাত রক্ষা করে মাংস কেটে ফেলা সম্ভব হয়েছে। তার হাত ঠিক আছে। অস্ত্রোপচার পর মুক্তার জ্ঞান ফিরেছে এবং সে চিকিৎসকদের কথায় সাড়া দিচ্ছে বলেও জানান সামন্ত লাল।

হাসপাতালের ওটির বারান্দায় মুক্তামনির বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনরা অপেক্ষা করছেন। তাদের সঙ্গে সেখানে গণমাধ্যমকর্মীরাও আছেন।

এরআগে শনিবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে মুক্তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয় বলে জানান তার বাবা ইব্রাহীম হোসেন। পৌনে ৯টার দিকে মেডিকেল বোর্ড অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করেন। সকাল ৭টা থেকেই অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি শুরু করা হয়।

মুক্তামনির অপারেশনে অংশ নেন ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন, বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক সাজ্জাদ খোন্দকার, অধ্যাপক রায়হানা আউয়াল, দুইজন সহযোগী অধ্যাপক, সাত জন সহকারী অধ্যাপকসহ অন্যান্য চিকিৎসক এবং ঢামেক হাসপাতালের অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোজাফফর হোসনসহ আরেকজন এবং বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের চারজন চিকিৎসক।

জানা গেছে, ওটিতে নেওয়ার সময় মুক্তামনি তার মাকে বলে, মা আমার ভয় করে। মা তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, তুমি এ পর্যন্ত যত দোয়া শিখছো সেগুলো পড়ো। ভয়ের কোনো কারণ নেই। পুরো দেশবাসী তোমার সঙ্গে আছে।

এসময় ডা. সামন্ত লাল সেন মুক্তামনির বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, আপনারা কোনো চিন্তা করবেন না। স্রষ্টাকে ডাকেন। আমরা কাল নির্ঘুম কাটিয়েছি। কিভাবে অপারেশন হবে তা নিয়ে আমরা সবাই কথা বলেছি। পুরো দেশের মানুষের দৃষ্টি মুক্তামনির দিকে আছে। সবাই তার জন্য দোয়া করছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার সকালে মুক্তামনির চিকিৎসার জন্য গঠিত ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তার বায়োপসি রিপোর্ট পর্যালোচনা করে। এরপরই অস্ত্রোপচারের এ দিন ধার্য করা হয়।

ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, মুক্তামনির জীবন রক্ষার্থে যদি তার আক্রান্ত হাতটি কেটে ফেলতে হয়, তবে তা-ই করবেন তাঁরা। অবশ্য হাতটি রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা হবে। তবে শেষ পর‌্যন্ত তার হাতটি কাটতে হয়নি।

গত মাসে সাতক্ষীরা থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তামনিকে সরকারি উদ্যোগে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুটির খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সরকারের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসার খরচ বহনের কথা জানান।

মুক্তামনিকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকরা টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমের তাঁর শরীরের পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রতিবেদন দেখেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা এ ধরনের জটিল অস্ত্রোপচারে করতে আগ্রহী নন বলে জানান। তখন ঢামেকের চিকিৎসকরাই সাহস করে মুক্তামনির অস্ত্রোপচারে এগিয়ে আসেন।

মুক্তামনি সাতক্ষীরার সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের ইব্রাহিম হোসেনের মেয়ে। তার বয়স এখন ১২ বছর। ছয় মাস বয়সে তার ডান হাতে একটি গোটা দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সেটি তার হাত থেকে বড় হয়ে যায়। ফলে চলাফেরা করতে সমস্যা দেখা দেয়। গত প্রায় তিন বছর ধরে সে বিছানায় ছিল। গণমাধ্যমে এ খবর আসার পর সবাই মুক্তামনির রোগটির ব্যাপারে জানতে পারে।

//এআর

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি