ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ১৩:৫২:০০

যুক্তরাজ্যে উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে অ্যাসিড সন্ত্রাস

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০২:০১ পিএম, ১৬ জুলাই ২০১৭ রবিবার | আপডেট: ১০:০৭ পিএম, ১৬ জুলাই ২০১৭ রবিবার

একটি রুদ্ধ নৈশক্লাবে অ্যাসিড জাতীয় পর্দার্থ নিক্ষেপের পর ২০ জন মানুষ যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন। গত ১৭ এপ্রিল ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে কর্তৃপক্ষ ভয়ঙ্কর প্রবণতা বলে আখ্যায়িত করলেও অ্যাসিড বিক্রি ও বহনে তেমন কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আইন নেই যুক্তরাজ্যে। যার ফলে দেশটিতে ক্রমাগত বাড়ছে দাহ্য পদার্থ বা অ্যাসিড ছুড়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার প্রবণতা।   

ড্রেইন ক্লিনার হিসেবে ব্যবহৃত এক ধরনের বিষাক্ত দাহ্য পদার্থ বর্তমানে দেশটিতে বন্দুক কিংবা ছুরির পরিবর্তে ব্যাপকহারে ব্যবহার হচ্ছে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে।

মেট্রোপলিটন পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, লন্ডনে এ ধরণের আক্রমন ২০১৫ সালের তুলনায় গত বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৫ সালে অ্যাসিড হামলার ঘটনা ঘটেছিল ২৬১টি, যা ২০১৬ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫৪টিতে। যা ২০১৪ সালে ছিল ১৬৬টি। লন্ডন টাইমসের মতে, ২০১২ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত এ ধরণের হামলার ঘটনা ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

পূর্ব লন্ডনের মিঙ্গেল নাইটক্লাবে হামলার ঘটনায় দুই ব্যক্তি একচোখে অন্ধ হয়ে যান। এ হামলা ‘ক্ষয়কারী তরল’ দিয়ে ঘটানো হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

বর্তমানে বিদ্বেষমূলকসহ বিভিন্ন হামলায় অ্যাসিডকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার পূর্ব লন্ডনে মাত্র ৯০ মিনিটের মধ্যে পাঁচটি অ্যাসিড হামলার ঘটনা ঘটে। যা প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলছে। আর এর অন্যতম কারণ হিসেবে আইনি দুর্বলতা ও অ্যাসিডের সহজলভ্যতা দায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত মাসে অ্যাসিড-সন্ত্রাসের শিকার হন রেশাম খান ও জামিল মুখতার। একটি চলন্ত গাড়ি থেকে তাদের দিকে অ্যাসিড ছুড়ে মারা হয়।

রেস্টুরেন্টে খেতে আসা যুবকদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার এক পর্যায়ে এসিড হামলার শিকার হন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী ইমরান খান। ইমরান খান তার ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বলেন, মনে হয়েছিল তার সবকিছু কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সারা জীবনের জন্য অন্ধ হয়ে যাবেন তিনি। তবে একজন সহকর্মীর উপস্থিত বুদ্ধির কারণে ভয়াবহ ক্ষতি থেকে বেঁচে যান তিনি। কারণ, ওই সহকর্মী তার মুখে ক্রমাগত পানি দিয়ে ক্ষত গভীর হওয়া থেকে তাকে বাঁচান।

ঘর ও নর্দমা পরিষ্কারের জন্য অ্যাসিড কিনতে যুক্তরাজ্যের আইনে কোনো বয়সসীমা নেই। কিছুদিন ধরে অ্যাসিড কেনার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নারীদের চেয়ে অ্যাসিড-সন্ত্রাসের শিকার বেশি হচ্ছেন পুরুষেরা। যার বেশির ভাগই আইনের আওতায় আসছে না।

লন্ডনের অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ কনস্টেবল (এসিসি) র‍্যাচেল কেয়ারটন বলেন, এটা ভয়ংকর অপরাধ। এই প্রবণতা একজন মানুষকে পঙ্গু করে দেয়, বিকৃত করে দেয়। তিনি আরও বলেন, এই অপরাধ পরিকল্পনা করেই করা হয়। এই অপরাধের উদ্দেশ্যই থাকে একজনের সারা জীবন নষ্ট করা। তাই অ্যাসিডকে হামলার হাতিয়ার বানানো হচ্ছে।

এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে কেয়ারটন বলেন, ‘আলাদা বোতলে অ্যাসিড কেনার বিষয়টি দেখতে হবে। আমরা অ্যাসিড কেনার পরিমাণ ও বয়সসীমা নিয়ন্ত্রণ করে দিতে পারি।’

বর্তমানে এই সন্ত্রাস সবচেয়ে বেশি লন্ডনে ঘটছে জানিয়ে দাতব্য সংস্থা অ্যাসিড সারভাইভারস ট্রাস্ট ইন্টারন্যাশনালের সদস্য জাফ শাহ বলেন, সরকারের উচিত কার্ড ব্যবহার করে অ্যাসিড কেনার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা।

অ্যাসিড নিক্ষেপের মাধ্যমে আধিপত্য, শক্তি প্রদর্শন করা হয় বলে মনে করেন অপরাধবিজ্ঞানী সাইমন হার্ডিং। তবে ছুরিসহ ধরা পড়লে যে শাস্তির বিধান রয়েছে, তার চেয়ে কম শাস্তি অ্যাসিড নিক্ষেপে। তিনি মনে করেন, সরকারকে এ বিষয়ে তিনটি পদক্ষেপ নিতে হবে । এক. অ্যাসিডের সহজলভ্যতা কমাতে হবে। দুই. কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তিন. নাগরিকদের জন্য যথাযথ শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। সূত্র : ইউএসএসটুডে, মিরর, গার্ডিয়ান।

ডব্লিউএন

 


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি