ঢাকা, শনিবার, ২২ জুলাই, ২০১৭

যেভাবে বলা হচ্ছে সেভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়ার কারণ নেই

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৬:৪১ পিএম, ২৩ জুন ২০১৭ শুক্রবার | আপডেট: ০৫:২৭ পিএম, ১০ জুলাই ২০১৭ সোমবার

ছবি: জাকির হোসেন

ছবি: জাকির হোসেন

চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’ বাস্তবায়িত হওয়া কথা। এই আইনকে বলা হচ্ছে যুগোপযোগী ও অনলাইনভিত্তিক আইন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর মতে, এ আইন বাস্তবায়িত হলে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা হবে। একইসঙ্গে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) থেকে রাজস্ব আহরণ কয়েকগুণ বাড়বে। এর বাস্তবায়নে কর জিডিপি বাড়বে ১ শতাংশ।

এদিকে গত ২৩ মার্চ ভ্যাট অনলাইন সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুন আইনের সুবিধা, ভ্যাট আইনের প্রস্তুতিসহ সর্বশেষ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একুশে বিজনেসের সঙ্গে কথা বলেছেন ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের উপ-পরিচালক মো. জাকির হোসেন।

একুশে বিজনেস : ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হতে যাচ্ছে। অনেকে বলছে এই আইন কার্যকর হলে দ্রব্য মূল্য বেড়ে যাবে। এ বিষয়ে আপনি কী মনে করেন?

জাকির হোসেন : দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির ব্যাপারে পত্রিকা বা মিডিয়াগুলো যেভাবে বলছে, সেভাবে দ্রব্য মূল্য বাড়ার কোনো কারণ নেই। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছে যারা একটা পরিস্থিতি বা প্রোপাগান্ডা সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর পরিবেশ তৈরি করেন। নতুন ভ্যাট আইনে দ্রব্য মূল্য বাড়ার আইনগত কোনো কারণ নেই। দু-একটা পণ্যে যেখানে দাম বাড়ার সুযোগ ছিল সরকার সেখানে ব্যবস্থা নিচ্ছে। ভ্যাট আইনের কারণে চারটি পণ্য ছাড়া অন্য কোনো পণ্যের দাম বাড়ার আনইগত কোনো ভিত্তি নাই। বরং অন্য দ্রব্যের দাম কমবে। আর যদি নাও কমে তবে দাম ঠিক রেখে ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা করতে পারবেন।

একুশে বিজনেস : আমরা শুনেছি ভারত নতুন অনলাইন ভ্যাট আইন চালু করতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আপনি যদি কিছু বলতেন?

জাকির হোসেন : ভারতে ১ জুলাই থেকে যে ভ্যাট আইন কার্যকর হতে যাচ্ছে তার নাম হচ্ছে গুডস অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স (জিএসটি)। দুটি মূলত: একই জিনিস। তাদের ওখানে চারটি রেট আছে। এর একটা হলো ৫ শতাংশ, আরেকটা ১২ শতাংশ। ৫ শতাংশ হলো বেসিক এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্ট বা ফুড প্রোডাক্টের উপর, যেটা বাংলাদেশে মাফ (ভ্যাট আরোপ করা হয়নি) করে দেওয়া আছে। আরেকটা হলো সেমি ফিনিশড প্রোডাক্টের উপর। যেখানে ১২ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এই সেমি ফিনিশড প্রোডাক্টের বেশিরভাগ দ্রব্যের ভ্যাট বাংলাদেশে মাফ করে দেওয়া আছে। ভ্যাটের ক্ষেত্রে ভারতে স্যান্ডার্ড রেট হলো ১৮ শতাংশ যেখানে বাংলাদেশের স্যান্ডার্ড রেট ১৫ শতাংশ। ভারতে সিন গুডস্ (যেমন-মদ, সিগারেট)-এর ক্ষেত্রে ২৮ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা আছে। বাংলাদেশে এসব পণ্যের উপর ভ্যাট ১৫ শতাংশই। তবে এসব পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি নামে একটা ডিউটি আছে। সেটা আবার অনেক বেশি। কাজেই ভারতের ট্যাক্স আর আমাদের ট্যাক্স প্রায় একই। আমরা যেসব পণ্যে ডিউটি মাফ করে দিয়েছি তারা সেটা মাফ না করে সামন্য রেটে কর আরোপ করেছে।

একুশে বিজনেস : শেষ সময়ে ভ্যাট অনলাইনের ক্ষেত্রে আপনার প্রস্তুতি কেমন?

জাকির হোসেন : সরকার ভ্যাট অনলাইন প্রোজেক্টের মাধ্যমে নতুন আইন বাস্তবায়নের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নতুন আইনে এখন পর্যন্ত ৪৬ হাজার নিবন্ধন সম্পূর্ণ হয়েছে। কিছু পত্রিকার খবরে আসছে নতুন নিবন্ধন হচ্ছে না। এটা সঠিক তথ্য নয়, এখানে আপনাকে বলে রাখি, গতকালও দুই হাজার দুই শ ৫৬ জন নিবন্ধন করেছেন। তার মানে জনগণ চায়, যারা সৎভাবে ব্যবসা করেন, যারা ট্যাক্স দেন তারা চান এই আইন বাস্তবায়িত হোক। ১ জুলাই যখন নতুন আইন আসবে তখন দেখবেন জনগণ স্বতস্ফুর্তভাবে এটা গ্রহণ করবে। কারণ সাধারণ মানুষ ট্যাক্স দেয়। কিন্তু সরকার এটা পাচ্ছে না। জনগণ চায় তাদের ট্যাক্সের টাকা যাতে সরকার পায়।

একুশে বিজনেস : তাহলে পত্রপত্রিকায় আমরা যা দেখছি সেটা সম্পূর্ণ ভুল?

জাকির হোসেন : আপনি জানেন যে গন্ধের চেয়ে দুর্গন্ধ বেশি ছড়ায়। কিছু ব্যক্তি যারা এখন ভ্যাট দেন না, বা জনগণের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করেন কিন্তু সরকারের কাছে ভ্যাট দেন না, তারা একটা প্রচার চালাচ্ছে। নতুন অবস্থাতে স্বচ্ছতাটা নিশ্চিত হবে। সরকারের দিক থেকেও, ব্যবসায়ীদের দিক থেকেও। এই স্বচ্ছতাটা যাতে না হয়, সেই জন্যই এ প্রোপাগান্ডাগুলো চালানো হচ্ছে। আপনি দেখেন কিছু পত্রিকা এই আইনের এক দিকে লিখছে, আবার কিছু পত্রিকা অন্য দিকে লিখছে। এসব খবরের কোনো আইগগত ভিত্তি নাই। তারা যদি নতুন আইনটা ভালো করে পড়ে বা বুঝে লিখতেন তাহলে এটা এমন হতো না।

একুশে বিজনেস : ট্যাক্সের রেটের হার কমানো যায় কিনা? কমালে রাজস্ব খাতে কিরূপ প্রভাব পড়বে?

জাকির হোসেন : রাজস্ব কমবে, এটা ঠিক আছে। এখন যদি ভার্টিক্যালি যাই। যেমন নতুন আইনে ‍যিনি ট্যাক্স দেন তার কাছ থেকে যদি আমরা বেশি আদায় করতে চাই, এটা খারাপ দিক। নতুন আইনে যিনি ভ্যাট দিবেন তিনি তার ন্যায্য অংশটুকু দিবেন। কিন্তু যিনি এখন একেবারেই দিচ্ছেন না তাকে আমার ভ্যাটের আওতায় নিয়ে আসবো। তবে রেট যদি কমানোও হয়, তবে ভ্যাটের আওতার বাইরে থাকা মানুষদেরকে ভ্যাটের আওতায় নিয়ে এসে রাজস্বের আকারটা বাড়িয়ে দিতে পারবো। তবে এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এখানে আমাদের কথা বলাও ঠিক নয়। ট্যাক্স রেটের হারের ব্যাপারে একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা সহজ হবে, কাস্টমসের একটা তথ্য হলো এরকম যে এক সময় ৩৫০ থেকে ৪০০ শতাংশ রেট ছিল। তখন হয়ত চার-পাঁচ হাজার কোটি টাকা আদায় হতো। এখন রেট আছে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ। এখন আদায় হয় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। তার মানে হলো রেট কমলে পরোক্ষ কর বাড়ে।

একুশে বিজনেস : ভ্যাট প্রদানকারীরা কি কি সুবিধা পাবেন?

জাকির হোসেন : ভ্যাট প্রদানকারী বলতে আমার এখানে ভোক্তা বা জনগণকে বুঝি। জনগণ ট্যাক্স দেয় আরো বেশি রিটার্ন পাওয়ার জন্য। যেমন একটা হাসপাতাল, একটা ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ভালো রাস্তা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এগুলো চায় জনগণ, তো জনগণ এই জিনিসটা পাবে। যেহেতু সরকারের কাছে টাকা বেশি আসবে, টাকা বেশি ইনভেস্ট করতে পারবে। স্কুলে এখন যেমন ধরেন বই ফ্রি দিচ্ছে কিন্তু খাতা কলম ফ্রি দিতে পারছে না সরকার, পোষাক ফ্রি দিতে পারছে না বা আরো কোয়ালিটি ইডুকেশনের জন্য আরো ভালো বই দেওয়া দরকার, ভালো টিচার নিয়োগ করা দরকার, টিচারের বেতন আরো বেশি হওয়া দরকার, এ জিনিসগুলো সরকার পারছে না, চাইলেও পারছে না। কারণ সরকারের কাছে তো টাকা নাই। যখন জনগণের দেওয়া টাকা সরকারের কাছে আসবে তখন সরকার এই শিক্ষক ও জনগণের পিছনে খরচ করতে পারবে। দ্বিতীয় সুযোগ হলো সরকার বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে পারবে। এতে করে কর্মসংস্থান বাড়বে।

একুশে বিজনেস : নতুন ভ্যাট আইনে ব্যবসায়ীরা কি কি সুবিধা পাবেন?

জাকির হোসেন : নতুন ভ্যাট আইন শতভাগ ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব। ভ্যাট অফিসে না গিয়ে এবং খুব কম সময়ের মধ্যে কর সুবিধা পাবেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন ভ্যাট অফিসের যোগাযোগের ঠিকানা হবে ১৬৫৫৫। এতে অনেক বেশি সুবিধা পাবেন ব্যবসায়ীরা। ভ্যাট আহরণও বাড়বে।

একুশে বিজনেস : ভ্যাট অনলাইনে নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের টার্গেট কত?

জাকির হোসেন : আগামী ৫ বছরে ৫ লাখ নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের (বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা বিন) আওতায় আনতে আমরা কাজ করছি। চলতি অর্থবছর নিবন্ধন টার্গেট দেড় লাখের বেশি। বর্তমানে দেশে ৮ লাখ ৮৬ হাজার নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩২ হাজার প্রতিষ্ঠান রিটার্ন দাখিল ও ভ্যাট দেয়। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো কী অবস্থায় আছে বা আদৌ আছে কিনা- আমাদের জানা নেই।

একুশে বিজনেস : ভ্যাট নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলুন।

জাকির হোসেন : যেকোনো জায়গায় বসে ভ্যাট অনলাইনের www.vat.gov.bd নিবন্ধন করা যাবে। নতুন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কোনো কাগজপত্র দিতে হবে না। নিবন্ধনের জন্য ইলেকট্রনিক ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ই-টিআইএন), জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ব্যাংক হিসাব নম্বরসহ কিছু তথ্য দিলে মাত্র ৫ মিনিটে নিবন্ধন সনদপত্র পেয়ে যাবেন। পোস্টাল কোড অবশ্যই দিতে হবে। পোস্টাল কোডের মাধ্যমে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের এলাকা (কোন ভ্যাট কমিশনারেটের আওতাধীন) নির্ধারণ করা হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে বছরে ৩০ লাখ টাকার কম লেনদেন হয়- সেসব প্রতিষ্ঠানকে বিআইএন নিবন্ধন নিতে হবে না।

একুশে বিজনেস : ১ জুলাইয়ের পর আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও কী অনলাইনে নিবন্ধন লাগবে?

জাকির হোসেন : আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে নিবন্ধন বা পুনঃনিবন্ধন না করলে ১ জুলাইয়ের পর সেসব প্রতিষ্ঠানের পণ্য সরবরাহ, এলসি খোলা এবং আমদানি-রপ্তানিসহ সব ধরনের ব্যবসায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। জুলাইয়ের আগে অবশ্যই আগের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে ১১ সংখ্যার পরিবর্তে ৯ সংখ্যার পুনঃনিবন্ধন সনদপত্র নিতে হবে। কাস্টমসের সঙ্গে ভ্যাট অনলাইনের ইন্টিগ্রেশনের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। অনলাইনে নিবন্ধনের সঙ্গে সঙ্গে কাস্টমসে অটোমেটিক বিআইএন নম্বর চলে যাবে। কাস্টমসের অনলাইনে বিআইএন নম্বর না থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠান বিল অব এন্ট্রি দাখিল করতে পারবে না।

একুশে বিজনেস : ভ্যাট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সম্পর্কে বলুন।

জাকির হোসেন : ভ্যাট নিবন্ধনের জন্য বড় ভ্যাট কমিশনারেটে ৯ জন ও ছোট কমিশনারেটের ৭ জন করে লাগবে। ইতোমধ্যে বড় কমিশনারেটে ১৮ জন ও ছোট কমিশনারেটে ১৫ জন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এতে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলি হলেও নিবন্ধনে প্রভাব পড়বে না। প্রশিক্ষিত জনবলকে ২ বছরের আগে বদলি করা হবে না। ভ্যাট আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ শেষ। এখন ভ্যাট অনলাইনের সফটওয়্যার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

একুশে বিজনেস : ভ্যাট আইন ও অনলাইন সম্পর্কে জানতে চালু হওয়া কল সেন্টারে কেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে?

জাকির হোসেন : ১৬৫৫৫ নম্বরে ফোন করে নতুন আইন ও অনলাইনে নিবন্ধন সম্পর্কে যে কোনো তথ্য পাওয়া যাবে। বর্তমানে প্রতিদিন ২০০ এর বেশি প্রশ্ন আসছে। কিছু প্রশ্নের উত্তর কল সেন্টারের কর্মীরা তাৎক্ষণিক দিতে পারছেন। কিছু প্রশ্ন কল সেন্টারে থাকা ভ্যাট অনলাইনের কর্মকর্তা দিচ্ছেন। কোনো প্রশ্নের উত্তর তাৎক্ষণিক দেওয়া সম্ভব না হলে উত্তর তৈরি পরে প্রশ্ন কর্তাকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

একুশে বিজনেস : অনলাইনে ভ্যাট দেওয়ার পদ্ধতি কী?

জাকির হোসেন : ব্যবসায়ীরা বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ভ্যাট প্রদান করছেন; ভবিষ্যতেও এভাবেই দেবেন। পার্থক্য হল, অনলাইনে ভ্যাট দেওয়া হলে ভ্যাট অফিস কোনো কাগজ রিসিভ করবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক একটি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে চালু করেছে। সেটা নিয়ে তারা কাজ করছে। অনলাইন পেমেন্ট পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে যেকোনো প্রতিষ্ঠান অনলাইনে যেকোনো ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ভ্যাট দিতে পারবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে অনলাইন গেটওয়ে বাস্তবায়িত হবে।

একুশে বিজনেস : নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে রাজস্ব জিডিপি ১ শতাংশ বাড়বে। এ সম্পর্কে বলুন-

জাকির হোসেন : ২০১৩ সালে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প শুরুর সময় ভ্যাট জিডিপি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার সময় বলা হয়েছিল, এ আইন বাস্তবায়ন হলে ভ্যাট জিডিপি ১ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হবে। বিশ্বব্যাংক ৩ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলা হলেও আমরা ১ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলেছি।

একুশে বিজনেস : ভ্যাট ট্রাস্টিদের ভ্যাট অনার কার্ড কেন?

জাকির হোসেন : ব্যবসায়ী ভোক্তা থেকে ভ্যাট আদায় করে সরকারকে যথা নিয়মে প্রদান করলে সে ব্যবসায়ীকে আমরা ভ্যাট ট্রাস্টি বলবো। কেউ কেউ হয়ত এর ব্যত্যয় করছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনে কঠোর ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আইনের সাহায্যে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী বিশ্বস্ত হবে। ভ্যাট ট্রাস্টিদের জন্য বিশাল প্রণোদনা হল, ভ্যাট অনার কার্ড। যেকোনো ব্যবসায়ী ১২ মাসে ১২টি রিটার্ন দাখিল করলে ভ্যাট অনার কার্ড পাবেন।

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি