ঢাকা, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২০:০৩:৪০

রাখাইনে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান নিরাপত্তা পরিষদের

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:৩২ এএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সেনাবাহিনীর অভিযান নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। সেখানে সহিংসতা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্সের।


রাখাইনে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সেনা অভিযানে হত্যা-নিপীড়নের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গার ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার প্রেক্ষাপটে বুধবার এই সংকট নিয়ে আলোচনায় বসে নিরাপত্তা পরিষদ।


বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ১৫ সদস্যের এই কাউন্সিল মিয়ানমারের রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অতিরিক্ত সহিংসতার খবরে উদ্বেগ জানিয়েছে।


রাখাইনে সহিংসতা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ, পরিস্থিতির উত্তরণ, আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বেসামরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।


রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।গুতেরেস জানান, রাখাইনে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোর ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর আক্রমণ একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এ ধরনের সেনা অভিযান বন্ধ করতে হবে।


জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, আমরা দেখেছি গত সপ্তাহে এক লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়েছে। সেখানে (বাংলাদেশে) মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় তিন লাখ।


পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের অনেকেই বাংলাদেশে বিভিন্ন অস্থায়ী জনবসতিতে বসবাস করছে। স্থানীয়রা অনেকেই আবার দয়া করে রোহিঙ্গাদের থাকতে দিচ্ছে। কিন্তু নারী ও শিশুরা ক্ষুধা ও অপুষ্টির শিকার হয়ে সেখানে পৌছাচ্ছে।


এই বিপর্যয়কে ‘জাতিগত নিধন’ বলা যাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে গুতেরেস বলেন, দেশটি ছেড়ে এক তৃতীয়াংশ রোহিঙ্গা পালিয়েছে। উত্তরের জন্য  এর থেকে ভালো উদাহরণ আর কী হতে পারে?


মিয়ানমারের মানবিক অবস্থা ভয়াবহ উল্লেখ করে গুতেরেস মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াইরত আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মিসহ (এআরএসএ) বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রতি নিন্দা জানান। তিনি আরো উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গাদের ওপরও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযান বন্ধ করতে হবে এবং পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।


এ সময় জাতিসংঘের মহাসচিব বিশ্বের বিভিন্ন সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।  


প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট রাতে রাখাইনে একসঙ্গে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনাক্যাম্পে হামলা চালায় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরএসএ)। ওই হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ ৮৯ জন মারা যায় বলে মিয়ানমার সরকারের ভাষ্য। এরপরই রাজ্যটিতে শুরু হয় সেনা অভিযান।
জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেনা অভিযানে এক হাজারের অধিক নিরীহ রোহিঙ্গা মারা গেছে। আর প্রাণ বাঁচাতে সর্বস্ব হারিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা। যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
//এআর

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি