ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭ ৮:৩০:৩৮

রুবির স্বীকারোক্তি অপরাধীদের স্বাভাবিক নিয়তি : নীলা চৌধুরী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৩:০৪ পিএম, ৮ আগস্ট ২০১৭ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৫:৪১ পিএম, ৮ আগস্ট ২০১৭ মঙ্গলবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি রাবেয়া সুলতানা রুবির ফেসবুকে দেওয়া ‘স্বীকারোক্তি’কে অপরাধীদের স্বাভাবিক নিয়তি বলে মন্তব্য করেছেন সালমানের মা নীলা চৌধুরী। তাকে (রুবি) যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে জবানবন্দি নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন নীলা চৌধুরী।


‘সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি, স্ত্রী সামিরা হক ভাড়াড়ে খুনি দিয়ে তাকে খুন করান’-সোমবার ফেসবুকে দেয়া রুবির এমন বিস্ফোরক বক্তব্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর থেকে দুই দশক আগের ওই ঘটনা ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। লাখো সালমান ভক্ত সালমানের মৃত্যুর রহস্যজট উদঘাটনের আশা দেখছেন রুবির স্পষ্ট বক্তব্য থেকে।  


ভিডিওবার্তায় রুবির ওই বক্তব্য আসার পর লন্ডনে বসবাসরত সালমানের মা নীলা চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, সব অপরাধীই এক সময় অপরাধ স্বীকার করতে বাধ্য হয়, রুবির বক্তব্যই তার প্রমাণ। আজ যে স্বীকারোক্তি রুবি দিয়েছে, কোনো পাগল কী এভাবে বলবে?  সে তো নিজে এসে সাক্ষী দিতে চাচ্ছে। তাকে সরকারের মাধ্যমে ঢাকায় এনে তার জবাবন্দি নেওয়া হোক। এটা সালমান ভক্ত ষোল কোটি মানুষের দাবি, কেবল নীলা চৌধুরীর দাবি নয়।


এর আগে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে সালমান শাহর মা বলেন, প্রিয় দেশবাসী। আমাকে সাহায্য করুন। দেখুন, রুবি সুলতানার স্বীকারোক্তি। কীভাবে সালমানকে হত্যা করা হয়েছে। যেভাবে পারেন এফবিআইকে জানান, বাংলাদেশের সব চ্যানেলকে অনুরোধ করছি রুবির স্বীকারোক্তিটা চালিয়ে দেন।


প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটন রোডে নিজের ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়কদের অন্যতম সালমান শাহর লাশ উদ্ধার করে।


সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ বিবেচনা করে পুলিশ সে সময় অপমৃত্যুর মামলা করলেও সালমান শাহর পরিবার তা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন। সালমানের বাবা কমরুদ্দীন আহমেদের মৃত্যুর পর সেই মামলা এখন চালাচ্ছেন মা নীলা চৌধুরী।


সালমান শাহর মৃত্যুর জন্য তার স্ত্রী সামিরা হক, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মাদ ভাইসহ ১১ জনকে দায়ী করে আদালতে আবেদন করেছিলেন নীলা; ওই ১১ জনের মধ্যে সালমান শাহর ‘বিউটিশিয়ান’ রুবি ও তার স্বামীর নামও রয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় বসবাসরত রুবি সোমবার ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেন নাই। সালমান শাহকে খুন করা হয়েছে। রুবির স্বামী এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। সামিরার পরিবার রুবির স্বামীকে দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। হত্যায় জড়িত সবাই ছিল চীনা নাগরিক।


রুবি জানান, স্বামীর নাম চ্যাংলিং চ্যাং, যিনি বাংলাদেশে জন চ্যাং নামে পরিচিত ছিলেন। ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়কে সাংহাই রেস্টুরেন্ট নামে তার একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁ ছিল। স্ত্রী সামিরাকে নিয়ে যে অ্যাপার্টমেন্টে সালমান শাহ থাকতেন, তার পাশেই ছিল তাদের বাসা।


রুবির ওই ফেসবুক বার্তায় তোলপাড় শুরু হয়। তবে সালমান শাহকে কী কারণে হত্যা করা হয়েছিল, সেই বিষয়ে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি রুবির ভিডিও বার্তায়। তবে তার ওই দাবিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে রহস্যঘেরা ওই মৃত্যুর তদন্তের দায়িত্বে থাকা সংস্থা পিবিআই।


অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসা সামিরার বাবা বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা এতদিন পর রুবির এ ধরনের বক্তব্যের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।


নীলা চৌধুরী বলেন, রুবি আমাকে চরিত্রহীন প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন, সামিরার বাবাও চেষ্টা করেছেন। আমাকে খারাপ প্রমাণ করে কি আমার ছেলের খুনকে বদলায়ে ফেলতে পারবে তারা? সালমান শাহর মায়ের অভিযোগ, আইনজীবী থেকে শুরু করে সবাই তাকে এতদিন ঘুরিয়েছেন। বিবাদীপক্ষের টাকা খেয়ে হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বলে প্রমাণের চেষ্টা করেছে। এরপরই রুবির ‘স্বীকারোক্তি’ আসায় নীলা চৌধুরী সন্তুষ্ট হয়েছেন। এটিকে নিজের প্রার্থনার ফসল বলেছেন নীলা চৌধুরী। সেই সঙ্গে অপরাধীদের স্বাভাবিক নিয়তি বলে উল্লেখ করেন।


নীলার ধারণা, তার ছেলের হত্যাকারীরা এতদিন রুবির মুখ বন্ধ রাখতে পারলেও এখন ‘একটা কিছু’ হয়েছে, যে কারণে তিনি সব বলে দিতে চাইছেন। তিনি বলেন, তার জীবনের উপর হুমকি আসছে বলেই এখন সে আটকাতে পারে নাই। নিরাপত্তার কারণে দেশে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন নীলা চৌধুরী।


তিনি বলেন, নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না। তবে দেশে মামলা পরিচালানার জন্য তার লোক আছে। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের অধীনে অনেক খুনের বিচার হয়েছে। তাহলে সালমান শাহকে ‘হত্যার’ বিচার হবে না কেন?
//এআর


© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি