ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭ ৮:২৯:৩০

রোহিঙ্গা বসবাসকারী এলাকায় ভোটার হতে মা-বাবার এনআইডি লাগবে

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:৩০ পিএম, ১৭ জুলাই ২০১৭ সোমবার | আপডেট: ০৭:২৫ পিএম, ১৭ জুলাই ২০১৭ সোমবার

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তি ঠেকাতে ৩০টি উপজেলায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এসব এলাকায় যিনি ভোটার হওয়ার আবেদন করবেন তাকে তার বাবা-মা, ফুফু, চাচার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।

সোমবার (১৭ জুলাই) দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ভোটার তালিকা হালনাগাদ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয় সভা শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

ইসি সচিব বলেন, ‘দেশের যেসব এলাকায় রোহিঙ্গারা বসবাস করছে সেখানকার জনগণকে ভোটার হতে হলে বাবা-মা, ফুফু এবং চাচার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেখাতে হবে। এসব এলাকার জনগণকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা বৃদ্ধির তথ্য জানিয়ে ইসি সচিব বলেন,  ‘এর আগে ২০টি উপজেলা ছিল বিশেষ এলাকা।  এবার আরও ১০টি এলাকা চিহ্নিত করেছি। এই ৩০টি এলাকার জন্য বিশেষ কমিটি রয়েছে। রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার প্রবণতা রোধে এসব বিশেষ এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।  তবে নতুন করে কোন ১০টি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সচিব তা উল্লেখ করেননি।

সভায় সব বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের প্রতিনিধি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সচিব বলেন, তিনটি ধাপে মোট ৭২ দিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর ২ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১ জানুয়ারি ২০০০ বা তার আগে যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে এবার তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া ভোটার তালিকা থেকে মৃত ব্যক্তিদের নাম বাদ দেয়া হবে।

তথ্য হালনাগাদের সময় নাম সংশোধন বা ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে পারবেন কিনা জানতে চাইলে সচিব বলেন, ১৩ নম্বর ফরম পূরণ করে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করা যাবে। তথ্য হালনাগাদে নাম সংশোধনের বিষয়টি রাখা হয়নি। নাম বা অন্য যেকোনো তথ্য সংশোধনের জন্য নির্বাচন অফিসে যেতে হবে।

আগামী ২৫ জুলাই থেকে ৯ অগাস্ট পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার হালনাগাদ কাজ শুরু হবে। যাদের বয়স ১ জানুয়ারি ২০০০ বা তার আগে অর্থাৎ ১ জানুয়ারি তাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, এবার তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

তথ্য সংগ্রহের পর তিনটি ধাপে ডিসেম্বরের মধ্যে নাগরিকদের ছবি ও তথ্য নিবন্ধন করা হবে। ২ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।  হালনাগাদে ঠিকানা স্থানান্তর  ও মৃত ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া হবে। তবে তথ্য হালনাগাদে নাম সংশোধনের বিষয়টি রাখা হয়নি। নাম বা অন্য যেকোনো সংশোধনের জন্য যেকোনো দিন নির্বাচন অফিসে যেতে হবে। আর এটা সারা বছরই করা যাবে।

ইসি সচিব বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পাদনের জন্য সাত পর্যায়ে সাত ধরনের কমিটি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি, বিভাগীয় কমিটি, জেলা, উপজেলা, বিশেষ এলাকার জন্য আদালা কমিটি, সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য কমিটি, ক্যান্টনমেন্ট এলাকার জন্য কমিটি আছে। এবারের ভোটার তালিকায় বাদ পড়া ৩৫ লাখ ভোটারকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

সারা বছরই যে কাউকে নতুন করে ভোটার তালিকাভুক্ত করা যাবে। এছাড়া যে কেউ সংশোধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন, সংযোজন-বিয়োজন করতে পারবেন। কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে যেকোনো সময় উপজেলা নির্বাচন অফিসে এসে আবেদন করতে পারবেন।

নারী ভোটার বাড়ানোর বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, নারী ভোটার বাড়ানোর জন্য আমরা বিশেষ উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। মহিলা বিষয়ক মন্ত্রী এবং সচিবের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেছি। এছাড়া নারী নেতৃত্বে যারা আছেন, বিশেষ করে নারী জনপ্রতিনিধি ও এনজিও কর্মীদের কাছে এই কার্যক্রমে আমরা সহযোগিতা  চেয়েছি।

ডব্লিউএন

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি