ঢাকা, সোমবার, ১৬ জুলাই, ২০১৮ ২০:৫২:২৪

Ekushey Television Ltd.

সংরক্ষিত নারী আসন বহালে বিল পাস হচ্ছে আজ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:৪৮ এএম, ৮ জুলাই ২০১৮ রবিবার

আলোচিত ‘সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল-২০১৮’ আজ রবিবার জাতীয় সংসদে পাস হতে যাচ্ছে। বিলটি পাসের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন আগামী ২৫ বছর একইভাবে বহাল থাকবে। বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিলটি পাসের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য সরকারি দলের সদস্যদের আজকের অধিবেশনে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে ১৯৭৩ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের বিধান চালু হয়। এই আসন ১৫টি থেকে বেড়ে এখন ৫০টিতে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৫-এর দফা (৩) এর বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী বর্তমানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের ১০ বছর মেয়াদ ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি শেষ হবে। পরবর্তী সময়ে এই বিধান বহাল রাখতে গত ১০ এপ্রিল আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক ‘সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল-২০১৮’ উত্থাপন করেন। বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিলটি পাসের সুপারিশ করে গত ৬ জুন সংসদে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আজ বিলটি পাসের জন্য সংসদ অধিবেশনের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিলটি পাসের জন্য কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনী বিল পাস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখানে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোট প্রয়োজন। যদিও বিলটি সর্বসম্মতিতে পাস হবে বলে আমরা নিশ্চিত। তার পরও সব সদস্যকে আজকের অধিবেশনে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।’
সংসদে উত্থাপিত বিলে সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় সংশোধনীর প্রস্তাব করে বলা হয়েছে, ‘সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) আইন-২০১৮ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অব্যবহিত পরবর্তী সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে শুরু করিয়া ২৫ বৎসরকাল অতিবাহিত হইবার অব্যবহিত পরবর্তীকালে সংসদ ভাঙিয়া না যাওয়া পর্যন্ত ৫০টি আসন কেবল মহিলা সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে এবং তাঁহারা আইন অনুযায়ী পূর্বোক্ত সদস্যদের দ্বারা সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হইবেন।’
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংরক্ষিত মহিলা আসনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার কারণে সমাজে সবক্ষেত্রে মহিলাদের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। সংরক্ষিত আসনের প্রয়োজনীয়তা এখনো বিদ্যমান। কিন্তু সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে মেয়াদ বৃদ্ধি করা না হলে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির পর জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য কোনো আসন সংরক্ষিত থাকবে না। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যদের নিয়ে গঠন করতে হলে দশম সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় সংবিধানে এসংক্রান্ত বিধান সংশোধন করা আবশ্যক।
জাতীয় সংসদে ৩০০টি সাধারণ আসন ও ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে। আগে সরকারি দল সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী মনোনয়ন দিলেও বর্তমানে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সাধারণ আসনের অনুপাতে নারী আসনের প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে থাকে রাজনৈতিক দলগুলো। এ ক্ষেত্রে তারা প্রতি ছয়জনে একজন নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারে।
এসএ/

 



© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি