ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭ ১১:০৪:৫৫

সরকার কিংবা বিরোধী কারো ফাঁদে পা দেবো না : প্রধান বিচারপতি

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০১:২১ পিএম, ১০ আগস্ট ২০১৭ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৪:০৪ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৭ শনিবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেছেন, সরকার কিংবা বিরোধী দল- কারও ফাঁদেই সুপ্রিম কোর্ট পা দেবে না। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে যে কোনো ‘গঠনমূলক সমালোচনা’  আদালত স্বাগত জানাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এ রায় নিয়ে রাজনীতি না করারও আহবান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। বৃহস্পতিবার সকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে এ মন্তব্য আসে।


এর আগে বুধবার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তিনি বলেন, আমরা এতকাল জেনে এসেছি, দিস ইজ পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ, কিন্তু এ রায়ের পরে মনে হচ্ছে, উই আর নো লংগার ইন দি পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ। উই আর রাদার ইন জাজেস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ।


সর্বোচ্চ আদালতের ওই রায়কে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ‘পূর্বধারণাপ্রসূত’ বলেছেন। সংসদ সদস্যদের নিয়ে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণকে তিনি ‘অপরিপক্কতা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।   


সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম নেতা জয়নুল আবেদীন বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন আপিল বিভাগের সামনে তুলে ধরেন।  তিনি বলেন, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান দায়িত্বশীল পদে আছেন, তিনি এভাবে কথা বলতে পারেন না। আমরা বিচার বিভাগের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার কথা বলছি।


এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ঠিক আছে। আপনারা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। আপনারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য বলছেন। তবে রায় ঘোষণার পর গঠনমূলক সমালোচনা করা যায়। রায় হওয়ার পর আমরা গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করি।


এ সময় জয়নুল আবেদীন বলেন, সর্বোচ্চ বিচারালয়কে নিয়ে যেভাবে বলা হয়েছে, তা আদালত অবমাননাকর। এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, এই বিচার বিভাগকে রক্ষা করতে হলে কোনো রাজনীতি আনবেন না। আমরা রায় দিয়ে দিয়েছি। বিচার বিভাগ কোনো রিজয়েন্ডারও দেবে না।


জয়নুল আবেদীন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে রুল চাইলে আদালতে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আওয়ামী লীগ নেতা শ ম রেজাউল করিম বলেন, সমিতি থেকে এ বিষয়ে কোনো রেজুলেশন হয়নি।
এসময় সুপ্রিম কোর্ট বারের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান যা বলেছেন, তা স্পষ্টভাবে অদালত অবমাননা।


তিনি রুল চাইলে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি অনুরোধ করব, আপনারা সংযত আচরণ করবেন। সরকার বা বিরোধী দল- কারও ট্র্যাপে আমরা পড়ব না। আমরা সচেতন। সাতজন বিচারপতি চিন্তা-ভাবনা করেই রায় দিয়েছেন। রায় নিয়ে কেউ পলিটিকস করবেন না।


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদও আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের বক্তব্যকে অবমাননাকর বলেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আদালতকে নিয়ে কুৎসা রটানো হয়েছে।


এর আগে সকাল ৯টায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের দেওয়া বক্তব্য যা গণমাধ্যমে এসেছে, তা তুলে ধরেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, রায় নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করা যায়। ইতিহাসই একদিন বিচার করবে।


প্রসঙ্গত, গত ১ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৭৯৯ পৃষ্ঠার ওই রায় প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত রায় অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত করা হয়।
//এআর


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি