ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৮:৫৭:০৬

‘সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছানোর চেষ্টায় ঢাকা লিট ফেস্ট’

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:০৫ এএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৭ শুক্রবার | আপডেট: ০৭:১৪ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ রবিবার

ইমদাদুল হক মিলিন। বাংলাদেশের একজন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার। তিনি গল্প, উপন্যাস এবং নাটক-এ তিন শাখাতেই জনপ্রিয় রচনা উপহার দিয়েছেন। কিশোর বাংলা নামক পত্রিকায় শিশুতোষ গল্প লিখে তার সাহিত্যজগতে আত্মপ্রকাশ। ১৯৭৭ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রা পত্রিকায় ‘সজনী’ নামে একটি ছোটগল্প লিখে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শুরু করেন তিনি। ইমদাদুল হক মিলন লেখক হিসেবে এপার-ওপার দুই বাংলাতেই তুমুল জনপ্রিয়।

দুই বাংলায় তার “নূরজাহান’ উপন্যাসটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন। বৃহস্পতিবার তিনি ‘ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৭’এ যোগ দিতে বাংলা একাডেমিতে আসেন। এসময় লিট ফেস্ট ও সাহিত্যাঙ্গনের নানা জানা-অজানা প্রশ্ন নিয়ে তার মুখোমুখি হয় একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক- রিজাউল করিম

 

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : কেমন আছেন?

ইমদাদুল হক মিলন : হ্যা, ভালো।

 

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : এবার সপ্তম ‘ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৭’ আসর চলছে। দেশের সাহিত্যাঙ্গনে এ আয়োজন কতটুকু অবদান রাখছে বলে আপনি মনে করেন?

ইমদাদুল হক মিলন : ঢাকা লিট ফেস্ট আমাদের দেশের সাহিত্যটাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পোঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এটা একটা বড় ব্যাপার। এখানে বিশেষ লক্ষণীয় দিক হলো- আমাদের দেশে অনেক তরুণ লেখক এবং পাঠক এখানে আাসে। যেকোন দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি কিন্তু এগিয়ে নেয় তত। সেই তরুণদের এখানে দেখতে পাওয়া যায়। তারা এখানে পড়ছে-জানছে। সাহিত্য ও সংস্কৃতির এ আদান-প্রদান বা জানা-শোনার একটা দারুণ প্লাটফর্ম করে দিয়েছে ঢাকা লিট ফেস্ট। শুধু দেশের নয়, বিশ্বের সাহিত্যাঙ্গনে এর অবদান সুদূর প্রসারী।

আজকের বিশ্বে একটা অদ্ভুত রাজনৈতিক নৈরাজ্য চলছে। যাবতীয় স্থিতিশীল এবং স্থিতাবস্থাগুলো ভেঙে যাচ্ছে। পারস্পরিক বিচ্ছেদ, পারস্পরিক ব্যবধান বাড়ছে। সবচেয়ে বড় কথা একটা বড় রকমের বিচ্ছিন্নতাবাদ তৈরি হয়ে যাচ্ছে সর্বত্র। এই ধরনের ফেস্টিভাল বা উৎসবের গুরুত্ব এখানে যে, অনেক দেশ থেকে অনেক মানুষ এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারছেন। ফলে আমি যে বিচ্ছেদের কথা বলছি, যে ব্যবধানের কথা বলছি, সেটা কমে আসছে।

 

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : বুদ্ধিবৃত্তি ও সাহিত্য চর্চায় বাংলাদেশের তরুণরা কতটুকু এগিয়ে বলে আপনি মনে করেন?

ইমদাদুল হক মিলন : আমাদের দেশে বৃদ্ধিবৃত্তির চর্চা, বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ, প্রতিরোধী আন্দোলনগুলো যথেষ্ট সক্রিয়। এখন আমি একটা পরিষ্কার কথা বলি, সব দেশে সব কালে একটা চাপা আগুন সবসময় থাকে। বিশেষ করে একেবারে যুবসমাজের মধ্যে। তারা যেভাবে প্রতিবাদী হয়ে উঠতে পারে, তারা যেভাবে তাদের বিবেকী গুঞ্জনকে সম্মিলিতভাবে বিবেকী গর্জনে পরিণত করতে পারে, সেটা তো প্রবীণদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদের ওখানেও বিভিন্ন সময় দেখা গেছে যে প্রবীণরা কিন্তু পথে নেমেছে প্রয়োজনে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা যুদ্ধ সবক্ষেত্রেই তরুণদের অবদান অগ্রগণ্য। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে আমাদের দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক সাহিত্য চর্চায় তরুণদের আগ্রহ অনেক বেড়েছে। সাহিত্যের পরিধি দিনদিন প্রসারিত হচ্ছে।

 

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : বলা হয়ে থাকে- ‘যে জাতি সাহিত্যে-সংস্কৃতিতে যতবেশি সমৃদ্ধ সে জাতি ততবেশি অপসংস্কৃতি ও ভুল ধারণা থেকে পরিশুদ্ধ’। ঢাকা লিট ফেস্ট সে ক্ষেত্রে কতটুকু অবদান রাখছে?

ইমদাদুল হক মিলন : আসলে সাহিত্য কখনও একজন মানুষকে সরাসরি বলে দিবে না যে, তুমি এই পথে চলো আর এই পথে চলো না। সাহিত্যের কাজ হচ্ছে মানুষের চেতনার জায়গাটিকে বদলে দেওয়া। এখন এই চেতনার জায়গাটি কীভাবে বদলায়? সে ক্ষেত্রে আমরা ১৯৭১ সালের কথা বলতে পারি। সে সময়টার কবিতাগুলো, সেই সময়টার গানগুলো, রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, নজরুল। তাদের গানগুলো কিন্তু আমাদের ভিতর থেকে বদলে দেয়। আমাদেরকে উদ্দীপ্ত করে দেয়। শিল্প-সাহিত্যের কাজগুলো কিন্তু এ জায়গাটাই। মানুষের ভিতর থেকে চেতনা জাগায়।

 

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : উৎসবের সবক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে- এ বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

ইমদাদুল হক মিলন : এখানে অনেক বিদেশি লেখক আসছেন, তাদের অনেকে বাংলা ভাষা বোঝেন না, জানেন না; সুতরাং তাদের সঙ্গে একটা মধ্যবর্তী ব্যবধান দূর করার জন্য মাধ্যম হিসেবে ইংরেজি তো দরকারই। কিন্তু পাশ্চাত্যে বা ইউরোপে গেলে তারা কি আমাদের ভাষাকে রাখবেন, না তাদের যে ভাষা সেটাই রাখবেন? তারা কি আমাদের মতো করবেন? করবেন না। তো আমাদেরও সে বিষয়টি ভাবতে হবে।

 

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : বৈশ্বিক রাজনীতি-সংস্কৃতিতে এর কোনো প্রভাব পড়বে?

ইমদাদুল হক মিলন : আমরা পরস্পরের সঙ্গে মিলতে চাই, মিশতে চাই। এক এবং একীভূত হতে চাই। সেটার সুযোগ কিন্তু এই ফেস্টিভাল করেছে। অর্থাৎ আমি যেটা বলতে চাইছি, আত্মীয়তার বন্ধন তৈরি হয়েছে। এখানে রাজনৈতিক বিষয়টা একেবারেই বাইরে থাকা দরকার।

 

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : উৎসবকে ঘিরে আপনার কোন প্রস্তাবনা আছে কী না?

ইমদাদুল হক মিলন : এমন একটি আয়োজনে যদি একটা দেশের সঙ্গে আরেকটা দেশের ক্রমাগত সম্পর্ক বাড়ে বা সাহিত্য সমৃ্দ্ধ হয়, তবে আমি এটাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবো। সম্পর্ক তৈরি করতে হবে, সম্পর্কটা শুধু ভাষা দিয়ে না, আমাদের যাবতীয় শিক্ষা-সংস্কৃতি, আমাদের যাবতীয় চিন্তা-চেতনা সব কিছু নিয়ে আমাদের পৌঁছাতে হবে। আর সে জন্য এমন উৎসব আরও বৃহৎ কলেবরে আরও সময় বাড়িয়ে করতে হবে।

 

একুশে টেলিভিশন অনলাইন : ধন্যবাদ আপনাকে। সময় দেওয়ার জন্য।

ইমদাদুল হক মিলন : আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

এসএইচ/


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি