ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭ ৩:১৯:৩২

রোহিঙ্গা সংকট

সু চির খুঁটির জোর কি আসিয়ান নেতৃবৃন্দ ?

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১২:৪১ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ১২:৪৫ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৭ বুধবার

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একুশ শতকের সবচেয়ে বড় সঙ্কট-রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন আসিয়ান নেতৃবৃন্দ। সম্প্রতি ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুটিও আলোচিত হয়েছে গৌণভাবে। এতে অনেক প্রশ্নের জট মেলেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান সম্মেলনে অংশ নেওয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনো জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার বিপক্ষে ছিল। তারা আঞ্চলিক কোনো ইস্যুতেও হস্তক্ষেপ না করার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। এতে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সু চির খুঁটির জোর নিশ্চয়ই আসিয়ানের দেশগুলো।

এদিকে রোহিঙ্গা ইস্যুটি আলোচনা না হওয়ার পেছনে রদ্রিগো দুতার্তের দুর্বলতার কথাই বলছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বর্তমানে দুটি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। একটি রোহিঙ্গা সংকট। অন্যটি ফিলিপাইন সরকারের মাদকবিরোধী অভিযান। এ অভিযানে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ম্যানিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূরাজনীতি বিশেষজ্ঞ রিচার্ড হায়দারিয়ান দাবি করেন, দুতার্তে খুব দক্ষতার সাথে ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্বে’ হাজার হাজার মানুষের নিহত হওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। একইসাথে রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর চালানো জাতিগত নিধন অভিযান বিষয়ে তিনি তেমন কোনো মন্তব্য করেননি।

সেনাবাহিনীর নির্যাতনে ৬ লাখ রোহিঙ্গা দেশটি থেকে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিলেও এ বিষয়ে দুতার্তে সু চিকে কিছুই বলেননি। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা বলছেন, সু চিকে আক্রমণ করলে তিনি পাল্টা আক্রমণের শিকার হতে পারেন।

এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থোনিও গুতেরেস ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রডোসহ বিশ্বের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন বন্ধে বারবার বিবৃতি দিয়ে আসছে। তবে আসিয়ান নেতৃবৃন্দ এতে কর্ণপাতই করছে না।

মিয়ানমার এমনকি অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না বলে ইতোমধ্যে বিবৃতি দিয়েছে আসিয়ানের দেশগুলো। আশিয়ানের দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রমন্ত্রীগণ মিয়ানমারের মানবাধিকার প্রশ্নে নীরব থাকার সিদ্ধান নেন।

জাতিসংঘের কাছে দেওয়া প্রতিবেদনে তারা দাবি করে, ‘মিয়ানমারে যা ঘটছে তা কেবল নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর উপর আক্রমণ। সব রোহিঙ্গারা এ আক্রমণের শিকার নন।’ তবে মালয়েশিয়া এ প্রতিবেদনের বিরোধীতা করে বলে, প্রতিবেদনটি ঐক্যের ভিত্তিতে করা হয়নি।

আশিয়ান সম্মেলনের পর চেয়ারম্যান রদ্রিগো দুতার্তে গতকাল ২৬ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনের উপর ভাষণ দেন । তবে ভাষণের কোথাও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লেও আঞ্চলিক নীরবতাই সু চিকে সাহস যোগাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূচি: আল-জাজিরা

এমজে/এমআর


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি