ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২১:০৫:৫১

স্টাইলের মাঝেও চোখের সুরক্ষা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:৫৪ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০১৭ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৫:৩৭ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০১৭ শুক্রবার

অফিস, ক্লাস কিংবা বেড়াতে যাওয়ায় জন্য ঘর থেকে বেরুতে হয় আমাদের। আর এ কারণেই ঝুঁকি থাকে অতিরিক্ত রোদে ত্বকের ক্যান্সার থেকে শুরু করে চোখের প্রদাহের। ফ্যাশনেবল কিছু চশমা দিতে পারে এ পরিস্থিতে চোখের সুরক্ষা।

এসব থেকে রাতারাতি নিজেকে বাঁচিয়ে নেওয়ার উপায় হয়তো বাতলে দেওয়া যাবে না। তবে রোদ আর ধুলা-ধোঁয়ার উপদ্রব চোখ বাঁচিয়ে রাখা যেতে পারে একটি রোদ চশমার বদৌলতে।

বাহারি চশমার ফ্রেমে রঙে সাজিয়ে নেওয়া যায় নিজেকে। আর সত্যিকার অর্থে হালআমলে চোখে রোদচশমা যতটা না চোখকে বাঁচানোর উপকরণ তার চাইতে ঢের বেশি আরেক প্রস্থ স্টাইলের অনুষঙ্গ হিসেবে।

আর স্টাইলের খাতিরে যারা তাদের কপালের খানিকটা নিচে আর চোখের উপরে রোদ-চশমা এঁটেছেন তারা জানা-অজানায় চোখের উপকার বৈ অপকার করেননি। কারণ রোদ চশমাটি আপনার অজান্তেই বেগুনির রশ্মির ক্ষতির হাম থেকে রক্ষা করে। এছাড়া অতিরিক্ত ধুলো-ময়লা চোখে ঢোকার ফলে চোখে তৈরি হতে পারে মারাত্মক প্রদাহ। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে চোখ অতিমাত্রায় শুষ্ক হয়েও ঘটাতে পারে নতুন বিপত্তি। আবার যারা প্রখর সূর্যালোকে সারা দিনমান বাইরে ঘুরে বেড়ান, রোদের আলোয় তাকাতে গিয়ে তাদের কপালে তৈরি হয় ভাঁজ, যা থেকে দীর্ঘমেয়াদে তৈরি হতে পারে রূপ-সৌন্দর্য্যরে জন্য হানিকর বলি রেখাও।

অথচ এতসব সমস্যা কিন্তু অনেকাংশেই সমাধান হয়ে যেতে পারে একটি মানসম্পন্ন রোদ-চশমার বদৌলতে। হাল ফ্যাশনের রোদ-চশমার জন্মটা সেই প্রাচীন রোম থেকেই। তবে চশমা হিসেবে এর প্রথম ব্যবহার শুরু হয় সম্ভবত চীনে ১২ শতকের গোড়ার দিকে। প্রথম দিকে রোদ-চশমার লেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হতো এখন জানালার শার্শিতে যে ঘোলাটে সিলিকন কাচ ব্যবহার করা হয় সেটাকে।

অন্যদিকে রোদ-চশমায় নানারকম লেন্সের ব্যবহার শুরু হয় ১৮ শতকের মধ্যভাগে জেমস আয়েসকফের মাধ্যমে। এত গেল রোদচশমার গুনাগুণ আর ইতিহাসের কথা। কিন্তু বর্তমানের এই চৌহদ্দিতে দাঁড়িয়ে যখন নিজের চোখখানা বাঁচাতে আর ধোপদুরস্ত স্টাইল স্টেটমেন্ট গড়ে তুলতে আপনার চাই একখানা, তখন করণীয় কী?

এক্ষেত্রে প্রথমেই চোখের যত্ন নেবে এমন রোদ-চশমার কথা বলি। সাধারণত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চোখকে রক্ষা করতে আপনাকে এমন একটি রোদ-চশমা বা সানগ্লাস বেছে নিতে হবে যেটি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি’র শতভাগ প্রতিফলন ঘটাতে পারে।

এক্ষেত্রে সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত করতে সক্ষম এমন রোদ-চশমার অন্যদিকে চোখ বাঁচানোর পাশাপাশি যাদের কাছে রোদ-চশমা’র স্টাইলটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ তারা রোদচশমা কেনার সময় অবশ্য-অবশ্যই আপনার মুখের গড়নখানা মাথায় রাখুন।

সূর্যের আলো ও ত্বকের ওপর নির্ভর করে আপনার রোদ চশমা নির্বাচন করুন। অনেকে পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে রোদ চশমর রঙ নির্বাচন করেন। যাদের মুখের আকার খানিকটা গোলাকার তাদের সাধারণত লম্বাটে ফ্রেমের রোদচশমাতেই দারুণ মানিয়ে যায়। সেই সাথে আয়তাকার বা কোনা উঁচু ফ্রেমও কমবেশি ভালো লাগে। অন্যদিকে যাদের মুখের আকৃতি আয়তাকার অর্থাৎ মুখের নীচের অংশ কৌণিক ও চোয়াল শক্ত তাদেরকে ওভাল ফ্রেমের রোদ-চশমাতেই বেশি মানাবে ।

আবার গালের হাড় উঁচু, কপাল চওড়া, চোয়াল অপেক্ষাকৃত চাপা হলো গোলাকৃতির রোদ-চশমায় ভালো দেখাবে। আর যাদের মুখের গড়নটাই খানিকটা ওভাল শেপ তারা একটু দেখে শুনে যে কোনো ধরনের ফ্রেমের রোদ-চশমাই পড়তে পারেন।

রোদ চশমা নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনাকে যা যা মনে রাখতে হবে—

   রং এবং আকৃতি।

    আকার।

    বড় চেহারার জন্য বড় গ্লাস মানানসই।

    যাদের চেহারা ছোট তারা চিকন আকৃতি বেছে নিন।

    যাদের ত্বক গাঢ় তারা কালো, কফি, বাদামি রঙের গ্লাস ব্যবহার করতে পারেন।

    যাদের গায়ের রঙ উজ্জ্বল তারা বেগুনি, সাদা, গোলাপি, লাল রংয়ের গ্লাস ব্যবহার করতে পারেন।

    চুলের স্টাইলের ওপর গ্লাস ব্যবহার করুন।

    মেয়েরা রোদ চশমার সাথে কপালে ফোঁটা লাগাতে পারেন।

    ঘরে প্রবেশের আগে অবশ্যই খুলে রাখুন।

    ভালো ব্র্যান্ডের সানগ্লাস ব্যবহার করুন।

কোথায় পাবেন: ঢাকার নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, বসুন্ধরা শপিং মল, গুলশান, উত্তরা ও বনানী এবং অন্য শপিং মলগুলোতেও আপনি পেতে পারেন আপনার মনের মতো রোদ চশমা।

দরদাম : ভালো ব্র্যান্ডের গ্লাসের দাম একটু বেশি। গ্লাসের দাম সাধারণত ব্র্যান্ড ও ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে। বর্তমানে ভালো ব্র্যান্ডের কপি করা সানগ্লাস পাওয়া যায় যার দাম খুব কম। ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩৫০০ টাকার মধ্যে পাবেন ওইসব বাজারে।

আরকে/ডব্লিউএন

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি