ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ৩:১০:১৫

স্বচ্ছ পানির নিচে রহস্যময় গুহা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১২:০৭ পিএম, ৩ অক্টোবর ২০১৭ মঙ্গলবার | আপডেট: ১০:৪৮ পিএম, ৬ অক্টোবর ২০১৭ শুক্রবার

আজকের যুগেও পৃথিবীর অনেক প্রান্তে মানুষের পা পড়েনি, এমনটা বিশ্বাস করাটা কঠিন৷ তবে জার্মানির একটি আশ্চর্যজনক জলাধারকে ঘিরে এমনই এক রহস্যময় জগত রয়েছে৷ গবেষকরা ধীরে ধীরে সেখানে অনুসন্ধান শুরু করেছেন৷

জলাধারটির নাম ব্লাউটফ। জার্মানির অন্যতম রহস্যময় জলাধারগুলির একটি এটি৷ সেখানে নতুন করে বহু কিছু আবিষ্কার করার আছে৷ উপর থেকে দেখা  না গেলে ও স্বচ্ছ নীলাভ পানির গভীরে এক লুকানো জগত রয়েছে৷ অসংখ্য গুহা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত আছে এখানে ৷ এই গুহার  সব অংশে এখনো মানুষ প্রবেশ করেনি৷

জার্মানির সেরা ডুবুরি গবেষকদের অনেকেই সেই রহস্য সমাধান করতে সচেষ্ট ৷ এমনিতে তাঁরা বিভিন্ন পেশায়  কাজ করেন৷ কিন্তু সময় পেলেই তাঁরা এই গুহারাজ্যের রহস্য উন্মোচনে ডুব দেন৷ তাঁদের একজন  গুহা গবেষক ইয়খেন মালমান । তিনি  বলেন, যেখানে কেউ কখনো যায়নি, সেখানে যাওয়ার রোমাঞ্চই আলাদা ৷ সেখানে বহু জায়গা এখনও আবিষ্কারই হয়নি ৷ ফলে রোমাঞ্চ তো থাকবেই৷

পানির নীচে গুহায় ডুবুরি হিসেবে বিচরণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ৷ সরু পথে বারবার ওঠানামা করলে চাপ সামলানো মুশকিল হয়ে পড়ে৷ বেশ কয়েকজন ডুবুরি ব্লাউটফে মারাও গেছেন ৷

ব্লাউটফের  গোটা এলাকার আয়তন ১৬০ কিলোমিটারের বেশি ৷  বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে ব্লাউটফে জমা হয়৷ চারপাশে সবুজ শ্যামল গাছ-লতাগুল্ম থাকায় স্বচ্চ পানির বুকে এক অসাধারণ প্রতিবিম্ব লক্ষ্য করা যায়। গবেষকরা প্রথম প্রথম সেখানে গিয়ে অভিভূত হন রহস্যময় জলাধারের সৌন্দর্য্যে। গবেষকরা এই গুহা ও পানির পথ সম্পর্কে আরও জানতে চান ৷

ডাইভার প্রোপালশন ভেহিকেলে চেপে পানির নীচে ২০ মিটার গভীরে যাওয়া যায়৷ সেখানে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ গুহার প্রবেশপথ ৷ উল্টো দিকের স্রোত সেখানে বেশ শক্তিশালী৷ তার চাপে ডুবুরিদের দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে৷ প্রবেশপথের অন্যদিকে অন্ধকার৷

বিশাল খোলা জায়গাটির নাম ম্যোরিকে ক্যাথিড্রাল৷ মাটির ৪০ মিটার নীচে এই জায়গাটি বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন। ডুবুরিদের কিছু হলে বাইরে থেকে সাহায্য পাওয়ার কোনো আশা নেই৷ কিন্তু কৌতুহলের বশে তাঁরা এগিয়ে চলেন৷ তাঁরা নতুন পথ ও অন্যান্য গুহার সঙ্গে সংযোগ খুঁজে পেতে চান৷ কয়েক বছর আগে গবেষকরা প্রথমবার এই গোপন পথের অস্তিত্ব জানতে পারেন৷

পাথরের কারুকর্যভরা জাদুময় এক জগতের মধ্য দিয়ে হেঁটে চলার রোমাঞ্চই আলাদা ৷ আন্দ্রেয়াস ক্যুশা বলেন, মনে সব সময়ে উত্তেজনা কাজ করে৷ বিশাল এই প্যাসেজের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে প্রথমে কোনো উপলব্ধি না হলে ও আবিষ্কারের দু-একদিন পর মনে সেই বোধ আসে৷ কারণ, এখানে যে এমন অপরূপ সুন্দর কিছু থাকতে পারে, কেউ তা ভাবেনি৷

অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় এই মানুষগুলি এই পাতাল জগতের সামগ্রিক পরিমাপ করতে চান ৷ তার জন্য জমির উপর থেকে প্রবেশের একটা পথের প্রয়োজন রয়েছে, যাতে সব সরঞ্জাম পৌঁছানো যায়৷ বিশেষ ড্রিলিং যন্ত্রের সাহায্যে মাটিতে প্রায় ২০ মিটার গভীর এক গর্ত খোঁড়া হয়েছে৷ ‘স্টেয়ারওয়ে টু হেভেন’ নামের এক সদ্য-আবিষ্কৃত গুহায় বেরিয়ে আসতে চান তাঁরা৷ এখন শুধু সফল হবার অপেক্ষা।

সূত্র : ডয়েচে ভেলে।

//এন//এআর


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি