ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ৯:৫০:৫৩

স্বজনদের কাছে রূপার লাশ হস্তান্তর, দাফন হবে পারিবারিক কবরস্থানে

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৭:৫০ পিএম, ৩১ আগস্ট ২০১৭ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৪:১৩ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শুক্রবার

চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার জাকিয়া সুলতানা রূপার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।  ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে দাফনের চার দিন পর বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) বিকালে টাঙ্গাইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম গোলাম কিবরিয়ার আদেশে রূপার লাশ কবর থেকে তুলে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।   

আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে লাশ বুঝে নিয়ে ভাই হাফিজুল ইসলাম প্রামাণিক বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় রওনা হন।

টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মী রূপা খাতুন।

মধুপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রহিম সুজনের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিকালে লাশটি উত্তোলন করা হয়। পরে তার ভাই হাফিজুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

হাফিজুর রহমান বলেন, মরদেহ নিয়ে বিকাল ৪টার দিকে তারা বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হন এবং সন্ধ্যা ৬টার দিকে লাশ নিয়ে তারা বাড়ি পৌঁছেন। রাতেই পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে রূপাকে দাফন করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে রূপার লাশ বাড়ি পৌঁছলে বিক্ষোভ করেন এলাকার শত শত নারী পুরুষ। তারা দ্রুত বিচার আইনে দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।

গত ২৫ আগস্ট শুক্রবার রাতে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে চলন্ত বাসে রূপাকে ধর্ষণের পর ঘাড় মটকে হত্যা করেন পরিবহনশ্রমিকেরা। পরে তাঁর লাশ টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে যান। পুলিশ ওই রাতেই রূপার লাশ উদ্ধার করে। পরের দিন শনিবার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রূপার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ওই দিনই টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে তাঁকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনার পর গত সোমবার রূপার বড় ভাই মধুপুর থানায় গিয়ে সেখানে সংরক্ষিত রূপার ছবি ও কাপড় দেখে লাশ শনাক্ত করেন।

রূপার লাশ টাঙ্গাইল থেকে তাঁদের বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় নিয়ে যাওয়ার জন্য রূপার ভাই হাফিজুল মধুপুর থানায় গতকাল বুধবার আবেদন করেন। পুলিশ আবেদনটি টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে পাঠিয়ে দেয়। জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম গোলাম কিবরিয়া আজ বৃহস্পতিবার রূপার লাশ তুলে পরিবারের কাছে হস্তান্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আদেশ দেন।

এ ঘটনায় ছোঁয়া পরিবহনের বাসটির চালক, সুপারভাইজার ও তিন সহকারীসহ মোট পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তারা সবাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঢাকার আইডিয়াল ল কলেজে পড়ালেখা করার পাশাপাশি একটি কোম্পানির প্রোমশনাল ডিভিশনে কাজ করছিলেন রূপা। তার কর্মস্থল ছিল ময়মনসিংহ জেলা সদরে।

বগুড়ায় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর ময়মনসিংহে ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন ওই তরুণী।

ডব্লিউএন


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি