ঢাকা, বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ৭:৩১:১১

হাজার বছরের বাংলা গানের জমজমাট আসর

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:৪২ পিএম, ২৯ জুলাই ২০১৭ শনিবার | আপডেট: ০৬:১৭ পিএম, ৩০ জুলাই ২০১৭ রবিবার

বাংলা ভাষার প্রথম সাহিত্যকর্ম চর্যাপদের রচনাগুলো ছিল আদতে গান। এরপর কীর্তন, শ্যামাসঙ্গীত, খেয়াল, ভজনসহ নানা যুগে নানা রূপ নিয়েছে বাংলা গান। হাজার বছরের বাংলা গানের বিবর্তন ধারা নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় বসেছিল একটি জমজমাট আসর।


বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও সরকারি সঙ্গীত কলেজের যৌথ আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে ছিল ‘হাজার বছরের বাংলা গান’ শীর্ষক আয়োজন। ৩ ঘন্টাব্যাপী এ অনুষ্ঠানে মিলনায়তন মুখর ছিল শ্রোতাদের হাত তালিতে।


আয়োজনের শুরুতেই ছিলো সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্ব। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিসচিব ইব্রাহীম হোসেন খান। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সরকারি সঙ্গীত কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কৃষ্টি হেফাজ।


আলোচনা পর্ব শেষে সঙ্গীত পরিবেশনার শুরুতেই ছিলো চর্যাগান ‘আ হাইয়া হা হা শ্রী মহা মঞ্জুশ্রী’। এ গানের সঙ্গে ছিলো শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যদলের পরিবেশনায় নৃত্য।


এর পর পরিবেশিত হয় আরেকটি চর্যাগান ‘উচা উচা পর্বত’। ছিলো নাথগীতির পরিবেশনা । এ গানের সুর থামতেই রাগ সঙ্গীতের আলাপ, সঙ্গে নৃত্য। শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন থেকে গীত হয় ‘নৌকা বিলাস খÐ’। ছিল বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের পুঁথি ও কাব্য সাহিত্যের পরিবেশনা।


শুররুতেই মহাকবি আলাওলের ‘পদ্মাবতী’র সিংহল দ্বীপ বর্ণন খন্ডের পুঁথিপাঠ। এর পর ছিলো বৈষ্ণব পদাবলী ও কীর্তন। ছিল মঙ্গলকাব্য থেকে মঙ্গলগান। ‘মনসামঙ্গল’ থেকে সাপের দেবী মনসার বন্দনা উচ্চারিত হয় ‘বন্দি গো মনসাদেবী’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিয়ে। আরও রামপ্রসাদী গান ‘মন রে কৃষি কাজ জানো না’।

ময়মনসিংহ গীতিকার গান আর কবিয়ালদের লড়াই  এর পর পরিবেশিত হয় নিধুবাবুর বাংলা টপ্পা ‘সে কেনরে করে অপ্রণয়’। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্রহ্মসঙ্গীত থেকে দেহ জ্ঞান ও দিব্য জ্ঞানের পরিবেশনর পর পরিবেশিত হয় দুটি নাট্যগীতি ‘চাঁদ তুমি আকাশে থাকো’ ও ‘কালো যদি মন্দ তবে’। সিলেট অঞ্চলের ধামাইল নামে পরিচিত বিয়ের গান ‘তোমরা কুঞ্জ সাজাওগো’ গানের সঙ্গে ছিলো নৃত্য।


এর পর ছিল রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল ইসলাম, রজনীকান্ত, অতুলপ্রসাদ ও দ্বিজেন্দ্রলাল- অর্থাৎ পঞ্চকবির গান। সম্মেলক কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের ‘ও আমার দেশের মাটি’, কাজী নজরুলের ‘দুর্গমগিরি কান্তার মরু, রজনীকান্তের ‘মায়ের দেয়া মোটা কাপড়’, দ্বিজেন্দ্রলালের ‘ধন ধান্য পুস্প ভরা’ এবং অতুল প্রসাদের ‘মোদের গরব মোদের আশা’ গানগুলো পরিবেশিত হয়।

এর পর ছিল বাংলা কাওয়ালী ও কাসিদা ‘আকাশের তারাগুলি ঝিলিমিলি জ্বলছে’। এরপরের দুইটি গণসঙ্গীত। প্রথমেই বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে মুকুন্দ দাসের ‘ভয় কি মরণে’ ও তেভাগা আন্দোলন নিয়ে সলিল চৌধুরীর ‘হেই সামালো ধান হো’। এ দুটি গানের সাথে ছিলো নৃত্য।

অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে ছিল আধুনিক বাংলা গানের পালা। একে একে গীত হয় সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের ‘আষাঢ় শ্রাবণ মানে না তো মন’, পিন্টু ভট্টাচার্যের ‘ভুল ভেঙ্গে গেলে কাছে আসবে’, হাসিনা মমতাজের ‘তন্দ্রাহারা নয়ন’, এর পর শচীন দেব বর্মণের ‘কে যাসরে ভাটির গাঙ বাইয়া’, মান্না দের ‘দ্বীপ ছিল শিখা ছিল’ ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ‘এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকে না তো মন’।

এর পর আলতাফ মাহমুদের ভাষার গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো’। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের দুই গান ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’ ও ‘বিজয় নিশান উড়ছে ওই’ গীত হয়।


এর পর শুররু হয় স্বাধীনতা পরবর্তী গান। শুরুতেই ছিল চলচ্চিত্রের গান। ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রের ‘আমি রূপনগরের রাজকন্যা’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ পর্ব।


এর পর একে এতে গীত হয় ‘পথে পথে দিলাম ছড়াইয়া’, ‘সাগর কুলের নাইয়া’, ‘চেনা চেনা লাগে’ এবং ‘ফুলের কানের ভ্রমর এসে’। ‘আলাল ও দুলাল’, ‘মন শুধু মন ছুঁয়েছে’, ‘ও নদীরে তুই যাস কোথারে’ ও ‘তুমি ঘর বানাইছো কি দিয়া’ ইত্যাদি ব্যান্ড ঘরানার গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় ‘হাজার বছরের বাংলা গান’ শীর্ষক আয়োজন।
 


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি