ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৯:০০:৫২

হ্যাকিং দিয়েই হ্যাকিং ঠেকানো সম্ভব

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:৫৭ পিএম, ৭ ডিসেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ১০:০১ পিএম, ৭ ডিসেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার

ভারতের প্রিস্টন ইনফো সলিউশনের প্রধান তথ্য প্রযুক্তি কর্মকর্তা রিজওয়ান শেখ বলেন, “হ্যাকিং দিয়েই হ্যাকিং ঠেকানো সম্ভব।“ তিনি আরও বলেন, “ইন্টারনেট বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে সুরক্ষিত করতে আগে জানতে হবে হ্যাকিং কী? আমরা হ্যাকিং হ্যাকিং বলে চিৎকার করি কিন্তু কতজন আসলে জানি হ্যাকিং কী?তরুণদের হ্যাকিং-এ সম্পৃক্ত করতে হবে। তারাই নিরাপদ রাখবে আমাদের সাইবার জগত”।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চলমান চার দিনব্যাপী “ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭” শীর্ষক তথ্য প্রযুক্তি মেলার ২য় দিনে “সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড এথিক্যাল হ্যাকিং” শীর্ষক এক সেমিনারে কী-নোট স্পিকার হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

ইওয়াই ল্যাবেরভাইস প্রেসিডেন্ট ফারহানা এ রহমানের সঞ্চালনায় অন্যতম এ তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক আয়োজনে জিজওয়ান শেখ আরও বলেন, “প্রতি ৭৫ জন হ্যাকারের মধ্যে মাত্র ১ জন এথিক্যাল হ্যাকিং করে থাকেন। এই যদি অবস্থা তাহলে সামনে দুর্দিন অপেক্ষা করছে। আমাদের নিজেদের নিরাপদ রাখতেই আমাদের এথিক্যাল হ্যাকিং করতে হবে”। দেশ ও দশের সার্থে কাজ করার এ সুযোগ না হারাতে তরুণ হ্যাকারদের প্রতি পরামর্শ দেন এই প্রযুক্তিবিদ।

এ সময় ইন্টারনেট ব্যবহারীদের নিজেদেরকে নিরাপদ রাখতে কমপক্ষে ১৬ সংখ্যার আলফা-নিউমেরিক পাসওয়ার্ড দিতে এবং প্রতি মাসে অন্তত একবার তা পরিবর্তন করতে পরামর্শ দেন এই তথ্য প্রযুক্তিবিদ।

সেমিনারে আরও অংশ বক্তব্য দেন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি বিষয়ের শিক্ষক কে এম সালাউদ্দিন, ঢাকা ব্যাংকের সিইও এ এম এম মঈনুদ্দিন, ম্যাশ টেকনোলজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহজালাল সোহানি। তাদের বক্তব্যে তারা জানান, নিরাপত্তা ইস্যুতে একঝাঁক তরুণ হ্যাকার যখন আইনি উপায়ে হ্যাকিংঠেকাতে কাজ করছে, তখন তথ্যপ্রযুক্তি আইনের নানা ধারার মারপ্যাঁচে সরকার তাদের জেলে ঢুকাচ্ছে ।

কেউহ্যাকিং করা শুরু করেছে শুনলেই, সরকার তাদের জেলে ঢোকায়।”

শিক্ষক কে এম সালাউদ্দিন তাদের কথায় সায় দিয়ে বলেন, “তরুণরা যখন হ্যাকিং নিয়ে কাজ করা শুরু করছে, তখন সরকারকে এই তরুণদের পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসতে হবে। সফটওয়্যারটেকনোলজি পার্ক, হাইটেক পার্ক সহ তথ্যপ্রযুক্তির নানা প্রকল্পে কিন্তু সরকার এই তরুণদের নিয়োগদিতে পারে। একইসঙ্গে অনার্স, মাস্টার্স পর্যায়ে হ্যাকিং শেখাতে হবে তরুণদের। তরুণদের উচিৎ,ইথিকাল ওয়েতে হ্যাকিং করা। অন্যের ক্ষতি নয়, দেশের কল্যাণেই তাদের মনোনিবেশ করা উচিৎ।”

বক্তারা তখন সাইবার ক্রাইম ইউনিট কীভাবে আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করে হ্যাকারদের সনাক্ত করে,কিভাবে তাদের শাস্তি দেয়, শাস্তির বিধানগুলো কি, এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।

সভায় উঠে আসে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনা সুইফট অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার ঘটনা নিয়েও আলোকপাত করেন বক্তারা।

ঢাকা ব্যাংকের সিইও এ এম এম মঈনুদ্দীন জানান গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিৎকরতে গেলেও ‘টাইম শিডিউলিং’ ইস্যুতে তারা সমস্যায় পড়ছেন।

“এখন যদি আরো বেশি সিকিউরড করতে যাই, তবে টাইম শিডিউল আরো বাড়বে। সেক্ষেত্রে গ্রাহকরা বিরক্ত হয়ে আমাদের ব্যাংকিং সেবা নিতে চাইবে না। দুটি বিষয় মাথায় রেখে, আমরা আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজাচ্ছি। আমরা মনে করি, বাইরের হ্যাকাররা যত না করছে, ভেতরের হ্যাকাররা কিন্তু করছে। ব্যাংকের নিজস্ব কর্মকর্তাদের অনেকে এই হ্যাকিং ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত থাকারঅভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।”

 

 //এস এইচএস//এসএইচ

 

 

 


 
 

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি