ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জুলাই, ২০১৮ ৩:২৪:৩৪

Ekushey Television Ltd.

প্রশ্নফাঁস ঠেকনোর নতুন কৌশল

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৬:৩৪ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ রবিবার

প্রশ্নফাঁস কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। তাই অবলম্বন করা হচ্ছে নতুন নতুন পদ্ধতির। এবার প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে পরীক্ষা কেন্দ্রে দুই সেট প্রশ্নই পাঠানো হচ্ছে। যুগ যুগ যাবত পরীক্ষা শুরুর বেশ কয়েকদিন আগে থানার ট্রেজারিতে দুই সেট ও পরীক্ষা কেন্দ্রে একসেট প্রশ্ন পাঠানো হতো। কিন্তু অব্যাহত প্রশ্নফাঁস ঠেকানোর নতুন কৌশল হিসেবে রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে দুই সেট প্রশ্নই পাঠানো হয়।

আন্ত:শিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটি শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এ সিদ্ধান্ত নেয়। রাতেই এ সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের এসএমএস ও ইমেইলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। একাধিক শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম ছায়েফ উল্যাহ জানান, আগে পরীক্ষা শুরুর কয়েকদিন পূর্বে থানা অথবা ব্যাংকের ট্রেজারিতে দুই সেট প্রশ্ন পাঠানো হতো। পরীক্ষার দিন সকাল সোয়া সাতটার দিকে ডিসি/এডিসি ও ইউএনওদের বোর্ড কর্তৃক পাঠানো এসএমএসের মাধ্যমে সেট জানিয়ে দেয়া হতো। সেই অনুযায়ী ট্রেজারি থেকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কেন্দ্রসচিবদের একসেট প্রশ্ন বুঝিয়ে দেয়া হতো। কিন্তু প্রশ্নফাঁস ঠেকানোর কৌশল হিসেবে রোববার থেকে দুইসেট প্রশ্নই কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সকাল নয়টার পর ডিসি/এডিসি/ইউএনওদের এসএমএস’র মাধ্যমে সেট জানিয়ে দেওয়া হয়।

চলমান পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে পরীক্ষার্থীদের হাতে যাওয়া পর্যন্ত অন্তত ৬/৭টি ধাপ রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত দুটি ধাপে মোটামুটি সহজে প্রশ্নফাঁস করার সুযোগ রয়েছে। ট্রেজারি থেকে কেন্দ্রে যাওয়ার মধ্যে এবং প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলার পরপরই মোবাইলে ছবি তুলে তা ফেসবুক/ভাইবার/ইমোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে চক্রের হাতে পৌঁছানো হয়। এছাড়াও হঠাৎ গজিয়ে ওঠা কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেশি বেশি জিপিএ ফাইভ পাওয়ানোর আশায় এমসিকিউ অংশের সমাধান তৈরি করে পরীক্ষার হলে সরবরাহ করার অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। ঢাকার কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রায় একযুগ আগে এহেন হীন পদ্ধতি অবলম্বন করে আসছে।

চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন থেকেই প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। টানা ১০ দিনের ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ফাঁস হয়েছে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় প্রশ্নপত্র। পরীক্ষার শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা আগে ইন্টারনেটে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। পরবর্তীতে পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সাংবাদিকদের বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে আমরা নতুন কোনো পথ খোঁজার চেষ্টায় আছি। মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগীয় দুটি কমিটি গঠন করেন।

এসি/



© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি