ঢাকা, সোমবার, ১৬ জুলাই, ২০১৮ ১৪:১৪:৪৪

Ekushey Television Ltd.

অর্জুন গাছের যত গুন

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৭:৫৮ পিএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার

(ফাইল ফটো)

(ফাইল ফটো)

অর্জুন গাছের অনেক গুন রয়েছে। স্বাভাবিকভাবে আমরা অনেকেই এই গাছের গুনাবলি জানি না। এই গাছের গুনাবলি তুলে ধরেছেন ড. তপন কুমার দে তার ‘বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় গাছ-গাছড়ার’ বইয়ে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনের পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো-

১, হৃদরোগ উপশমে অর্জুন ছাল ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে বাজারে এক অনেক ওষুধ পাওয়া যায়। অর্জুন ছাল ভালভাবে পেষণ করে চিনি ও গরুর দুধের সঙ্গে প্রত্যহ সকালে খেলে হৃদরোগ এবং বুক ধড়ফড় কমে যায়।

২, রক্তে নিম্ন চাপ থাকরে অর্জুনের ছালের রস সেবনে উপকার হয়।

৩, রক্তক্ষরণে ৫-৬গ্রাম ছাল রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে ছেকে পানি খেলে আরোগ্য হয়।

৪, শ্বেত বা রক্ত প্রদরে ছাল ভিজানো পানি আধ চামট কাঁচা হলুদের রস মিশিয়ে খেলে রোগের উপশন হয়।

৫, ক্ষয়কাশে অর্জুনের ছালের ‍গুড়াবাসক পাতার রসে ভিজিয়ে ঘি মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৬, এছারা হাঁপানিতে অর্জুন ফল টুকরো করে তামাকের মত ধোঁয়া টানলে উপকার হয়।

৭, হার্নিয়াতে অর্জুন ফল কোমরে বেঁধে রাখলে উপকার পাওয়া যায়। কাঁচা পাতার রস সেবনে আমাশয় রোগ ভাল হয়।

৮, হৃদপিন্ডের দুর্বলতা ও সাধারণ দুর্বলতায় ৩-৪ গ্রাম অর্জুন ছাল চূর্ণ প্রত্যহ দুবার এক গ্লাস পরিমাণ দুধসহ সেব্য । এক মাস নিয়মিত সেবন করে যাওয়া আবশ্যক।

৯, কাচাঁ অর্জুনের ছাল ৫ গ্রাম পরিমাণ নিয়ে ভালোভাবে পিষে ঠাণ্ডা পানিসহ দিনে দুবার খেলে রক্ত আমাশয়ে বিশেষ উপকারী

৯, ২০ গ্রাম পরিমান আধাচূর্ণ অর্জুন ছাল নিয়ে দুই কেজি পরিমাণ পানিতে ভিজিয়ে রেখে ,পরবর্তীতে জ্বাল করে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে সেব্য। উল্লিখিত নিয়মে দিনে ২-৩ বার সেবন করে যাওয়া আবশ্যক।

১০, বিচূর্ণ ফল রক্তচাপ কমায়, মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে এবং লিভার সিরোসিস টনিক হিসাবে কাজ করে।

১১, বিচূর্ণ ফল রক্তচাপ কমায় মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে এবং লিভার সিরোসিস টনিক হিসেবে কাজ করে।

১১, এই ছাল মুখ, জিহ্বা ও মাড়ির প্রদাহের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, এটি মাড়ির রক্তপাত বন্ধ করে।

১২, এটি সংকোচন ও জ্বর রোধক হিসেবেও কাজ করে।

১৩, এছাড়া চর্ম ও যৌন রোগে অর্জুন ব্যবহুত হয়। যৌন উদ্দীপনা বাড়াতে ও অর্জুনের ছালের রস সাহায্য করে।

১৪, অর্জুন খাদ্য হজম ক্ষমতা বাড়ায়। খাদ্যতন্ত্রের ক্রিয়া স্বাভাবিক স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

 

অর্জুন গাছের পরিচিতি বংশবিস্তার চাষাবাদ ব্যবহার-

অর্জুন একটি পত্রঝরা মাঝারি ধরনের বৃক্ষ। পরিণত বয়সে একটি গাছ ১০-১৫ মিটার লম্বা হয়ে থাকে। গোড়ায় অধিমূল আছে। গাছের কাণ্ড একধিক ভাঁজ বা স্তর যুক্ত। বাকল পাতলা স্তরে বিভক্ত। পাতা লম্বাটে ৭.৫ – মে সে. মি. ফুল হলুদাভ ও স্পাইক সোজা এবং ফুলের পাপড়ি নাই। ফল লম্বাটে ৫টি ভাজ ও পাখায় বিভক্ত।

বিস্তৃতি- ভারত, পাকিস্তান,শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ অর্জুনের আদি নিবাস। বাংলাদেশের সর্বত্রই পাওয়া যায়। বন কম দেখা যায়। বিশেস করে নিচু ও স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় অর্জুন ভাল জন্মে।

বীজ সংগ্রহ করার সময়- ফেব্রুয়ারি- মার্চ।

বীজের ওজন: প্রতি কেজিতে ৩০০ থেকে ৫০০টি বীজ থাকে।

ব্যবহার্য: প্রধানত- ছাল,তবে ক্ষেত্রবিশেষে পাতা ও ফল।

বীজ সংগ্রহ চারা উত্তোলন রোপন: স্যাঁতস্যাঁতে ও ঊর্বর দোআঁশ মাটি এ গাছ চাষের জন্য উপযুক্ত। গাছে বৈশাখ–আষাঢ় মাসে ফুল ফুটে এবং পৌষ –ফাল্গুন মাসে ফল পাকে। তখন বীজ সংগ্রহ করে পালি ব্যাগে চারা উত্তোলন করা হয়। পরিপক্ক ফল থেকে বীজ সংগ্রহের পর তা ভালভাবে রৌদ্রে শুকিয়ে ৬-১২মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। অর্জুনের বীজ থেকে চারা উৎপাদন করা যায়।  সাধারণত মার্চ-এপ্রিল মাসে পরিপক্ক ফল হতে বীজ সংগ্রহ করা হয়। বীজ বপনের পূর্বে ৪৮ ঘণ্টা ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরবর্তীতে বীজতলায় বীজ বপন করা হয়। বীজতলার মাটি ও গোবরের অনুপাত হবে ৩ : ১ । তাছারা পলিব্যাগে একটি মিশ্রন পূঁতে চারা উৎপাদন করা যায়। নয় মাস বয়সের অঙ্কুরিত চারা বীজতলা বা নার্সারী থেকে সংগ্রহ করে রোপন করা হয়।

উপযোগী আবহাওয়া মাটি- বাংলাদেশের অধিকাংশ অঞ্চলে অর্জুন গাছ কম-বেশি দেখা যায়। বিশেষত রাস্তার দুপাশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেটের বনাঞ্চলে প্রচুর জন্মে থাকে।  আর্দ ও নাতিশীতোষ্ঞ আবহাওয়া অর্জন গাছের জন্য উপযোগী। সাধারনত দো-আঁশ  মাটিতে এ গাছটি ভালো হয়ে থাকে। বর্ষার শুরুতেই নির্দিষ্ট স্থানে রোপন করতে হয়।

ছালসংগ্রহ সংরক্ষন পদ্ধতি- পরিপক্ক গাছ থেকে ছাল উঠিয়ে ( সংগ্রহ করে ) ছোট ছোট টুকরো করে নিতে হয়। অতঃপর ৪-৫দিন রৌদ্রে শুকিয়ে চটের বস্তায় ভরে শুষ্ক স্থানে রেখে দিলে এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায় এবং কার্যকারিতা অটুট থাকে। তাছাড়া বীজ পুরোপুরিভাবে পরিপক্ক গাছ থেকে সংগ্রহ করতে হয়। অতঃপর সংগৃহীত বীজ ভালোভাবে রৌদ্রে শুকিয়ে বায়ুরোধী পাত্রে রেখে এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।

সাধারণ ব্যবহার: কাঠ খুবই শক্ত। কাঠ গৃহনির্মাণ,গরুর গাড়ির চাকা, কৃষি উপকরণ,জলযান, নৌকা,দাড়,মাস্তুল,খনি ও নলকূপ খননে ব্যবহৃত হয়। বাকল থেকে আহরিত ট্যানিন চামড়াতে ব্যবহৃত হয়।  বাকল থেকে হৃদরোগের ওষুধ , পাতার রস আমাশয় রোগের ওষুধ এবং পাতা তসর রেশম পোকার খাদ্য।

 

এসএইচ/



© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি